দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই রাশিয়ার লোকসভা নির্বাচনের প্রচারনা জমে উঠছে। যদিও রাশিয়ার পার্লামেন্ট দুমার নিম্নকক্ষের ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ ডিসেম্বর,কিন্তু ইতিমধ্যে জরুরি ভোটগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ভোটাররা সাধারণ ভোটারদের থেকে অনেকটা পূর্বেই দুমার আসনের জন্য লড়াই করা ৭টি দলের মধ্যে যেকোন একটি দলকে ভোট দিতে পারবেন। আর এসব ভোটারা হচ্ছেন দুরবর্তী এলাকায় বসবাসরত সমুদ্রের নাবিক,মেরু এবং আবহাওয়া স্টেশন কর্মচারী,সিগনাল বাতিঘরের নিরাপত্তাকর্মীপ্রমুখ। এসব ভোটারের সংখ্যা অবশ্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজর। এদের সবাই নিজের ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন। রেডিও রাশিয়াকে এমনটি বলছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিনা কুলইয়াসোভা। তিনি বলছেন,‘৬টি মেরু স্টেশনে  ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হবে।রাশিয়ার অধিকাংশ দূরবর্তী এলাকায় যাতায়াতের জন্য নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা হেলিকপ্টার,আন্ত-দেশীয় যানবাহন এবং এমনকি হরিণের টানা স্লেজগাড়ি  ব্যবহার করবেন। যেসব ভোটাররা  দূরবর্তী দুর্গম ও প্রত্যন্ত  এলাকায় বাস করেন তাদের জন্য ৩টি থেকে সর্বোচ্চ ৮টি হরিন টানা স্লেজগাড়ি ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হবে’।

জানা যায়,জরুরি ভোটগ্রহন কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে।ইন্দোনেশিয়া,উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারি রুশি নাগরিকরা অবশ্য সবার শেষে ভোট দিতে পারবেন।তবে রাশিয়ায় অবস্থানরত রুশিরা আগামী ৪ ডিসেম্বর তাদের পছন্দের নেতাকে  ভোট দিবেন।ওই দিনই তাদের জন্য ব্যালোট বক্স অবমুক্ত রাখা হবে।অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত রুশিদের জন্য বিশ্বের মোট ১৪৬টি দেশে ৩৭৬টি ভোটকেন্দ্র খোলা হবে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র ভোটপ্রদান আয়োজন নিয়েই কাজ করছে না,সংস্থাটি একই সাথে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করছে।তবে পাবলিক  নির্বাচনী আইন ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইগর বরিসভ বলছেন যে,বিদেশি পর্যবেক্ষক তালিকায় পেশাদার গবেষকরা না হয়ে অনেক রাজনৈতিক পর্যটক স্থান পাচ্ছেন।তিনি বলছেন,‘প্রতিটি নির্বাচনী মিশনে অভিজ্ঞতা সমপন্ন ও পেশাগত নির্বাচন কর্মকর্তা থাকেন।তবে প্রশ্ন হচ্ছে,কিভাবে স্বল্পমেয়াদী ওই সব পর্যবেক্ষকদের কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা হবে।অনেক সময় ভোটগ্রহন প্রচারনায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই অনেক তরুন-তরুনিদেরকে স্বেচ্ছাসেবক কাজের জন্য নেয়া হয়’।

ইতিমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সব জাতীয় রেডিও ও টেলিভশন চ্যানেলে বিভিন্ন তর্ক-বিতর্কের অনুষ্ঠান চালছে।বহুকাল ধরেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের কাছে একটি বিষয় খুবই পরিচিত এবং তা হচ্ছে ওই সব বিতর্ক যা নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।এমনটি বলছিলেন রুশ বিশ্ব তহবিলের প্রধান কর্মকর্তা ভিয়াচেসলেভ নিকোনোভ।তিনি বলছেন,সংখ্যাগরিষ্ঠ  ভোটারদের কারণেই শক্তিশালী দলগুলো নিজেদের অবস্থান তৈরী করে নেয়।অধিকাংশ ভোটাররা এভাবেই ওই দলগুলোর মধ্যে একটা তফাত খুঁজে নেন।অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলো তর্ক-বিতর্কের কল্যানেই অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে এবং অতিরিক্ত ভোট পেতে এই প্রক্রিয়া সহায়তা করে।যদি বলা হয় কোন দলের তর্ক-বিতর্কে যাওয়া তেমন সুফল বয়ে আনবে না তাহলে অবশ্যই বলব একক রাশিয়ার।যদি বলেন তাহলে কোন দলের জন্য তা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে?।কমিউনিস্ট ও লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ অন্যান্য সব দুর্বল দলের জন্য’।  

এদিকে সর্বরাশিয়া সামাজিক মতামত গবেষনা কেন্দ্র(ভিছেইওএম)পরিচালিত এক জরিপে জানা যায়,আগামী দুমার নির্বাচনে শতকরা ৪০ ভাগ ভোট পড়বে একক রাশিয়ার পক্ষে।অন্যান্য দল যেমন-কমিউনিস্টরা ১৩ ভাগ, লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ৯ ভাগ এবং ন্যায্য রাশিয়া দলের পক্ষে শতকরা ৭ ভাগ ভোট পড়বে।অন্যদিকে জনপ্রিয়তার কাতারে স্থান না পাওয়া দল যেমন আপেল,দেশপ্রেম রাশিয়া ও সঠিক কারণ দলের পক্ষে মাত্র ১.৫ শতাংশ ভোট পড়তে পারে।তবে দুমার আসন পাওয়ার জন্য একটি দলকে অন্তত শতকরা ৭ ভাগ ভোট পেতে হবে।