বহু বছর ধরে রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষের কাছে এসে পৌঁছেছে. আশা করা হচ্ছে যে, ১৫- ১৭ ডিসেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেই রাশিয়ার এই সংস্থায় যোগদানের বিষয়টি সমর্থন করা হবে ও আগামী ২০১২ সালের মাঝামাঝি রাশিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য দেশ হবে.

     রুশ লোকেরা যা প্রাথমিক ভাবে টের পাবেন, তা হল দ্রব্য মূল্য হ্রাস, এই কথা উল্লেখ করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান লিওনিদ ভারদোমস্কি, তিনি বলেছেন:

     “আমাদের এক সারি আমদানী কৃত পণ্যের শুল্ক খুবই বেশী, বিশেষতঃ সেই গুলির ক্ষেত্রে, যা আমাদের দেশেও উত্পাদিত হয়ে থাকে. এই গুলির দাম কমাতে হবে. এর জন্য নির্দিষ্ট অন্তর্বর্তী কালীণ সময় সীমা যদিও রয়েছে, তবুও তা একসময়ে শেষ হবেই. আর তখনই আমদানী কৃত দ্রব্য কোন রকমের বাধা ছাড়াই রাশিয়ার বাজারে আসবে. জিনিসের দাম প্রায় ১৫ – ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে”.

     সস্তা হয়ে যাবে, প্রাথমিক ভাবে সব্জী, ফল ও বাদাম, যা রাশিয়াতে ফলন হয় না. বিদেশে উত্পাদিত ওষুধের উপরে শুল্ক বিভাগের দাম চড়ানো বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে কমে সাড়ে ছয় শতাংশ হবে. নিত্য ব্যবহার্য গৃহস্থের প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন দ্রব্যের দাম কমবে অর্ধেক. কম্পিউটার, সেইগুলি উত্পাদনের যন্ত্র, যন্ত্রাংশের উপর হতে শুল্ক একেবারেই তুলে নেওয়া হবে, এই কথা জানিয়ে রাশিয়ার তরফ থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের জন্য প্রেরিত প্রতিনিধিদলের প্রধান ম্যাক্সিম মেদভেদকভ বলেছেন:

     “উচ্চ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুবই নানা ধরনের. বিভিন্ন ধরনের দ্রব্যের জন্য শুল্ক হতে চলেছে বিভিন্ন. তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত জিনিসের জন্য চুক্তি রয়েছে, এটা কম্পিউটার, কাজের জন্য নানা ধরনের যন্ত্র ও আরও সমস্ত কিছু, যা সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে. আমাদের দেশে এই সমস্ত ক্ষেত্রে শুল্ক সব সময়েই যথেষ্ট স্বাধীন ছিল. আমাদের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের শর্ত হিসাবে শুল্ক হতে চলেছে শূণ্য”.

     রাশিয়াতে শুল্কের হার কমানোর জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ কিছু স্পর্শকাতর জিনিসের জন্য অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ের মেয়াদ রয়েছে সাত বছর পর্যন্ত. তা স্বত্ত্বেও, বেশ কিছু শিল্প ক্ষেত্রে হতে চলেছে সত্যিকারের ভূমিকম্প. রাশিয়ার শিল্প মন্ত্রী ভিক্তর খ্রিস্তেঙ্কো অংশতঃ উল্লেখ করে স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বের বাজারের সঙ্গে রাশিয়ার সংযুক্তি করণের ফলে গাড়ী ও চাষের জন্য যন্ত্র নির্মাণের শিল্পে রাশিয়াতে সময় আসছে খুবই বেদনা দায়ক.

     অন্যদের চিন্তার কারণ হয়েছে যে, বিদেশ থেকে সস্তায় কৃষি পণ্য আসতে শুরু করলে রাশিয়ার কৃষি ক্ষতিগ্রস্থই হবে. কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রকে দেশের কোন না কোন শিল্পকে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে কোন বাধা দেওয়া হয় না. এখানে শুধু প্রশ্ন হল, এই সাহায্য কি করে করা হবে, এই কথাটি নির্দিষ্ট ভাবে বুঝিয়ে বলে রাশিয়ার খাদ্য শষ্য সংগঠনের সহ সভাপতি আলেকজান্ডার কোরবুট বলেছেন:

     “বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, যে কোন দেশেই যত খুশী, কোন না কোন শিল্পকে ভর্তুকি দিতে, কোন বাধা দেয় না. বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে শুধু সেই সমস্ত বিষয়ে, যার ফলে আলাদা করে বাড়তি প্রতিযোগিতার ক্ষমতা সৃষ্টি হতে পারে. ধারণা হিসাবে, বলা যেতে পারে যে, আমরা চালের উপরে শুল্ক খুবই কমিয়ে দেবো. আমদানী করা চাল পাবে আলাদা করে সুবিধা. অর্থাত্ আমাদের অর্থ এই ভাবে ভাগ করে দেওয়া দরকার যাতে আমাদের এই শিল্প আলাদা করে সুবিধা ভোগ করতে পারে.

এটা সম্ভব হতে পারে সেচ ব্যবস্থা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে, ধানের বীজ নিয়ে কাজ করলে, ধান সংরক্ষণ ও তার থেকে অন্যান্য খাবার জিনিস বানানোর কারখানা ও জায়গা তৈরী করায়. এখানে প্রশ্ন হবে, যেখানে আমাদের পথ ছেড়ে দিতে হচ্ছে, সেখানেই সময় মতো দেশের উত্পাদকদের জন্য সহায়তার বন্দোবস্ত করা”.