বিশ্ব এক দামী কাঁচামালের যুগে প্রবেশ করতে চলেছে. আর বছর কুড়ি বাদেই আগের জ্বালানীর উত্স, জল ও খাবার সকলের জন্য যথেষ্ট হবে না, আর নতুন উত্স খুঁজে বার করা হবে খুবই কষ্টকর ও দামী. এই ধরনের সাবধান হওয়ার বার্তা নিয়ে বহুজাতিক গবেষণা সংস্থা ম্যাককিনস্কি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন.

বেশ আশ্চর্য হওয়ার মতো বিষয় হল আসলেই প্রকৃতির সবচেয়ে বড় শত্রু হল খাদ্যে পুষ্ট ও সন্তুষ্ট মানুষ. কারণ দ্রুত হারে প্রকৃতি দত্ত রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ে চলেছে মানুষের ভাল ভাবে থাকার হার. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে এখন বিশ্বে প্রায় একশো আশি কোটি মানুষ, যাদের মধ্যবিত্তের মধ্যে ফেলা সম্ভব – অর্থাত্ যারা দিনে ১০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে পারছেন. ২০৩০ সালের মধ্যে এই ধরনের লোকের সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচশো কোটি মানুষ. এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ইউলিয়া ত্সেপলিয়ায়েভা বলেছেন:

"বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে, তার সঙ্গেই বাড়ছে মধ্যবিত্ত শ্রেনী. বিশেষ করে দ্রুত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বাড়া আমরা দেখতে পাচ্ছি এশিয়ার অর্থনীতি গুলিতে. বিগত বছর গুলিতে একশো কোটির বেশী মানুষের দেশ ভারতবর্ষ ও চিনে আমরা দেখতে পাচ্ছি সবচেয়ে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির হার, সেখানে এই দলে বিশাল সংখ্যায় মানুষ উঠে আসছেন. আর আগামী দশ বছরের মধ্যে মধ্য বিত্ত শ্রেনীর মানুষের বৃদ্ধি খুবই দ্রুত গতিতে হতে চলেছে".

হাতে পয়সা আসাতে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর দরকার পড়েছে আরও বেশী পরিমানে জিনিস. তা উত্পাদনের জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন পড়েছে. গ্যাসের সঞ্চয়, খনিজ তেল অনন্ত নয়. জলের থেকে উত্পাদিত শক্তিও বড় সাহায্য করতে পারছে না, কারণ আবহাওয়ার উষ্ণায়ন হওয়ার সঙ্গে খরা ক্লিষ্ট অঞ্চলে জলের প্রয়োজন বেড়েছে সেচ ও পানীয় জলের উত্স হিসাবে. পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন কেন্দ্র থেকে অনেকেই বিরত হতে চাইছেন. এর থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ আলাদা শক্তি উত্পাদনের ও সমস্ত কিছুতেই খরচ কমানোতে, এই কথা মনে করে ম্যাককিনস্কি সংস্থার মস্কো দপ্তরের সহকর্মী রুসলান আলিখানভ বলেছেন:

"আমরা ১৫টি মূল বিষয় বার করতে পেরেছি, যা শতকরা ৭৫ ভাগ খরচ কমানোয় সাহায্য করতে পারে. এর মধ্যে একটি সবচেয়ে বড় উপায় হল – বাড়ী গুলির জ্বালানী ও অন্যান্য শক্তি বিষয়ে খরচ কমিয়ে ফেলা. আরও একটি হল – শহর গুলিতে মানুষের অধিবাস আরও ঘন করে ফেলা ও শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করে, তার থেকে সুবিধা পাওয়া. তারই সঙ্গে আগ্রহজনক ব্যবস্থা হতে পারে – পরিবহনের যন্ত্র গুলিতে আরও ফলপ্রসূ ভাবে জ্বালানীর ব্যবহার. রসদ ফলপ্রসূ ভাবে ব্যবহারের সঙ্গে দেখা দরকার তা উত্পাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রেও সফল হওয়া".

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার সুবিধা সেই সমস্ত দেশ ও কোম্পানী পেতে পারে, যাদের কাঁচামালের উপরে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে. আর এখানেই রাশিয়া তালিকার শীর্ষে. এছাড়া, তারই বিজয় সম্ভব, যে শুধু সঞ্চয়ীর মতো উত্পাদন বা ব্যবহারই করবে না, বরং শ্রম ও মূলধনের ভারসাম্যও বজায় রাখতে পারবে. আর এখানেই অনেকের কাজ করার জায়গা রয়েছে.