গত সপ্তাহের শেষ দিনগুলিতে ভুটানের রাজধানী থিম্পু শহরে জমা হয়েছিলেন হিমালয় পর্বতের পাদদেশের চারটি দেশের প্রতিনিধিরা – বাংলাদেশ, ভুটান, ভারতবর্ষ ও নেপাল. আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বিশ্বে উষ্ণতা বৃদ্ধির সমস্যা ও ফল হিসাবে হিমালয় পর্বতের হিমবাহ গুলির ক্ষয়. পর্যবেক্ষকেরা সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ্য করেছেন এই সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন হিমালয় পাদদেশের অন্য তিনটি দেশের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি – পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও চিন প্রজাতন্ত্র.

    সম্মেলনের আহ্বায়কেরা এই তথ্যকে বিশেষ আমল দিতে চান নি, তারা ঘোষণা করেছেন যে, এখানে বিশেষ করে আলোচনা করা হয়েছে হিমালয়ের পূর্ব দিকে জল ব্যবহারের বিষয়. কিন্তু এটা সমস্যা কমায় না: প্রথমতঃ চিনের একাংশ হিমালয়ে পাদদেশে ও তাদের দেশে জলের সমস্যাও উপরোক্ত দেশ গুলির চেয়ে কম তীব্র নয়. চিন এখন চেষ্টা করছে তিব্বতে ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর উত্স এলাকায় বাঁধ দিতে (সাঙ্গপো – চিনে ভাষায়), যার ফলে গঙ্গার অববাহিকায় জলের অভাব দেখা দিতে পারে ও সমগ্র পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশে খরা আরও বিকট আকার নিতে পারে. উত্তর দিকে তারাই ইরতীশ নদীতে বাঁধ দিতে চাওয়ার ফলে কাজাখস্থান ও পশ্চিম লাইবেরিয়াতে জলের অভাব হচ্ছে, ফলে এই নদী খরার সময়ে হ্রদ ও ডোবা হয়ে যেতে পারে.

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের কারণ হতে চলেছে জল, একই কারণে ইজরায়েল- প্যালেস্টাইন যুদ্ধ করছে. খনিজ তেল ও গ্যাসের সঙ্গে জলের জন্য যুদ্ধও হবে এই শতকে, নাম দেওয়া হতে পারে, প্রজাতি দ্বন্দ্ব বা অন্য কিছু.

0    তাজিকিস্থানে ভাকাস নদীর উপরের দিকে বাঁধের উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার বাড়ানোর কারণে উজবেকিস্তানের তুলোর ক্ষেতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে, কারণ প্রায় পনেরো দিন সেখানে জল পৌঁছায় নি. দেশে এই কারণে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে. পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেও কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের অন্যতম কারণ জল, কারণ পাকিস্তানের সিন্ধু নদীর উত্স মুখে চিনাব নদীতে বাগলিহর বাঁধ দেওয়া হলে পাকিস্তানে জল যাবে কম, তাই পাক সরকার ভারতকে বলেছে এটা বন্ধ করতে, সেখানের সন্ত্রাসবাদীরা অবশ্য জল বন্ধ হলে রক্তের নদী হবে বলে হুমকি দিয়ে চলেছে. অন্য বিষয় ছাড়াও জলের জন্যই তিব্বতকে দখল করে অরুণাচলের দিকে হাত বাড়িয়েছে চিন. ভারত অবশ্য পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদীর জল নিয়ে চুক্তিই মেনে চলছে. প্রতিটি নদীকে নিয়ে আলাদা করে চুক্তি করা প্রায় অসম্ভব, তাই উচিত হবে প্রথমে আঞ্চলিক ভাবে ও পরে সারা বিশ্ব জুড়েই জলের ব্যবহার নিয়ে নীতি তৈরী করার, যেমন রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদীর জল নিয়ে চুক্তি. যদি থিম্পু শহরের সম্মেলনে চারটি দেশ এই দিকেই যাওয়ার প্রচেষ্টা করে থাকে, তবে তা অবশ্যই প্রশংসার উপযুক্ত. কিন্তু যদি চারটি দেশ বড় মাপের সিদ্ধান্তকে আটকানোর প্রয়াসে এই আলোচনা করে থাকে, তবে তা হবে ভুল দিকে পদক্ষেপ নেওয়া. রুশ বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি অন্ততঃ তাই ভাবেন.