তহরির চকে জন সমাবেশ করে সরকার বদল ও সামরিক বাহিনীকে শাসন ভার নিজেদের হাতে নেওয়া থেকে বিরত করতে পেরেছে. মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কায়রো শহরের কেন্দ্রে পঞ্চাশ হাজার সমবেত লোক ইসাম শারাফের মন্ত্রীসভার পদত্যাগকে অভিনন্দন জানিয়েছে. তারা দাবী করেছে সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে দেশের সীমান্ত রক্ষার, দেশ চালানোর নয়.

সামরিক বাহিনী দেশের বেসরকারী নেতাদের হাতে শাসন দ্রুত তুলে দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে. জাতির উদ্দেশ্য ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ পরিষদের প্রধান হুসেইন তান্তাউইয়ের আহ্বান তহরির চককে শান্ত করার উদ্দেশ্যই হয়েছিল, তিনি বলেছেন:

"ইজিপ্টের সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় লক্ষ্য করে নেই. তারা সবার আগে দেশের স্বার্থের কথাই হিসাবের মধ্যে আনে. আগামী বছরের জুন মাস শেষের আগেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে. প্রশাসনের পদত্যাগ গৃহীত হয়েছে, কিন্তু তারা নতুন মন্ত্রীসভা গঠন হওয়া পর্যন্ত কাজে বহাল থাকবে. যদি জনতা চায়, তবে আমরা তৈরী আছি অবিলম্বে শাসন ক্ষমতা সর্বজনীন মত প্রকাশের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে".

তান্তাউই আরও আশ্বাস দিয়েছেন যে, ২৮শে নভেম্বর ইজিপ্টে পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হবে. এর পরে সামরিক বাহিনীর লোকেরা দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ করেছেন. প্রসঙ্গতঃ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তৃতা আশানুরূপ ফল দেখাতে পারে নি. তহরির চকে এই বক্তৃতার সময়ে ও তার পরে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ বন্ধ হয় নি. "আমরা চক ছাড়ব না ও আগের বারের মতো ভুল করব না, যতক্ষণ না সামরিক বাহিনী দেশের ক্ষমতা থেকে অপসৃত হয়, রাজনীতি – সামরিক বাহিনীর লোকেদের কাজ নয়! নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে যাও", - এই রকম দাবীই করছে প্রতিবাদকারী লোকেরা. তাছাড়া, সামরিক নেতৃত্বের জায়গায় তারা দেশের নেতৃত্বে দেখতে চেয়েছে রাষ্ট্রপতির সভাকে, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মুহামেদ আল বরাদেই কে. রাজনৈতিক নেতারা অবশ্য নিজেরা সামরিক নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে এখনই সরে যেতে বলছেন না, কারণ তারা বোঝেন যে, এর ফলে দেশে মাত্সান্যায় শুরু হতে পারে. তহরির চক থেকে রেডিও রাশিয়ার সংবাদ প্রতিনিধি রোলান্দ বিদঝামভ জানিয়েছেন:

"যারা এখন এই চকে রয়েছেন, তারা ইজিপ্টের সমাজের চরমপন্থী অংশের প্রতিনিধি. তারা এই ধরনের মানসিকতা স্বত্ত্বেও অনেক বিষয়েই সঠিক, কারণ সর্ব্বোচ্চ সামরিক সভা বিগত দশ মাসে বহু ভুল করেছে, আর প্রশাসন খুবই খারাপ ভাবে কাজ করেছে. বৈপ্লবিক মানসিকতার যুব সমাজ এক সময়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অপসৃত করে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়েছিল. কিন্তু তিনিও মিছিল করা লোকেদের বিশ্বাসের কারণ তৈরী করতে পারেন নি, সেই কারণেই তাকেও এরাই সরিয়েছে".

 ইজিপ্টে কিভাবে ঘটনার পরিবর্তন হতে চলেছে, তার উপরে অনেকটাই নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আরব দুনিয়াতে কি পরে ঘটবে, এই কথা মনে করে রাশিয়ার ঐস্লামিক বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ে সহায়তা তহবিলের পররাষ্ট্র যোগাযোগ বিভাগের প্রধান ও প্রাচ্য বিশারদ ভেনিয়ামিন পাপোভ বলেছেন:

"এখন ইজিপ্টে দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে: তা গভীরতর হচ্ছে. জনতা আবারও রাস্তায় নেমেছেন ও বাস্তবে সামরিক বাহিনীকে বাধ্য করেছে, তাদের শর্ত মেনে নিতে. এখানে প্রধান হল, সামরিক বাহিনীর লোকেরা ঘোষণা করেছে যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০১২ সালের জুন মাস শেষের আগেই করা হবে. ইজিপ্ট – এটা আট কোটি পঞ্চাশ লক্ষ লোকের দেশ. আর সমস্ত আরব দেশ মিলিয়ে – চল্লিশ কোটির সামান্য বেশী. এই অর্থে ইজিপ্ট – এই অঞ্চলের এক নীতি নির্ধারক দেশ".

ইজিপ্টে আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার কারণে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে রাশিয়ার পর্যটকদের পর্যটন কেন্দ্র গুলির এলাকা পরিত্যাগ না করতে আহ্বান করা হয়েছে এবং কায়রো সহ অন্যান্য জায়গায় যেতে বারণ করা হয়েছে, যেখানে মিছিল চলছে.