অস্বাভাবিক হবে সাধারন: একুশ শতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা দশ গুণ বেড়ে যেতে পারে. আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় রত আন্তর্প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ দল এই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন. ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে চরম আবহাওয়ার ঘটনা নিয়ে এই দলের রিপোর্ট প্রকাশিত হবে. আপাততঃ প্রকাশ করা হয়েছে আগামী রিপোর্টের এক সংক্ষিপ্ত রূপ.

    বিশেষজ্ঞদের প্রধান সিদ্ধান্ত: খনিজ কার্বন যৌগের দহণে প্রাপ্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিবেশে বর্জন অন্ততঃ অর্ধেক করতে হবে. তা না হলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মানুষের স্বাস্থ্য হাণী ও অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রধান সমস্যায় পর্যবসিত হতেই পারে. রিপোর্টের সিদ্ধান্ত গুলি নিয়ে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ তহবিলের আবহাওয়া ও শক্তি উত্পাদন প্রকল্পের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন উদ্বেগ নিয়ে বলেছেন:

    "এই রিপোর্টের বিশেষত্ব হল যে, তা লেখা হয়েছে খুবই বিজ্ঞান সম্মত ভাবে, তা খুবই নির্দিষ্ট ও খুঁটিয়ে দেখিয়েছে কতটা সম্ভাবনা রয়েছে অর্থাত্ প্রতিটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ হওয়া বা না হওয়ার শতকরা কতখানি সম্ভাবনা নির্দিষ্ট করে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে, যা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব হবে. আর তার থেকে পাওয়া গিয়েছে যে, কিছু ঘটনা, যা বর্তমানে প্রতি বিশ বছরে একবার করে হয়ে থাকে, তা ২০৪০ ও ২০৬০ সাল নাগাদ হবে অনেক বেশী নিয়মিত. এমনকি তা হতে পারে প্রতি দুই- তিন বছরে একবার করে".

    এই প্রসঙ্গে আমাদের জন্য শুধু গরম বেড়ে যাওয়াই অপেক্ষা করে নেই, যতটা রয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে আবহাওয়ার চরম অবস্থার সম্ভাবনা, এই কথা উল্লেখ করেছেন আলেক্সেই ককোরিন.মানব সমাজের জন্য বেশী করে সমস্যা হতে পারে বন্যা, ঝঞ্ঝা ও ত্সুনামি. খরা হতে পারে ইউরোপে, ভূমধ্যসাগর এলাকায়, মধ্য ও উত্তর আমেরিকায়, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাতে. কিন্তু এই সবই ঘটবে, যদি মানব সমাজ গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর ব্যবস্থা না নেয়. অন্যভাবে বাল যেতে পারে যে, যদি জ্বালানী শক্তির জন্য অন্য ধরনের শক্তির খোঁজ না করে ও জঙ্গল কাটা বন্ধ না করে.

    আন্তর্প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ দলের আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত রিপোর্টের হিসাব তিন ভাবে করা হয়েছে: কম, মাঝারি ও বড় মাপের মানুষের প্রভাবের ফলে আবহাওয়াতে কি হতে পারে. বিজ্ঞানীরা আশা করেছেন যে, তাঁদের এই ধারণা আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভিত্তি হতে পারে, যাতে আবহাওয়াতে দূষণ কমানো সম্ভব হয়. এখন আবহাওয়াতে দূষণের সম্বন্ধে নিয়ম মানা হয়ে থাকে কিয়োটো প্রোটোকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যা ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠামো হিসাবে নেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আওতায়. তা বিশ্বের ১৮১ দেশ গ্রহণ করেছিল, যারা শতকরা ৬১ ভাগ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী. এই প্রোটোকলের প্রথম পর্যায়, যা উন্নত দেশ গুলির ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় ছিল, তার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে ২০১২ সালের ৩১শে ডিসেম্বর. বেশীর ভাগ উন্নতিশীল দেশই ২০১৮ সালের আগে দ্বিতীয় পর্যায়ে এই অবশ্য পালনীয় আইনের আওতায় আসবে. কিছু উন্নত দেশ, জাপান, কানাডা ও রাশিয়া সহ মনে করেছে যে, কিয়োটো প্রোটোকল নিজের কার্য ক্ষমতা হারিয়েছে ও তার বদলে নতুন আবহাওয়া সংক্রান্ত চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে. এই প্রশ্ন নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে ২৮শে নভেম্বর থেকে ৯ই ডিসেম্বর মুখ্য আলোচনা হতে চলেছে.