পাকিস্তানে ভীষণ স্ক্যাণ্ডাল শুরু হয়েছে. সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ধরা পড়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোপনে সাহায্য পাওয়ার জন্য, যাতে তিনি দেশের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বকে ও সংযুক্ত গুপ্তচর সংস্থার নেতাদের বরখাস্ত করতে পারেন. কিছু ব্যাখ্যা নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    চুঁইয়ে পড়া খবরে পাকিস্তান ফেটে পড়েছে. সামরিক বাহিনীর লোকেরা তত্ক্ষণাত চাইছেন ব্যাখ্যা. ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি, যিনি জারদারীর কাছের লোক, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে. তিনি নাকি মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার জন্য গোপন চিঠি দিয়েছেন, যাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জেনেরালদের সঙ্গে বিরোধের সময়ে জারদারীর সাহায্য জোটে.

    এই বছরের মে মাসে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর হাতে পাকিস্তানের অ্যাবত্তাবাদে ওসামা বেন লাদেনের হত্যা কাণ্ডের পরে রাষ্ট্রপতি জারদারী ও পদাতিক বাহিনীর প্রধান দপ্তরের কর্তা জেনেরাল আশফাক কিয়ানির সম্পর্ক খুবই খারাপ হয়েছিল. পাকিস্তানের দুই উচ্চ পদস্থ নেতা একে অপরকে মার্কিন প্রশাসনের ভালোর জন্য জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দোষারোপ করেছিলেন.

    পাকিস্তানের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানো – খুবই সাধারন ব্যাপার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অখুশী হওয়ার প্রাথমিক কারণ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অবস্থান. কিন্তু এবারে আমেরিকার নাক গলানো উল্টো ফল দিতে পারে – সামরিক বাহিনীর লোকেরা নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে জারদারীকে হঠিয়ে দিতে পারে বলে মনে করেছেন রাশিয়ার রাজনীতিজ্ঞ ইভগেনি সাতানোভস্কি:

    "এই ক্ষেত্রে ক্ষমতা কমে আসা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সামরিক বাহিনীর জেনেরালদের হঠানো খুবই যুক্তিসঙ্গত দেখাচ্ছে. এটার প্রাথমিক অর্থ হল যে, এখনই নতুন সামরিক নেতৃত্ব আশফাক কিয়ানির সাথে হাত মিলিয়ে অন্য কোন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে ক্ষমতায় চলে আসতে পারে, যেমন করে এক সময়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় আরোহণ করেছিলেন নওয়াজ শরিফকে হঠিয়ে দিয়ে সেই সময়ের পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক পারভেজ মুশারফ".

    পাকিস্তানের প্রশাসন জারদারীর তরফ থেকে ওবামার কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয় অস্বীকার করেছে, কিন্তু আমেরিকার অ্যাডমিরাল মাইকেল মাল্লেন এই ধরনের চিঠির অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন.

    খুবই কঠিন হবে বলা যে, পাকিস্তানের জন্য এই স্ক্যাণ্ডালের ফল কি হবে. কিন্তু পাকিস্তানের সংবাদপত্র নিউজ যেমন জানিয়েছে যে, দেশের প্রধান ইতিমধ্যেই আশফাক কায়ানির কাছে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হয়েছেন. আমরা চেষ্টা করছি একেবারে সত্য অবধি পৌঁছনোর ও বুঝতে যে, এই ধরনের সন্দেহ কতটা সত্য ও এর পেছনে কে বা করা রয়েছে – সংবাদপত্র পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী থেকে পাওয়া বক্তব্য বলে প্রকাশ করেছে.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি নিজের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিরোধ করতে ওয়াশিংটনের দ্বারস্থ হয়েছে এই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন. একই সঙ্গে এই ইতিহাসে নিজের অংশ নেওয়া সম্বন্ধে হুসেন হাক্কানি অস্বীকার করেছেন.