রাশিয়াতে বিগত বছর গুলির মতো প্রতিবন্ধী সহায়তার নীতি বজায় থাকবে, দেশে এই ধরনের লোকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি তিরিশ লক্ষ. এই ধরনের লোকেদের কি করে সাহায্য করা যায়, যাতে তাঁদের জীবন একই সঙ্গে আরও আরামের, সুখের হতে পারে, তাঁদের জন্য শিক্ষা ও কর্ম সংস্থানের বন্দোবস্ত করা যায়? এই নিয়েই কথা হয়েছে মস্কো উপকণ্ঠে রুশ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের সাক্ষাত্কারের সময়ে.

    আধুনিক সুবিধা – এটা নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় পরিষেবা, কিন্তু এর সব কিছুই সাধারন লোক এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যও একই রকমের সুবিধার নয়. যেমন, মস্কোবাসীদের জন্য এত প্রিয় শহরের পরিবহন ব্যবস্থা মেট্রো: দ্রুত ও সুবিধার. শুধু অন্ধ মানুষের পক্ষে একা এই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে যাওয়া জীবনের ঝুঁকি পূর্ণ ও হুইল চেয়ারে বসা মানুষের এমনকি সঙ্গী থাকলেও সুবিধার নয়. আর এই ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে. রাশিয়াতে এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য এক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার জন্য সরকার প্রায় চার হাজার ছয় শো কোটি রুবল(এক হাজার পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের সমান)অর্থ আলাদা করে দিয়েছে. এটা এর আগের সমস্ত পরিকল্পনাতে যত খরচ করা হয়েছে তার থেকে প্রায় দশ গুণ বেশী, এই কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "এই বছরে রাষ্ট্রীয় বাজেটে এক হাজার পাঁচশো কোটি রুবল (পাঁচ কোটি ডলার) প্রতিবন্ধী ও প্রাক্তন সৈন্যদের প্রযুক্তি কিনে দেওয়ার জন্য আলাদা করে দেওয়া হয়েছে. আর কিছু দিন আগে এই অর্থের পরিমান আরও বেড়েছে. আমি এক দলিলে স্বাক্ষর করেছি, যাতে "বাজেট সংক্রান্ত" আইন পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে এই পরিমান আরও আটশো কোটি রুবল বেড়েছে (২৫ কোটি ডলার). তার মধ্যে বেশীর ভাগ খরচ করা হবে আধুনিক হুইল চেয়ার কেনার জন্য".

    সকলেই যাঁরা দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত লোক. তাঁরা শিক্ষা পেয়েছেন, তাঁদের কাজ রয়েছে. এক প্রতিবন্ধী হুইল চেয়ারে বসা ব্যবসায়ী আন্দ্রেই এলাগিন সহজ ও হাল্কা হুইল চেয়ার বানানোর কোম্পানী তৈরী করেছেন. সেই হুইল চেয়ারে বসে রাশিয়ার প্যারা অলিম্পিক দলের লোকেরা অনেক পদক জিতেছেন. অন্ধ গায়িকা দিয়ানা গুর্তস্কায়া নিজের নামে তহবিল খুলে তাঁরই মতো সমস্যা যাদের সেই সমস্ত বাচ্চাদের সাহায্য করেন. কিন্তু এই সমস্ত লোকেরাই শুধু তাঁদের মানসিক শক্তির জোরেই বড় হন নি, বরং তাঁদের বাবা, মা, আত্মীয়দের সাহায্য পেয়েছেন বলেও, যাঁরা সব কিছুই করেছেন, যাতে তাঁরা কষ্ট না পান ও সমাজের সাথে মিশতে পারেন. এখন এই সব সমস্যার কিছু অংশ সরকার নিজের উপরে নিতে তৈরী হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "আগের বছর গুলিতে আমাদের ধারণা এই ধরনের ছিল: শারীরিক কারণে সীমিত ক্ষমতার লোকেরা যেন কাজ না করেন. এখন পরিস্থিতি একেবারেই উল্টো. আমরা এই দিকে এর মধ্যেই কিছু করে উঠতে পেরেছি. তেরো হাজারেরও বেশী কর্মদাতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মরত লোক অনেক রকমের সাহায্য পেয়েছেন. বিশেষ ধরনের পরিকল্পনা তাঁদের জন্য নেওয়া হচ্ছে".

    কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আগের মতোই থেকে যাচ্ছে – এটা প্রতিবন্ধী লোকদের কাজের ব্যবস্থা. কর্ম দাতারা এখনও এই ধরনের লোকদের কাজে নিতে উত্সাহ বোধ করেন না. আর এখানেই, মেদভেদেভ মনে করেন যে, প্রতিবন্ধীদের জন্য যত আইন রয়েছে, তার একটা পুনর্বিচার করা দরকার রয়েছে.