ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়া বলেছে গ্রহণযোগ্য নয় ও আন্তর্জাতিক আইন বিরুদ্ধ. রুশ প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণাতে বলা হয়েছে যে, তেহরানের উপরে এই ভাবে চাপ বাড়িয়ে অস্ত্র প্রসার রোধের সমস্যা সমাধানের কাঠামোর বাইরেই যাওয়া হচ্ছে.

     সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম ইরানের খনিজ তেল ও রসায়ন শিল্পের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে একই সঙ্গে দশটি ইরানের কোম্পানীকে. নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে এই শিল্প ক্ষেত্রে কোন রকমের দ্রব্য, পরিষেবা ও প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়ে. এই নিষেধাজ্ঞা তৃতীয় দেশের কোম্পানী গুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যারা ইরানের সঙ্গে খনিজ তেল উত্পাদন ও তার পরিশোধনের কাজে যুক্ত. এই কারণেই রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে বলা হয়েছে ক্ষেত্র বহির্ভূত ও তার অর্থ হল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য নয়. মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য গবেষণা বিভাগের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দ্রুঝিলোভস্কির জন্য ইরানের প্রতি আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেওয়া বিষয়টি আচমকা হয় নি, তাই তিনি বলেছেন:

     “আগের মতই ইরানের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইবে এই প্রশাসনকে উত্খাত করতে. যতখানি দরকার ততটাই এই প্রশাসনের উপরে আঘাত করা হবে. ততদিন পর্যন্ত, যতক্ষণ না ইরান সকলের সমক্ষে স্বীকার করে যে, তাদের সমস্ত রসদ ফুরিয়ে গিয়েছে. কিন্তু এটা আজ বা আগামী কালই হবে না”.

     ওয়াশিংটনে রাশিয়ার নতুন করে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্পর্ক কি হতে পারে তা আগে থেকেই জানা ছিল. মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়া আগে থেকেই মার্কিন পক্ষের ইচ্ছার বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল. এই কথা সত্য যে, সেই একই উত্স, এমনকি নাম প্রকাশিত হবে না বলা স্বত্ত্বেও সাংবাদিকদের কাছে এই বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে চান নি. একই সঙ্গে তিনি রাশিয়াকে ওয়াশিংটনের “ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল্যবাণ সহকর্মী দেশ” বলে উল্লেখ করেছেন. এই প্রসঙ্গে আমেরিকার পক্ষ থেকে ঘোষণা  করা হয়েছে যে, রাশিয়ার কোম্পানী গুলি এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বে না. এই তথ্যকে সমর্থন করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সাঝিন বলেছেন:

     “ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ এতই বড় নয় যে, এই নিষেধাজ্ঞা এখন আমাদের স্বার্থের উপরে কোন আঘাত করতে পারে. যদিও ভবিষ্যতের জন্য প্রকল্প রয়েছে – দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে বোঝাপড়া হওয়ার চুক্তি রয়েছে – সেটার মধ্যে খনিজ তেল ও রসায়ন শিল্পের কথাও রয়েছে. কিন্তু আজকের দিনে এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের উপরে কোন ভাবেই প্রভাব ফেলে না. আমি যতদূর জানি কানাডা ও গ্রেট ব্রিটেন সমর্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে যে সমস্ত কোম্পানী রয়েছে তাদের তালিকাতে রুশ কোম্পানী নেই”.

     একই সময়ে পশ্চিমের ইরান সংক্রান্ত অবস্থান কঠোর হওয়াতে বিশ্বের খনিজ তেলের বাজারে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী আন্দ্রেই ভলোদিন, তিনি বলেছেন:

     “ইরান এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে, এই রকম পরিস্থিতিতে তারা বহুদিন ধরে রয়েছে. তাই এই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার প্রভাব প্রায় অনুভূতই হবে না. আন্তর্জাতিক জ্বালানী বাজার বরং হতে পারে যে, একই সঙ্গে ইরান ও সিরিয়ার প্রতি পশ্চিমের একতরফা নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার কারণে ভারসাম্য হারাতে পারে. এটা একেবারেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এমন ধারণা, যা নিয়ে এখন বহু পশ্চিম ও রুশী বিশ্লেষকেরা কাজ করছেন”.

     কানাডা ও গ্রেট ব্রিটেনের সমর্থনে নেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত বহু প্রতিধ্বনি তোলা রিপোর্টের পরে নেওয়া হয়েছে. কিন্তু দলিলে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও আরও বেশী করে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ভাবে পারমানবিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে কোনও সরাসরি অভিযোগ করা হয় নি. গত সপ্তাগের শেষেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী এক সমঝোতায় আসার মতো উপায় বের করতে পেরেছিল – ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে রিপোর্ট রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনার জন্য পাঠানো হবে না. তা রেখে দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থায়, অর্থাত্ তেহরান নিয়ে এই সংস্থার কাজ আরও চলবে. এই অবস্থান রাশিয়া ও চিনের কারণেই বিশেষত নেওয়া যেতে পেরেছে. মস্কো একই সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত “লাভরভের পরিকল্পনা” রূপায়ণের জন্য ভাল পরিস্থিতি তৈরী করবে. মনে করিয়ে দিই যে, তা ইরানের সঙ্গে পারমানবিক শক্তি সংস্থার সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে করা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গতকালের নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার সিদ্ধান্ত, রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী উল্টোটাই করবে, আলোচনায় কোন সহায়তাই করবে না. আগে আশা করা হয়েছিল যে, তা এই বছরের শেষের আগেই হতে পারে.