নিকট প্রাচ্যে বরফ গলতে শুরু করেছে, এই ভাবেই রুশ বিশেষজ্ঞরা আঞ্চলিক ভাবে পারমানবিক অস্ত্র শূণ্য হওয়ার জন্য প্রথম সম্মেলনের মূল্যায়ণ করেছেন. ২১- ২২ নভেম্বর এই সম্মেলন হচ্ছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদর দপ্তর ভিয়েনা শহরে, উদ্যোক্তা সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানো.

এই ধরনের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত এখন থেকে ১১ বছর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা. সমস্ত নিকট প্রাচ্যের দেশকেই পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ও নিজেদের পারমানবিক প্রকল্প গুলিকে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তদারকের অধীনে আনার আহ্বান জানানো হয়েছিল. রাষ্ট্রসঙ্ঘ একই সঙ্গে দাবী করেছিল সম্মিলিত ভাবে এক অঞ্চল তৈরীর জন্য কাজ করতে, যা পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত. তারই মধ্যে এই পথে অগ্রগতি কিছুই করা সম্ভব হয় নি. ভিয়েনার বৈঠক – এটা নতুন ও খুবই সময়োপোযুক্ত প্রচেষ্টা প্রাক্তন উদ্যোগকে পুনর্জীবিত করার, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে ঘোষণা করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

"সম্মেলনের প্রয়োজন রয়েছে. পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্ল – এটা সেই ধরনের ইতিবাচক ব্যবস্থা, যা পারমানবিক অস্ত্রধারী দেশ গুলির প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ বলে ধরা যেতে পারে. নিকট প্রাচ্যে পারমানবিক অস্ত্র বিহীণ শান্তির প্রচেষ্টা – এটা আঞ্চলিক ভাবে সেই সমস্ত দেশের প্রতি চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা, যারা তাদের দেশে পারমানবিক অস্ত্র তৈরী নিয়ে সমস্ত সন্দেহের অবসানের জন্য প্রকল্প গুলিকে খুলে ধরতে রাজী হচ্ছে না".

সামাজিক রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ বিশ্বাস করেন: বর্তমানে নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল তৈরী করা অবাস্তব. কিন্তু যদি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে বিশেষজ্ঞের মতে খুবই সম্ভব যে, এই পথে চলবে সৌদি আরব ও তুরস্ক. কিন্তু একটি রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের কাছে বাস্তবেই পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে. এটা – ইজরায়েল. তবুও ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ নিজের পূর্বাভাসে যথেষ্ট আশাবাদী, তিনি বলেছেন:

"বোধহয়, এমন অঞ্চল নির্দিষ্ট বাধ্য বাধকতা সমেত তৈরী করা সম্ভব. যেমন, বিভাজন সক্ষম পদার্থ প্রস্তুত করার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া, তাহলে পারমানবিক অস্ত্র তৈরীর পথে তা বাধা হবে. বোধহয়, রকেট প্রস্তুত সম্বন্ধেও এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেওয়া যেতে পারে. কারণ ইজরায়েল ও ইরান দুই পক্ষের কাছেই এখন মাঝারি পাল্লার রকেট রয়েছে. সম্পূর্ণ মূল্যের পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল তৈরী করা সম্ভব নয়, কিন্তু এই বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে ও কিছু আলাদা মাত্রা নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে".

ভিয়েনা সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট সুযোগ রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক পারমানবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রাক্তন উপ প্রধান ভিক্তর মুরোগভ বলেছেন:

"এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল নতুন করে সেই সমস্ত দেশের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ণ করে দেখা, যারা পারমানবিক অস্ত্র শূণ্য এলাকা তৈরী করেছে. যেমন, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাতে. জানা আছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকা পারমানবিক অস্ত্র এর মধ্যেই তৈরী করেছে, আর বর্তমানে এটা পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত এলাকা. আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অভিজ্ঞতা বিরল ধরনের. এই দুটি বৃহত্ দেশ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ককে বহু দিন ধরে কানা গলিতে আটকে থাকা থেকে উদ্ধার করেছে. আর সেটা আবারও হয়েছে এই অঞ্চলকে পারমানবিক অস্ত্র শূণ্য করার চুক্তির মধ্যে দিয়ে. তাদের অভিজ্ঞতা সত্যই বিরল".

ভিয়েনাতে সম্মেলনের একটি ফল হতে পারতো নির্দিষ্ট দেশের তালিকা তৈরী করা, যারা তৈরী রয়েছে নিকটপ্রাচ্যকে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল বলে ঘোষণা করতে, অথবা তৈরী নয়. সেই প্রশ্নেও ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে যে, পারমানবিক অস্ত্র তৈরীর একেবারেই কাছে পৌঁছনো দেশ গুলি আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে তৈরী আছে কি না, অংশতঃ সংস্থার পর্যবেক্ষকদের নিজেদের পারমানবিক প্রকল্প গুলি পরিদর্শন করতে দেবে কি না.