রাশিয়া,কাজাকিস্তান ও বেলারুশের প্রেসিডেন্টরা গতকাল শুক্রবার একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।ইউরেশীয় অর্থনৈতিক এলাকার পরিব্যপ্তি আরও বৃদ্ধি করাই ওই চুক্তির ভবিষ্যত লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে।ইউরেশীয় অর্থনৈতিক কমিশন ওই অর্থনৈতিক এলাকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব পালন করবে।রাশিয়ার শিল্পমন্ত্রী ভিক্তর ক্রিসতেনকো এর প্রধান হিসাবে কাজ করবেন।কোন কার্যপ্রনালীর মধ্যদিয়ে এই কমিশন মস্কো,আস্তানা ও মিনস্কের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে এবং একই অর্থনৈতিক কাঠামো বা করপ্রনালী কিভাবে তৈরী হবে?।রেডিও রাশিয়া ও টেলিভিশন চ্যানেল রাশিয়া টুডে’কে দেয়া সাক্ষাত্কারে এমন সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন রাশিয়ার শিল্পমন্ত্রী ভিক্তর ক্রিসতেনকো।

এটি হবে জাতীয় সার্থের অনুকুলে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বার্থ এখানে গুরুত্ব হবে।মোট ১৭০টি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ হবে।এমনটি বলছেন ভবিষ্যত কমিশনার ও বর্তমান শিল্পমন্ত্রী ভিক্তর ক্রিসতেনকো।তিনি বলছেন, ‘ব্যপক অর্থে যে ক্ষেত্রটি রয়েছে তা হল শুল্ক নির্ধারন রাজনীতি।এর সবকিছুই জাতিয় নীতিমালা অনুযায়ী ইউরেশীয় অর্থনৈতিক কমিশনের জন্য গঠন করা হবে।আগামী ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩টি দেশের মধ্যে ১৭টি বিষয় নিয়ে একক অর্থনৈতিক এলাকার কার্যক্রম শুরু হবে।এছাড়া শুল্কপ্রনালী নির্ধারন ও একক সীমান্ত এলাকা সংক্রান্ত নতুন বিভাগ চালু হবে’।

আগামী ভবিষ্যতে কৌশলগত একক অর্থনৈতিক রাজনীতি ও আইনগত প্রক্রিয়া এবং কারিগরি মান গঠন করা হবে।তবে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক এলাকায় একক কোন মূদ্রা নির্ধারন করা হবে না,যদিও রুবলকে ইউরেশীয় অর্থনৈতিক এলাকায় আঞ্চলিক ও প্রধান রিজার্ভ মূদ্রা বলে ধরা হবে।ভিক্তর ক্রিসতেনকো বলছেন, ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল,আগামী ৩ বছর আমরা পণ্য পরিবহন,নিয়মনীতি,বিনিয়োগ,শ্রমিক,মূদ্রা,ঋণ প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে একক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করব।যদি আমরা তা করতে পারি তাহলে আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ সহজভাবেই একক মূদ্রা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে যে বিষয়ে ৩টি দেশের প্রেসিডেন্টরা গুরুত্ব দিয়েছেন’।

ইউরেশীয় অর্থনৈতিক এলাকা গঠন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো যে সন্দেহ ও সতর্ক বার্তা দিয়েছে সে বিষয় প্রশ্ন শুনে ভিক্তর ক্রিসতেনকো হাসি মুখেই বলেন,‘এক নদীতে দুইবার প্রবেশ করা যায় না।আমরা এখন একদমই নতুন বিশ্বে বাস করছি,৩টি দেশই খোলামেলা অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি।আমরা কেউই চাই না এমনকি ইচ্ছাও করছি না অন্য কোন দেশের অর্থনীতিতে জোর খাটানোর ।গ্লোবাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে  যেতে আমরা আগ্রহী।অন্যদিকে আমরা চাচ্ছি যে,এই সব প্রক্রিয়াগুলো যেন বলিষ্ঠ আকারে সহযোগি দেশের মত যেন স্থান পায়’।

ভিক্তর ক্রিসতেনকোর ভাষায়,কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তান একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠন প্রক্রিয়ায় পরবর্তী দেশ হিসেবে অংশ নিতে পারে।