ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ করার মার্কিনী পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ. মেদভেদেভ ক্ষমতায় থাকাকালীন এই প্রথম রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার সম্প্রসারিত নক্সা প্রদর্শন করা হয়েছে.

    প্রথমতঃ প্রতিরক্ষামন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে অনতিবিলম্বে কালিনিনগ্রাদে রেডার ষ্টেশন স্থাপণ করার, যা রকেটের আক্রমণ সম্মন্ধে সতর্ক করে দিতে পারবে. ঐ ষ্টেশন ইতিমধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে, এখন সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে.

   দ্বিতীয়তঃ মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন, যে আকাশ-মহাকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণের আওতায় সবার আগে স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক সব কেন্দ্রকে ঢারবার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে. ইতিমধ্যি সম্ভাবনাময় সেরকম রুশী ব্যবস্থা নির্মাণ করা হচ্ছে.

    স্ট্র্যাটেজিক ব্যালেস্টিক রকেট, যা সামরিক নৌবাহিনীকে দেওয়া হবে, সেগুলিতে এমন সব শক্তিশালী ব্লক থাকবে, যা রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে. অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হবে রাশিয়ার সমস্ত রকেটে – যেমন, সামরিক নৌবাহিনীর জন্য ‘বুলাভা’ ও ‘সিনেভা’, ‘তোপোল-এম’ ও ‘ইয়ার্স’ সামরিক স্থলবাহিনীর জন্য. এই দশকের মাঝামাঝি নাগাদ প্রতি বছরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক রকেটের উত্পাদন ৫০-৬০টি করে বাড়ানো হবে. লোকসভায় নিরাপত্তা কমিটির উপ-সভাপতি মিখাইল গ্রিশানকোভ বলছেন, যে রাষ্ট্রপতি শুধু রাজনৈতিকই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন.

         আমেরিকার দ্বারা স্থাপিত রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করার লক্ষে নির্মীয়মান কমপ্লেক্সের মূল্য কম নয়.  তবে হয়তো অতঃপর মার্কিনী রাজনীতিবিদেরা রাশিয়াকে তাদের আসল অভিপ্রায় জানাবে এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হবে. অন্ততঃ সেরকম প্রতিশ্রুতি তারা দিতে বাধ্য. দুর্ভাগ্যক্রমে, তারা এখনো বলেনি, যে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার অভিমুখে তাক করা থাকবে. ১০০ শতাংশ সেরকম গ্যারান্টি তারা দেয়নি, আর তাই আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তির অস্ত্র উত্পাদন করতে বাধ্য. এবং অবশ্যই আগে থেকে সময়মতো সতর্ক করে দেবার প্রযুক্তি, যা দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তে মোতায়েন করা হবে.

      রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে, এরকম ব্যবস্থা নির্মাণের নির্দেশদান বিশেষজ্ঞরা মেদভেদেভের বিভিন্ন ঘোষণার মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহদ্দীপক বলে মনে করছেন. এক্ষেত্রে একগাদা ব্যবস্থা নিতে হবে – সাইবারনেটিক স্পেসে যুদ্ধ করা থেকে পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করা পর্যন্ত. মার্কিনী রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উপগ্রহের মারফতে সংযোগ, গোয়েন্দাগিরি ও লক্ষ্যনির্ণয়ের ক্ষেত্রে ভীষনভাবে নির্ভরশীল. তাই বুদ্ধি করে দুর্বল জায়গায় আঘাত হানলে ঐ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সামলাতে পারবে না. রাশিয়ার প্রতিরক্ষাকারীদের উপগ্রহবিরোধী রকেট নির্মাণের অঢেল অভিজ্ঞতা, আর তাই অনুরূপ পাল্টা ব্যবস্থা স্থাপণ করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত.

  মেদভেদেভ সতর্ক করে দিয়েছেন, যে উপরোক্ত ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না হলে, রাশিয়া দেশের পশ্চিম প্রান্তে কালিনিনগ্রাদ এলাকায় ‘ইস্কান্দার’ নামক রকেট কমপ্লেক্স মোতায়েন করবে মার্কিনী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে.