পাকিস্তানের সরকার “তেহরিক এ তালিবান- পাকিস্তান” দলের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করেছে. এই নিয়ে খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের “এক্সপ্রেস ট্রিবিউন” সংবাদপত্র. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

     আলোচনা করা হচ্ছে মধ্যস্থদের মাধ্যমে ও আপাততঃ কথা হচ্ছে উত্তর ওয়াজিরস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে. এই ক্ষেত্রে কোন সাফল্য হলে, কথা হতে পারে পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকা ও পাক- আফগান সীমান্তের অন্যান্য জায়গা নিয়েও, যা “প্রজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল” বলে পরিচিত. তালিবদের প্রতিনিধিরা তাদের একটি অন্যতম দাবী এর মধ্যেই জানিয়েছে – “তালিবান” আন্দোলনের জঙ্গীদের পাকিস্তানের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হোক. তাদের দাবীর মধ্যে রয়েছে সামরিক অপারেশন বন্ধ করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে “প্রজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল” থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক. পাকিস্তানের সরকার এই ধরনের দাবীর কতটা মেনে নিতে তৈরী, তা এখনও বলা যাচ্ছে না. এই সব আলোচনা জানানো হয়েছে যে, খুবই কষ্টসাধ্য. পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম খুবই সন্তর্পণে এই নিয়ে খবর দিচ্ছে. কিন্তু শুধুমাত্র আলোচনা হওয়ার বাস্তবতাই বলে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের সরকার তালিবদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চায়.

     এটা কিন্তু ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার মধ্যে পড়ে না. যুক্তি অকাট্য. এই ধরনের আলোচনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের সদস্য দেশের সেনাবাহিনীর আফগানিস্তানে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দিচ্ছে. কারণ যদি পাকিস্তানের দিক থেকে তালিবদের উপরে চাপ কমে. তাহলে তারা আফগানিস্তানে নিজেদের নজর বৃদ্ধি করবে. কিন্তু পাকিস্তান এই ক্ষেত্রে একই ভাবে কাজ করছে, যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুর্তভ বলেছেন:

     “আমেরিকার লোকেরা নিজেরা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের আগে ও একই সঙ্গে দেশের সামরিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ধ্বস নামা আটকাতে তালিবদের সঙ্গে সমঝোতায় আসা নিয়ে চেষ্টার ত্রুটি করছে না. এর জন্য ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে তথাকথিত মধ্যপন্থী তালিবদের সঙ্গেও সমঝোতায় আসা চলতে পারে. ঐস্লামিক চরমপন্থী আন্দোলনের কিছু প্রতিনিধি আমেরিকার লোক, ন্যাটো জোট ও কারজাই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনাতেও বসছে. কিন্তু এই যোগাযোগ আপাততঃ আফগানিস্তানে পরিস্থিতি কিছুতেই বদলে দিতে পারছে না”.

     পাকিস্তানের স্বার্থ হল তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা. দেশের উত্তর পশ্চিমে তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সেনাদের নিত্য নতুন জীবনই শুধু বলি দিচ্ছে. তার ফলে এমনিতেই পাকিস্তানের খুবই কম ধনী কোষাগার শূণ্য হচ্ছে. তার ওপরে ওয়াশিংটন থেকে বিগত কিছু কাল ধরে পাকিস্তানের সেনা বাহিনীকে সহায়তার পরিমান খুবই কম করে দেওয়া হয়েছে.

     মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের আফগানিস্তানের যুদ্ধকে পাক সরকার বহু দিন ধরেই মনে করে অন্যের যুদ্ধ বলে. ইসলামাবাদের আফগানিস্তানে নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, যা আমেরিকার স্বার্থের চেয়ে আলাদা. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ দিয়ে পাকিস্তানকে দেশের উত্তর ওয়াজিরস্তানে হাক্কানি দলের বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনে বাধ্য করা হতে চাইলেও, ইসলামাবাদ সম্পূর্ণ উল্টো কাজটাই করেছে – তারা শান্তি আলোচনা শুরু করেছে তালিবদেরই সাথে.

     এটা অবশ্যই, এমনিতেই জটিল ও উত্তেজিত পাক– মার্কিন সম্পর্ককে আরও ঘোরালো করতে পারে. প্রসঙ্গতঃ ইসলামাবাদে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, বিশ্বাস করা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পাকিস্তানকে দরকার বোধ করবে ও একেবারে শেষ অবধি সম্পর্ক ছিন্ন করে দেবে না.