জার্মানী, ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের প্রকল্প পেশ করেছে. তারা প্রস্তাব করেছে যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা যেন এই দেশে মানবাধিকার ভঙ্গের সমালোচনা করে. এই দলিলের সহ লেখক হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মরক্কো, জর্ডন, সৌদি আরব, লিবিয়া ও কাতার তৈরী হয়েছে বক্তৃতা দিতে.

এখন পশ্চিম ঠিক করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার. সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের মিছিল দমন করার কঠোর সমালোচনা করে এক সিদ্ধান্তের খসড়া পেশ করেছিল. মস্কো ও বেইজিং তা এক দিক দর্শী নাম দিয়েছিল ও ৪ঠা অক্টোবর ভোট দানের সময়ে ভেটো প্রয়োগ করেছিল. এর পরে রাশিয়া ও চিন একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, যে কোন রকমের নতুন নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত শুধু পরিস্থিতিকেই আরও তীক্ষ্ণ করে তুলবে. সম্ভবতঃ এই পরিস্থিতি পশ্চিমের পক্ষ থেকে হিসাবের মধ্যে আনা হয়েছিল, তাই তারা পেশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় এই প্রস্তাব দামাস্কাসের সমালোচনার নামে, যেখানে সামাজিক ও মানবিক সমস্যা নিয়ে দেখা হয়ে থাকে. একই সঙ্ঘে আরব দেশ গুলির পক্ষ থেকে এই দলিলের সমর্থন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দের উপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে তারা আরও সিদ্ধান্ত মূলক ব্যবস্থা নেয়.

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ শুধু দামাস্কাসের উপরেই চাপ না দিয়ে বরং তার বিরুদ্ধে যাওয়া সশস্ত্র বিরোধী পক্ষকেও সমালোচনা করতে আহ্বান করেছেন. তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন সেই বিষয়ে যে, এই বিরোধী পক্ষের অংশের কাজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার দিকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না, বরং চেষ্টা করা হচ্ছে প্রজাতিগত ও দলগত বিরোধকেই উত্তেজিত করার জন্য. তারই মধ্যে বিরোধী পক্ষ কিছু তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ গুলি থেকে আরও বেশী করে অস্ত্র হাতে পাচ্ছে. সম্ভবতঃ তা যাচ্ছে বেআইনি ভাবে লেবানন, ইরাক, জর্ডন থেকে.

এখানে সেই সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না যে, এই বেআইনি অস্ত্রই বৃহস্পতিবারে একদল সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া লোক ব্যবহার করেছে. তারা বিগত দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বার সরকারি ভবন আক্রমণ করেছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করে বলেছেন:

"আমি টেলিভিশনে সেই সব রিপোর্ট দেখেছি যে, কোন এক নতুন শক্তি – সিরিয়া মুক্তি বাহিনী – সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক ভবনের উপরে আক্রমণ আয়োজন করেছে. এটা এখন একেবারেই সত্য গৃহযুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে".

  বুধবারে এই দলই দামাস্কাসের গুপ্তচর পরিষেবার ঘাঁটির উপরে অভূতপূর্ব আক্রমণ করেছিল. ছয় জন নিহত হয়েছে ও অনেক লোক আহত হয়েছে. তারা রকেট দিয়ে সেই সময়ে এই ভবনের উপরে আঘাত করেছে, যেখানে বিশেষ বাহিনীর বৈঠক চলছিল, কয়েকটি সরকারি বাহিনীর ট্যাঙ্কও তারা ধ্বংস করেছে. সিরিয়ার মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব এর মধ্যেই সামরিক হাই কম্যান্ড তৈরী হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে, যারা বর্তমানের প্রশাসনের পতন চাইছে.

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা আরও বেশী করে সিরিয়ার সমস্যা সমাধানে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তির কথা বলছেন.

বৃহস্পতিবারে মস্কোতে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রাজনীতি বিভাগের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ক্যাথরিন অ্যাস্টন পশ্চিমের অবস্থানকে আরও একবার সমর্থন করেছেন: সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে বাধ্য. সের্গেই লাভরভ তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন. যদি বিরোধী পক্ষের লোকেরা বাইরের থেকে সাহায্য নিয়ে এই কথা বলে যে, দামাস্কাসের সঙ্গে আলোচনা শুধু বাশার আসাদের পদত্যাগের পরেই সম্ভব, তবে আরব দেশ গুলির লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই পক্ষকেই আলোচনায় বসতে বাধ্য করা, মূল্যহীণ ও অর্থহীণ হয়ে দাঁড়ায়.