0রাশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে ৯৩টি প্রাথমিক প্রয়োজনের পেশা ও বিশেষ বিষয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে তালিকাভুক্ত করে স্বীকৃতী দেওয়া হয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে বেশী করে প্রযুক্তিগত বিষয় সেই সমস্ত ক্ষেত্রে, যেমন পারমানবিক শক্তি, মহাকাশ ও কম্পিউটার প্রযুক্তি, জ্বালানী শক্তি সাশ্রয়, আর তারই সঙ্গে ঔষধি বিজ্ঞান. বিশিষ্ট তালিকায় রয়েছে বাষ্প চালিত টারবাইনের চালক ও ট্রান্সফর্মার জোড়া লাগানোর লোক, কম্পিউটার প্রোগ্রাম লেখার লোক.

    এই স্বীকৃত তালিকা শুধু বাস্তবকেই মেনে নেওয়া নয়. আশা করা হয়েছে যে, আগামী বছর থেকে তালিকা ভুক্ত পেশাদার লোকেরা আলাদা করে অর্থও পাবেন. এখনই পরিকল্পনা করা হয়েছে দুটি স্টাইপেণ্ডের বিভাগ: রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ৩০০০ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০০. তার অর্থ মূল্য ২০০০ রুবল (৬০ ডলার) থেকে ১৪০০০ রুবল (প্রায় ৫০০ ডলার) পর্যন্ত.

    তালিকা করে পেশা প্রকাশ করার অর্থ এই নয় যে, সরকারের বাকি পেশার লোক দরকার নেই, এই কথা জোর দিয়ে বলেছেন জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ, তিনি বলেছেন:

    "এখানে কথা হচ্ছে বর্তমানে যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে তার, যা খুবই গুরুতর. তা এমন যে, আমাদের সর্বাধুনিক না হওয়া শিল্পও বিভিন্ন বিভাগের এঞ্জিনিয়ার কর্মী চাইছে অনেক পরিমানে. আর শিক্ষা ব্যবস্থা এই চাহিদা সম্পূর্ণ ভাবে মেটাতে পারছে না, তা যেমন সংখ্যায়, তেমনই গুণগত ভাবেও. এটা সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত যে, বাজারে শিক্ষা পরিষেবার গঠন পাল্টে রয়েছে. লোকে পড়তে আসে সেই সমস্ত তথাকথিত সম্মানজনক পেশার জন্য – মার্কেটিং, উকিল, অর্থনীতিবিদ হওয়ার জন্য, আর অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বিদ্যায় পারদর্শী হওয়ার মতো লোক আর পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ তা জনপ্রিয় নয়. তাই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে – এই ধরনের পেশার জনপ্রিয়তা বাড়ানো, অল্পবয়সী লোকেদের দিকে নজর দেওয়া, যারা নিজেদের পেশা এখন বাছাই করছেন, তারা যেন প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেন. তাই এখানে বর্তমানের ভারসাম্যহীণতার কথা মাথায় রেখে শিক্ষা পরিষেবার আদল পাল্টানোর চেষ্টা করা হচ্ছে. এই তালিকায় শিক্ষকের স্থান না থাকার কারণ হল, বর্তমানে বহু সংখ্যক শিক্ষক শিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নানা বিভাগে বহু বৃত্তিধারী লোক বের হয়েছেন".

    আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান সংস্থা "ফাভোরিট" তথ্য দিয়েছে যে, আগামী দশকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পেশা হবে বাস্তু নির্মাণ বিশেষজ্ঞ এঞ্জিনিয়ার, যাঁরা শুধু বাড়ীই বানাবেন না, অন্যান্য পরিকাঠামো ও শিল্প ক্ষেত্রও নির্মাণ করবেন, তাঁদের সঙ্গে প্রয়োজন পড়বে মাঝারি স্তরের কাজ চালানোর মতো প্রশাসনের লোক ও কর্মী. প্রয়োজন পড়বে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পেশাদার লোকের. যাঁরা এখন কলা নিয়ে পড়ছেন, তাঁদেরও কাজ জুটবে. অনুবাদকদের দামও থেকেই যাবে, বিশেষত পূর্ব দিকের ভাষা জানা লোকেদের. চিকিত্সক ও শিক্ষকদের পেশাতেও কোন কাজের অভাব থাকবে না ২০২০ সাল পর্যন্ত. জন্ম হার বেড়ে যাওয়াতে শিক্ষক ও চিকিত্সকদের মর্যাদাও উঁচু স্তর অবধি বৃদ্ধি পাবে.