পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ পূর্ব এশিয়ার সমিতির ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন, যা ১৯শে নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে হবে. গত বছরে এই মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ব এশিয়া সমিতির সম্পূর্ণ শরিক হবে.

    ২০০৫ সালে পূর্ব এশিয়া সমিতি ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সংগঠনের উদ্যোগে. পূর্ব এশিয়া সমিতির অংশীদার বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সংগঠনের দশটি দেশ, তাছাড়া রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র.

    বেশ কিছু বছর ধরে রাশিয়া পূর্ব এশিয়া সমিতির শীর্ষ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক দেশ হয়েই ছিল, যদিও সম্পূর্ণ অংশীদার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রস্তুতি প্রকাশ করেছিল. রাশিয়াকে এই সমিতিতে যোগ করে নেওয়ার জন্য আসিয়ান সংস্থার বেশীর ভাগ সদস্য দেশই সমর্থন জানিয়েছিল, আর তার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে ছিল মালয়েশিয়া. কিন্তু শীর্ষ সম্মেলনের সমস্ত অংশীদারেরা এই বিষয়ে আগ্রহী ছিল না. রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতৃত্বে ছিল অস্ট্রেলিয়া. ক্যানবেরার মতে রাশিয়া পূর্ব এশিয়া সমিতিতে অংশ গ্রহণ করলে বর্তমানের আঞ্চলিক নিরাপত্তার কাঠামোতে বিপদ হতে পারে. একই ধরনের দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া. বিশেষজ্ঞরা যেমন মনে করেছেন যে, এটা প্রাথমিক ভাবে এই কারণে যে, দুইটি দেশই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার প্রতিযোগী দেশ কাঁচা মাল ও জ্বালানী সরবরাহের বাজারে, বিশেষ করে তরল গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে. কিছু বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছিলেন যে, রাশিয়ার অংশগ্রহণে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী পক্ষে থাকার কারণ হল যে, পূর্ব এশিয়া সমিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল না.

তা স্বত্ত্বেও, পূর্ব এশিয়া সমিতির প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়া আর পেরে উঠছিল না. পর্যবেক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের অংশগ্রহণের ফলে বিশ্ব জোড়া ও আঞ্চলিক প্রকল্প গুলির ক্ষেত্রে ভাল পরিবেশ তৈরী করা সম্ভব হবে. এই কাঠামোর মধ্যে রাশিয়া, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়েও কথা বলা যেতে পারে. পূর্ব এশিয়া সমিতির মুখ্য লক্ষ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট করা হয়েছে বিনিয়োগ, জ্বালানী শক্তি, বিপর্যয় কালীণ প্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা. সমস্ত অর্থনৈতিক প্রকল্প গুলির মধ্যেই তিনটি বৃহত্ দেশ নিজেদের কথাও বলতে পারবে, কারণ আসিয়ান সংস্থার দশটি দেশের ও আঞ্চলিক ভাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বহুদিন ধরেই সাফল্যের সঙ্গে সহযোগিতা করা হচ্ছে. এই কথা সত্য যে, অনেক শক্তি ব্যয় করতে হবে, যাতে প্রত্যেক পক্ষই একটা সহমতে আসে, বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন জোর দিয়ে বলেছেন:

"আমেরিকার লোকেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই ঋজু, যা সেই ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় থেকেই চলে আসছে, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ও অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি. আর রাশিয়া ও চিন নিরাপত্তার খোলা প্রকল্প প্রস্তাব করতে চাইছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, তারা আমেরিকার প্রকল্পকে দমিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু এটা আংশিক ভাবে হলেও এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজকে বেঁধে রাখতে পারবে".

বালি শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে যে, পূর্ব এশিয়া সমিতিকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সকলে মিলে, ভারসাম্য বজায় রেখে এক খোলামেলা আলোচনার ও কাজের কাঠামো হিসাবে দেখেছে. এই ধরনের কাঠামো আন্তর্জাতিক সর্বজন স্বীকৃত আইনের ভিত্তিতে, নির্জোট সূচনায় সম্মিলিত ভাবে সমস্ত দেশেরই আইন সঙ্গত স্বার্থ বজায় রাখার ব্যবস্থা হওয়া উচিত্. মস্কো আঞ্চলিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে সমান ও অবিভক্ত নিরাপত্তার স্বপক্ষে রয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য অন্যদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার বিরোধী. তাছাড়া পূর্ব এশিয়া সমিতির সম্পূর্ণ সদস্য হিসাবে রাশিয়া তৈরী রয়েছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রকল্প রূপায়নের জন্য. এর ফলে শরিক দেশ গুলি রাশিয়ার অভিজ্ঞতা জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রের সেই সমস্ত বিষয়ে, যার মধ্যে পারমানবিক শক্তি, বিপর্যয় কালে ত্রাণ ও উদ্ধারের ক্ষেত্রে ব্যবহার যোগ্য করতে পারে.