সিরিয়া আরব দেশ গুলির লীগের পর্যবেক্ষক দলকে দেশে আসতে অনুমতি দিয়েছে, যাদের মধ্যে থাকছে মানবাধিকার রক্ষা পরিষদের কর্মী প্রতিনিধিরা, সামরিক বাহিনীর লোকেরা আর সাংবাদিকেরা. এই প্রসঙ্গে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে আরব লীগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আগের মতোই দেওয়া হচ্ছে. আর যদি কোন রকম কারণে এই পর্যবেক্ষক দলের সিরিয়াতে প্রবেশ আটকে যায়, তবে আরব লীগের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়বে সিরিয়ার পাঁচটি প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষেত্র.

    বাশার আসাদকে এর মধ্যেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যদি পর্যবেক্ষকেরা সিরিয়ার মধ্যে আসতে না পারে, তবে আরব লীগ খুবই কড়া নিষেধাজ্ঞা নেবে. অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে দামাস্কাসের ব্যাঙ্কের জমা আটক, সম্মিলিত প্রকল্প গুলি বন্ধ ও আর এলাকায় স্বাধীন বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া. এছাড়া লীগের দেশ গুলি সিরিয়ার সমস্ত অসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে ও এই দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে. প্রসঙ্গতঃ, এই বিষয়ে কতটা সাফল্য পাওয়া যাবে, তা যথেষ্ট সন্দেহের বিষয় বলে মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

    "কোন নিষেধাজ্ঞাই কখনও সর্বজনীন ও শেষ কথা হয় না. ইরানের উদাহরণ দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের বাধা স্বত্ত্বেও শেষ অবধি চালিয়ে নেওয়া যায়. শুধু আরব দেশ গুলির মধ্যেই জীবন ফুরিয়ে যায় না. আমি বরং আমেরিকার সংরক্ষণশীল বিশ্লেষক জর্জ ফ্রিডম্যানের সঙ্গে একমত হতে পারি যে, সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল, যার ফলে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে কোন রকমের চরম ব্যবস্থা নেওয়া যায় না".

    যাই হোক না কেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছে দামাস্কাস, যে আরব লীগের পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেবে. আর তা নেওয়া হয়েছে, একেবারে শেষ মুহূর্তে. সব মিলিয়ে এখানে সিদ্ধান্তের কারণ হয়েছে প্রতিবেশী দেশ গুলির পক্ষ থেকে চাপ, আর তারই সঙ্গে পশ্চিমের তরফ থেকেও চাপ. জার্মানীর পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান গিদো ওয়েস্টেরভেল্লে ঘোষণা করেছেন যে, আসাদের প্রশাসন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা হারিয়েছে, তার সঙ্গে যোগ করেছেন যে, পশ্চিমের প্রয়োজন আরও বেশী করে সিরিয়ার চরমপন্থী বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করা. তার থেকেও বেশী কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন তাঁর ফরাসী সহকর্মী অ্যালেন জ্যুপ্পে. তিনি বিরোধী পক্ষের লোকেদের নাম দিয়েছেন ফ্রান্সের আইন সঙ্গত সহকর্মী. এই প্রসঙ্গে দুই রাজনীতিবিদই সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন.

    মস্কো শহরে ন্যাটো জোটের প্রতিনিধি রবার্ট প্শেল একই সঙ্গে সমর্থন করে বলেছেন যে, জোট সিরিয়াতে সামরিক অপারেশনের সম্ভাবনা বিচার করে দেখছে না. আর তার সঙ্গে যোগ করেছেন যে, ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে লিবিয়ার অপারেশনকে কোন রকমের মডেল বলে দেখা হচ্ছে না ও ভবিষ্যতে একই ধরনের কাজ করার চেষ্টাও করা হচ্ছে না.

    এই সময়ে পারস্য উপসাগরে সিরিয়ার উপকূল অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বিমান বাহী পারমানবিক যুদ্ধ জাহাজ জর্জ বুশ ও তার সঙ্গে নৌবাহিনীর সহায়তা কারী জাহাজের দল. হিসাব পরিস্কার – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে শুধু অর্থনৈতিক ভাবেই নয়, বরং সামরিক – রাজনীতি দিয়ে দামাস্কাসের উপরে চাপ তৈরী করতে.

    সিরিয়াতে এই সময়ে চলছে বিরোধী পক্ষ ও সরকারি সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ, সিরিয়ার মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা জোর গলায় বলছে যে, গুলি বর্ষণ করা হয়েছে দেশের সামরিক বাহিনী ছেড়ে বিরোধী পক্ষে যোগ দেওয়া লোকেদের উপরে, আর তা ঘটেছে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি হোমস্ শহরের কাছে রাস্তান শহরে. এই খবরে বলা হয়েছে যে গতকালের লড়াইতে মারা গিয়েছে পঞ্চাশ জন লোক ও তা এই আট মাসের বিরোধের মধ্যে একটি সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যে নাকি সিরিয়াতে সাড়ে তিন হাজারের বেশী মানুষ নিহত হয়েছেন.