আমুর অঞ্চলে চতুর্থ উড়ান মঞ্চ "ভস্তোচনি" মহাকাশ বন্দরে "সইউজ" মহাকাশযান এবারে যাত্রা শুরু প্রস্তুতি নেবে. ২০১৫ সালে এখান থেকে প্রথম পাইলট বিহীণ যান উড়ান শুরু করবে আর ২০১৮ সালে মহাকাশচারী নিয়ে যাত্রার শুরু হবে. সামারা শহরের "কেন্দ্রীয় নির্মাণ ও প্রকল্প ব্যুরো – প্রোগ্রেস", যারা এই ধরনের রকেট উত্পাদন করে থাকে, তাদের কর্মীরা এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজে সক্রিয় ভাবে কাজ করছেন.

প্রথম "সইউজ" তৈরী করা হয়েছিল ১৯৬৬ সালে. তার একটি রূপ ছিল "ভস্তক" মহাকাশযান, যা ইউরি গাগারীনকে মহাকাশে নিয়ে গিয়েছিল.

"সইউজ" উড়ান শুরু করা হয়েছিল কাজাখস্থানের বৈকানুর মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে, সোভিয়েত দেশের সবচেয়ে পুরনো মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র. বর্তমানে রাশিয়া কাজাখস্থানের কাছ থেকে এই কেন্দ্র ভাড়া করে রেখেছে. রাশিয়ার আর্খাঙ্গেলস্ক এলাকার "প্লিসেত্স্ক" মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকেও রকেট উড়ান হয়েছে. আর এই বছরের হেমন্তে "সইউজ" ধরনের রকেট উড়ানের ভৌগলিক প্রসার দক্ষিণ গোলার্ধেও হয়েছে. ফরাসী অধিকৃত গায়ানার কুরু উড়ান মঞ্চ থেকে অক্টোবরে "সইউজ" মহাকাশ যান কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছে ইউরোপীয় দিক নির্দেশ ব্যবস্থা "গ্যালিলেওর" দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ.

রাশিয়ার মহাকাশ যানের ফরাসী গায়ানা থেকে উড়ানের সাফল্যকে বিশ্ব মানের বলে উল্লেখ করে "প্রোগ্রেস ব্যুরোর" জেনেরাল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার কিরিলিন গর্বের সঙ্গে বলেছেন:

"আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম অন্য দেশের এলাকায় মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে. নতুন উড়ান কেন্দ্র রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যবহার করা হবে আমাদের দেশের বিদেশের সহকর্মীদের জন্য প্রধান উড়ান কেন্দ্র হিসাবে. অবশ্যই এই কেন্দ্রের মালিকানা রয়েছে ইউরোপীয় পক্ষের কাছে আর তারাই আমাদের কাছে "সইউজ এস টি" ধরনের রকেট বায়না করে থাকে".

কুরু মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে "সইউজ" ধরনের রকেটের উড়ান মাঝারি ধরনের রকেট পরিবাহক প্রয়োজন সম্পূর্ণ করেছে. কুরু মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র এই কারণেই বেশী সুবিধার যে, সেখান থেকে বৈকানুরের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশী ওজনের উপগ্রহ নিক্ষেপ করা সম্ভব, কারণ এটা বিষুবরেখার কাছে. ফলে রকেট এখান থেকে বাড়তি গতিতে উড়ে যেতে পারে. তাত্ত্বিক ভাবে এখান থেকে মহাকাশচারী সমেত মহাকাশ যান পাঠানো যায়. এই কথা রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ জোর দিয়েই বলেছিলেন ২১শে অক্টোবর কুরু থেকে প্রথম "সইউজ এস টি" রকেট উড়ানের পরে, তিনি সেখানে ছিলেন, তাই উল্লেখ করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ এই ধরনের রকেট ব্যবহার করে মহাকাশচারী পাঠানোর কথাও ভাবতে পারে.

পাইলট চালিত মহাকাশ যানের কথা বলতে হলে উল্লেখ করা দরকার যে, ২০১৪ সালে তা সম্পূর্ণ ভাবেই সর্বাধুনিক "সইউজ ২" ধরনের মহাকাশ যান ব্যবহার করে করা হবে. "সইউজ এস টি" অবশ্যই "সইউজ ২" এর একটি রূপ, যা বিশেষ করে তৈরী করা হয়েছিল বিষুবরেখার কাছে কুরু থেকে মহাকাশ যান উড়ানের জন্যই.

"ভস্তোচনি" বন্দর যখন তৈরী হয়ে যাবে, তখন পরিবহনের জন্য রকেটের অনেক বেশী প্রয়োজন পড়বে – কারণ সেই গুলির জন্য একই সঙ্গে চারটি মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকেই বায়না থাকবে. "প্রোগ্রেস ব্যুরোর" প্রধান কিরিলিন অবশ্য সন্দেহ করেন না, যে তাঁরা এই চাহিদার যোগান দিতে অক্ষম হবেন, তিনি যোগ করে বলেছেন:

"আমরা "সইউজ দুই" তৈরী করা বর্তমানে একসাথে অনেকগুলি করার বন্দোবস্ত করছি আর বছরে যাতে কুড়ি- বাইশটি এই ধরনের রকেট তৈরী করতে পারা যায়, তার ব্যবস্থাই করছি. ফলে চারটে মহাকাশ উড়ান কেন্দ্রের চাহিদাই পূর্ণ করা সম্ভব হবে".

বর্তমানে হাল্কা ধরনের রকেটের চাহিদাও বাড়ছে. সেই গুলির উড়ানের খরচ কম ও সেই গুলি দিয়ে বর্তমানে বড় মহাকাশ যান পাঠিয়ে যে সমস্ত কাজ করা হচ্ছে, তার প্রায় সবটাই করা সম্ভব হয়. সামারা শহরে কারখানা এই চাহিদার যোগান হিসাবে নতুন ধরনের "সইউজ দুই – এক ভি" নামের এক মডেল তৈরী করেছে. এই বছরের শেষের আগেই এই ধরনের মডেলের পরীক্ষা শেষ হবে, আর প্রথম উড়ান করা হবে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে. কোন সন্দেহ নেই যে, এই ধরনের রকেটের সামনে ভবিষ্যত খুবই প্রসারিত. রকেট গুলি কতটা ভরসা যোগ্য তার প্রমাণ হয়েছে ১৭৭৯ বার উড়ানে, যার মধ্যে শর্তাধীন ভাবে অসফল বলা যেতে পারে ৭৭ টি উড়ান. এই ধরনের কার্য ক্ষমতা সম্পন্ন "সইউজ" মহাকাশ যান বিশ্বের অন্য যে কোনও রকেটের চেয়ে বেশী ভাল.