আগামী ২০১২ সালের ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হলেন ভ্লাদিমীর পুতিন। আজ রোববার মস্কোতে একক রাশিয়া পার্টির ২য় প্রাকনির্বাচনী সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সম্মেলন পুরো রাশিয়া থেকে ১১ হাজার প্রতিনিধি অংশ নেয়।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আগামী ৪ ডিসেম্বেরে লোকসভা নির্বাচনে একক রাশিয়া দলের হয়ে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের তালিকার নেতৃত্ব দিতে সম্মতি জানিয়েছেন।সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধি ও অতিথিদের উদ্দেশ্যে মেদভেদেভ বলেন,প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে পুতিনের অংশ নেওয়া যা থেকে পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছে যে,দেশের জনগন দৈনন্দিন ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন এবং পুতিনকে নেতৃত্ব প্রদানে তাঁরা তৈরি আছেন।মেদভেদেভ আরও বলেন,’আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল স্বল্পকালিন সময়ের জন্য নির্ধারিত নয় বরং রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।আমরা পরিষ্কারভাবেই আমাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা করছি।দেশর জনগন আমাদের দলের পক্ষেই ভোট দিবে।কোন রাজনৈতিক নেতা সবচেয়ে বেশি বিশ্বাষযোগ্য তা শুধুমাত্র ভোটারাই নির্বাচন করবেন। জনগনের সমর্থন পেতে তাদের দৃষ্টিআকর্ষন করার  অধিকার রয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের'।

সমসাময়িক রাশিয়া ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন।বস্তুত এটি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বলে উল্লেখ করে মেদভেদেভ বলেন,'বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব সত্যিকার অর্থেই ভয়াবহ।আমাদের দেশ নিশ্চয়তার সাথে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছে।আমি আপনাদেরকে বলতে পারি যে,এই বিষয়টি আমি অনুভব করি যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে সাক্ষতে মিলিত হই।আমরা মন্দার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি।সন্দেহ করছি না,যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ২য় ধাক্কাও কাটিয়ে উঠব।আমরা কর্মক্ষেত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি এবং মন্দার পূর্বে বেকারত্ব যে পর্যায়ে ছিল সেই স্থানে ফিরিয়ে এনেছি।১৯৮৯ সালের পর আমাদের মূদ্রাস্ফীতির হার এই বছরই সবচেয়ে কম হয়েছে’।

নিজের দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বলেছেন,আগামী নিকট ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের জন্য একক চক্র অপেক্ষা করছে।পুতিন বলেন,’রাশিয়ার পূনর্গঠনের গূরুত্বপূ্র্ণ দীর্ঘ একটা সময় আমরা অতিক্রম করেছি।দেশের উন্নয়নের কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মূল ভিত্তি তৈরী হয়েছে।আমাদের কাজ হচ্ছে,এই ভিত্তিকে ভর করে একটি শক্তিশালী,ধনী ও নিরাপদ রাশিয়া গড়ে তোলা।যা হবে একুশ শতকের রাশিয়া’।

ভ্লাদিমীর পুতিন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ও নিজের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সব সহযোগি রাষ্ট্রকে একসাথে সংগ্রামের আহবান জানান।তিনি বলেন,’আমাদের সহযোগি ও বন্ধুপ্রতিম দেশের সাথে আলোচনার জন্য আমরা তৈরী আছি।আমরা চাই না যে কেউ আমাদেরকে কোন মডেল অনুসরনের জন্য বাধ্য করে এবং আমাদের কার্যক্রমের ভিত্তিতে আবার কোন বিষয় নির্বাচন করে।আমাদের সব বিদেশি সহযোগি রাষ্ট্রের অবশ্যই বুঝতে হবে,রাশিয়া হল একটি বিশ্বস্থ,পূর্বধারনা করা যায় এমন সহযোগি একটি দেশ।রাশিয়ার সাথে ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব এমনকি তা দরকারও বটে’।

ইউরোশিয়া ইউনিয়ন সম্পর্কেও কথা উঠেছে এবং পুতিনের ভাষায়,এটি নাগরিকের চাহিদার সাথে জড়িত।যদি ভবিষ্যত কাজের সম্পর্কে বলা হয় তাহলে বিশেষ অর্থে যে কথাটি পরিষ্কার তা হচ্ছে,বর্তমান পর্যায়ে রাশিয়ার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা।