১৭ – ১৮ই নভেম্বর ভিয়েনাতে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার পরিচালকদের সভা বসছে. এই সভার আলোচ্য বিষয়ে মধ্যে – ইরান থেকে উদ্ভূত পারমানবিক বিপদ সম্পর্কে সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানো প্রকাশিত রিপোর্ট, যাতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইরান গণহত্যার উপযুক্ত অস্ত্র তৈরী করছে. এর উত্তরে ইরান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা যুক্তি সঙ্গত প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে ও তা রিপোর্ট হিসাবে পেশ করবে ও বিশ্বের সমস্ত আগ্রহী সংস্থার কাছেই তা পাঠাবে. এই বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলি আকবর সালেখি জানিয়েছেন.

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার বিবাদ বাধানোর মতো রিপোর্ট এমনিতেই ইরানের চারপাশে স্নায়ু বৈকল্য হওয়ার মতো পরিস্থিতিকে আরও আবারও তীক্ষ্ণ করেছে. এই রিপোর্টের প্রায় প্রতিটি ছত্রে এই দেশের পারমানবিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য সম্বন্ধে উদ্বেগ নিয়ে ঘুরিয়ে মন্তব্য করা দিয়ে ভর্তি. এরই মধ্যে যে সমস্ত খবর এখানে দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে শুধুই ধারণা. এর সব কটিই আগে আলাদা করে প্রকাশিত হয়েছিল – আর তা কোন বিশেষ আগ্রহের কারণ হয় নি. কিন্তু রিপোর্টে আলাদা খবর গুলিকে একসাথে করে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নামে প্রকাশ করা হওয়াতে যা অপেক্ষা করা হয়েছে সেই রকমেরই ফল হয়েছে: পশ্চিম ও ইজরায়েল নতুন শক্তি নিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে, ইরান বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক ও তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা নেওয়া প্রয়োজন. রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিজেদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার রিপোর্ট – কিছু ধারণার যোগফল ছাড়া অন্য কিছু নয়. এই রিপোর্টে পারমানবিক পরিকল্পনার সামরিক লক্ষ্য নিয়ে কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, আর এই প্রশ্নে ইচ্ছে করেই রাজনৈতিক রং চড়ানো হয়েছে.

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভলোদিন স্বীকার করে বলেছেন:

"রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে যে, আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে. এর কোন বিকল্প নেই. দেখাই যাচ্ছে যে, পশ্চিমের লিবিয়াতে হুজুগে করা কাজ বর্তমানে কানা গলিতে গিয়ে আটকেছে. একই রকমের পরিস্থিতি – সিরিয়াতেও. পশ্চিম এই দুটি বিরোধকে একসাথে সামলাতে পারবে না, তার ওপরে আবার ইরানের সঙ্গে বিরোধ. বিভিন্ন পক্ষেরা কি ধরনের লক্ষ্য নিয়ে চলছে? আমি মনে করি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে নিজেদের সংরক্ষণশীল মনোভাব সম্পন্ন নির্বাচকদের দেখাতে যে, তারা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তিত ও অস্ত্র প্রসার রোধের নিয়ম বজায় রাখতে চেয়ে এবং ইজরায়েলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে চেয়ে এই কাজ করছে. আর পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল. এর মধ্যেই সমস্ত প্রমূখ বিশ্লেষকেরা, যাঁরা পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা মন্তব্য করেছেন যে, লিবিয়ার সমস্যা অনেকটাই অস্ত্র প্রসার নিরোধ করার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে. ইরান সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল. তারা নিজেরাই এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ও এই বিষয়টি মনে রাখা কর্তব্য. ইরানের প্রতি সমস্ত রকমের চাপ সৃষ্টি করাই হিতে বিপরীত হতে পারে".

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার রিপোর্ট তা স্বত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ইজরায়েলে ও ইউরোপীয় সঙ্ঘে নতুন করে তেহরানের উপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্য ভিত্তি হয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘের সেই ধরনের বড় স্তম্ভ, যেমন জার্মানী ও ফ্রান্স সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকে বাদ দিয়েছে. কিন্তু বিগত কিছু দিন আগে ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ইহুদী রাষ্ট্রের কিছু নেতার জন্য এই ধরনের সম্ভাবনা একেবারেই বাস্তব. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ মনে করেন যে, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার পাশে যে ঘটনা পরম্পরা সাজানো হয়েছে, তা আসলে সেখানের প্রশাসনের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে.

পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার রিপোর্টের আলোচনায় এমনকি জন সমক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যুত গতিতে যুদ্ধের পট নিয়ে আলোচনা করে ফেলা হয়েছে. এই প্রসঙ্গে পশ্চিম ও ইজরায়েলের পরিকল্পনাকারীরা যেন বুমেরাং ফল হতে পারে, তা ভুলেই গিয়েছেন. অন্তহীণ চাপের মুখে পড়ে, তেহরান সত্যি করেই পারমানবিক বিপরীত ভরের কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবতে পারে, যাতে নিজেদের পশ্চিমের হুমকি থেকে রক্ষা করা যায়. ইরাক ও লিবিয়ার ভাগ্য ইরানের প্রশাসকেরা নিজেদের দেশের উপরে মেপে দেখতে পারেন না. অন্ততঃ, তেহরানের ঘোষণা খুবই নির্দিষ্ট: ইরান কোন রকমের আগ্রাসন অন্য দেশের উপরে করতে চায় না, কিন্তু তাদের প্রতি কোন রকমের আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশিত হলে সবচেয়ে বিধ্বংসী আঘাত দিয়ে প্রত্যুত্তর দেবে. একই সঙ্গে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের নেতারা বাদ দিচ্ছেন না যে, আলোচনা প্রক্রিয়া চালানোর প্রয়োজনীয়তাকে, যে বিষয়ে রাশিয়া জোর দিয়েছে. কিন্তু এই না ফিরে আসার বিন্দু কি পশ্চিমের রাজনৈতিক আমলা যন্ত্র পার হয়ে যাবে না, যখন তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই হবে অসম্ভব? একেবারে আধুনিক ইতিহাসে এই রকম কিন্তু হয়েছে আগেও.