আমেরিকার কংগ্রেস আসন্ন অধিবেশনে এক আইনের প্রকল্প পর্যালোচনা করবে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জীবন যথেষ্ট দুর্বিষহ করে তুলতে পারে. বৃহত্তম ধ্বনি, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য আধার নির্মাণকারী কোম্পানীদের সহায়তায় ইন্টারনেট পাইরেসি বন্ধ করার জন্য আইন তৈরী হয়েছে. ইংরাজি ভাষায় তার নাম – Stop Online Piracy Act (SOPA) অথবা অনলাইন পাইরেসি বন্ধ করার আইন. এর প্রধান নূতনত্ব হল – সাইট গুলির কাজ বন্ধ করে দেওয়া, যেখানে লাইসেন্স বিহীণ কনটেন্ট রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, কোথায় এই সাইট রেজিস্টার্ড – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অথবা তার সীমানার বাইরে.

    আমেরিকার লোকেরা ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে চলেছে. কিছু সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, ওয়াশিংটন সমস্ত বিশ্বজোড়া ইন্টারনেটের জাল নিয়ন্ত্রণ করতে চায়. কংগ্রেসের ভিতরে দুটি আইনের প্রকল্প তৈরী হয়েছে. প্রথমটি – ব্যক্তিগত প্রোটোকল বা আই পি সুরক্ষা আইন Protect IP Act (PIPA), কিন্তু তার থেকেও বেশী আগ্রহের হল দ্বিতীয় দলিল সোপা. এই দুটি আইন নেওয়া হলে, যারা কনটেন্টের অধিকারী, তা সঙ্গীত প্রকাশক, চলচ্চিত্র বা ভিডিও প্রকাশনা, পুস্তক ও অন্যান্য প্রকাশনা সকলেই – কোন রকমের আদালতের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি সাইট প্রভাইডার কোম্পানীর কাছে দাবী করতে পারবেন সেই সমস্ত সাইটের প্রচার ও প্রবেশ বন্ধ করে দিতে, যেখানে তাদের কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে প্রকাশিত হয়েছে. একই সঙ্গে অধিকারীদের প্রথম আবেদনেই সেই সমস্ত সাইটের অনলাইন পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাদের উপরে সন্দেহ করা হয়েছে.

    রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের একটি খুবই জনপ্রিয় সামাজিক সাইটের নির্মাতা odnoklassniki.ru এর আলবের্ত পাপকোভ বিশ্বাস করেন: কংগ্রেসের উদ্যোগ ইন্টারনেটের উন্নতিতে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে, তাই তিনি বলেছেন:

    "আমি মনে করি এটা অবশ্যই ইন্টারনেটের উন্নতিকে হত্যা করবে. প্রাথমিক ভাবে সেই সব সাইটই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যারা খোলাখুলি ভাবেই আইন বিরুদ্ধ. সেই সমস্ত সাইট ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য বিনিময় করে থাকেন সত্ ব্যবহারের নীতিতে বিশ্বাস রেখে, অর্থাত্ প্রাথমিক প্রকাশকের ঠিকানা দিয়ে থাকেন? আমি মনে করি এই আইনের সমালোচকেরা শুধুশুধুই চিন্তা করছেন না যে, আইন সেই ধরনের সাইটের উপরেও খুবই শক্তিশালী আঘাত হানবে".

    একই ধরনের ধারণা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ইন্টারনেট কোম্পানী নির্মাতারাও এটাকে সমর্থন করেছেন. আইন নেওয়া বন্ধ করার জন্য বক্তব্য প্রকাশ করেছে AOL, eBay, Face book, Google, LinkedIn, Mozilla, Twitter, Yahoo! ও Zynga.

    এখানে ব্যাখ্যা করার দরকার রয়েছে: সংখ্যার সহস্রাব্দের সত্ত্বের অধিকার (Digital Millennium Copyright Act) সংক্রান্ত আইনে এখনই স্রষ্টা অথবা অধিকারী, ইন্টারনেটের সাইটে তাঁর বা তাঁদের কোন সৃষ্টি বেআইনি ভাবে রয়েছে এমন খুঁজে পেলে প্রথমে সেই সাইটের নিয়ন্ত্রকদের কাছে এই বিষয়টি নিশ্চিহ্ণ করার জন্য আবেদন করে থাকেন. যদি সেই বিষয়ে কোন রকমের গররাজি ভাব দেখলে তবেই আদালতের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন. প্রসঙ্গতঃ পাইরেসি করে কোন কনটেন্ট ঝোলানো হলে, তার দায় বর্তায় সেই ব্যবহারকারীর উপরে, যে এই কাণ্ড করেছে.

    এখন এই সমস্ত ভার পড়বে সেই সমস্ত সাইটের অধিকারীদের উপরে, যেখানে ঝোলানো হয়েছে. আর এই ধরনের ভার উত্তোলন অসম্ভব. শুধু ফেসবুক সাইটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৮০ কোটি ছাড়িয়েছে. চেষ্টা করে দেখা যাক, সমস্ত ব্যবহারকারীকে নিয়ন্ত্রণের! একজন লোকের জন্য তাহলে সমস্ত সাইটে ঢোকার পথই বন্ধ করতে হয় তাহলে, এই কথা উল্লেখ করে ইউনেস্কো সংস্থার সত্ত্বাধীকার দপ্তরের সদস্য ভাদিম কলোসভ বলেছেন:

    "এই আইন আমেরিকাতে নেওয়া হতে যাচ্ছে. স্বাভাবিক ভাবেই তা সরাসরি ভাবে রাশিয়ার সাইটকে না ছোঁওয়ার কথা... কিন্তু সেখানে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সম্ভব করে দেবে ইন্টারনেট প্রভাইডারের মাধ্যমে সাইট বন্ধ করে দেওয়ার. আর সত্ত্বাধীকার যাদের আছে, তারা কিছু সাইটকে আমেরিকার মধ্যেই দেখা যাবে না এমন করে দিতে পারে. আমি মনে করি না যে, এই আইন নেওয়া হলে ইন্টারনেটে কনটেন্ট বিষয়ে পরিস্থিতির কোন বিরাট পরিবর্তন হবে. শুধু পাইরেসি সাইট তৈরীর যারা কাজ করছেন, তারা এই নিষেধ পার হয়ে যাওয়ার পথ খুঁজবেন".

    আমেরিকার সরকারের মনোযোগ অনেকদিন ধরেই কিছু সামাজিক সাইটের উপরে পড়েছে. প্রায় সমস্ত গুলিই তৃতীয় দেশে রেজিস্টার্ড, তারা বিভিন্ন কার্ড দিয়ে পেমেন্ট নেয় ও সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে. আর তাদের উপরেই প্রথম আঘাত হানা হতে পারে. আমেরিকার লোকেরা এর মধ্যেই তা অভ্যাস করে দেখেছে. তারা উইকিলিক্স সাইট ও তার জন্য পেমেন্ট করার ব্যবস্থা আটকে দিয়েছে. ফল হিসাবে- এই প্রকল্পই বন্ধ হয়ে গিয়েছে.