তুর্কমেনিয়ার রাষ্ট্রপতি গুরবানগুলী বেরদীমুহামেদভ ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী ইসলামাবাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তুর্কমেনিয়া– আফগানিস্তান- পাকিস্তান– ভারত (তাপি) গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর কাজ দ্রুত করার. বিশদ করে এই সম্বন্ধে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    তাপি গ্যাস পাইপ লাইন, দৈর্ঘ্যে ১৭০০ কিলোমিটারেরও বেশী, শুরু হবে তুর্কমেনিয়ার পূর্ব দিকে, যেখানে রয়েছে বৃহত্তম গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্র ও পৌঁছবে পাক – ভারত সীমান্তে ভারতের ফাজিলকা নামের জনপদে. এই গ্যাস পাইপ লাইনের ক্ষমতা হবে তিন হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস সরবরাহ.

    বিশেষজ্ঞদের মতে গ্যাস পাইপ লাইন তাপি ইরান থেকে আফগানিস্তান হয়ে ভারত ও পাকিস্তান অবধি গ্যাস পাইপ লাইন ইপি (ইরান- পাকিস্তান- ভারত)এর চেয়েও বেশী সম্ভাবনাময় প্রকল্প. এই প্রকল্প বেশ কিছু দেশের পক্ষ থেকে সমর্থন পেয়েছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে, আর তার সঙ্গে সেই সমস্ত প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা, যেমন এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সমর্থন. তাপি গ্যাস পাইপ লাইনের সপক্ষে রাশিয়াও বক্তব্য জানিয়েছে.

    একই সময়ে ইরানের ভারত ও পাকিস্তান পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর ভবিষ্যত এখনও অনিশ্চিত. তেহরানকে নিজস্ব পারমানবিক বোমা বানানোর বিষয়ে অভিযোগ করে ওয়াশিংটন এই প্রকল্পকে বন্ধ করে দিতে চাইছে, অন্যান্য দেশকেও এই প্রকল্পে অংশ নিতে দিচ্ছে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ভারত ইপি প্রকল্পে নিজেদের অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে. পাকিস্তান, এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু ইরানের সঙ্গে গ্যাসের দাম ও অন্যান্য কিছু শর্তের বিষয়ে একমত হতে পারছে না.

    একই সময়ে এই দুটি প্রকল্পই আঞ্চলিক ভাবে দেশ গুলির জন্য আগ্রহোদ্দীপক, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলন শিল্পের সংঘ সভাপতি গেন্নাদি শ্মাল, তিনি বলেছেন"

    "বহু প্রকল্পই, যা এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে করতে চাওয়া হয়েছে, তর মধ্যে বিশেষত মধ্য এশিয়াতে, তা এই অঞ্চলের দেশ গুলির জন্য খুবই অর্থবহ. আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও অন্য বহু দেশ নিজেদের প্রয়োজনের উপযুক্ত যথেষ্ট রসদ পাচ্ছে না, তাই বাইরে থেকে তা পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী".

    তুর্কমেনিয়ার জন্য দক্ষিণ এশিয়াতে গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর এই প্রকল্প আগ্রহোদ্দীপক, কারণ এটা হবে গ্যাস রপ্তানীর নতুন পথ. আজ তুর্কমেনিয়া গ্যাস উত্তোলন করছে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস ও আগামী বছর গুলিতে আরও বেশী উত্তোলন করার সম্ভাবনা রাখে. দেশ আগ্রহী নিজেদের জ্বালানী শক্তি রপ্তানী বহুবিধ করতে , নতুন গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী করায়.

    তাপি প্রকল্পে আগ্রহী পাকিস্তানও. তাদের দেশের প্রয়োজন এখন তাদের দেশের ভিতরে উত্তোলনের ক্ষমতাকে পেরিয়ে যাচ্ছে. পাকিস্তান এই অভাব পূরণ করতে চায় তুর্কমেনিয়ার গ্যাস দিয়ে. ইসলামাবাদ একই সঙ্গে আশা করে গ্যাস ট্রানজিট থেকে বেশ অনেক পরিমানে অর্থ পাওয়ার. আফগানিস্তানও গ্যাস পাইপ লাইন বসানো হলে তার থেকে লাভই করবে.

    ভারতের তাপি প্রকল্পের দিকে মনোযোগ একই সঙ্গে অনেক কারণের জন্য রয়েছে. জ্বালানী বিভাগে তীক্ষ্ণ অনুভূত প্রয়োজন ছাড়াও, এখানে নিজেদের পক্ষ থেকে আগ্রহী হয়েছেন ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস বিষয়ের শিল্পের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহল.

    তাপি প্রকল্পের একটি উল্লেখ যোগ্য লক্ষণ হল যে, চারটি দেশই চুক্তি করেছে বেশীর ভাগ কাজের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে বাইরের দেশের সাহায্য নেওয়ার. গ্যাস পাইপ লাইন বসানোর কাজে ঠিক করা হয়েছে প্রখ্যাত বিদেশী কোম্পানী গুলিকে আহ্বান করার. তাদের মধ্যে রাশিয়ার গাজপ্রম কোম্পানীও রয়েছে. এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এই বছরের মে মাসে দিল্লী শহরে চারটি দেশের খনিজ তেল ও গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকের শেষে. এখন তা আবার করে সমর্থন করা হয়েছে তুর্কমেনিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিদের উপস্থিতিতে ইসলামাবাদে.