মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে চিনকে সামরিক ভাবে বেঁধে রাখার চেষ্টা করতে. রুশ বিশেষজ্ঞরা পেন্টাগনে চিনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া করার বিশেষ দপ্তর খোলাকে এই ভাবেই দেখছেন. এই দপ্তরের লক্ষ্য – চিনের উপরে সমুদ্র ও আকাশ পথে আঘাত হানার পরিকল্পনা করা, মহাকাশে ও সাইবার ক্ষেত্রে আঘাত করা ও চিনের উপগ্রহ বিরোধী ও যুদ্ধ জাহাজ বিরোধী রকেট আটকে দেওয়া.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে নিজেদের সামরিক স্ট্র্যাটেজি ঘুরিয়ে দেওয়া, "রেডিও রাশিয়ার" কাছে এই প্রসঙ্গে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই আরবাতভ মন্তব্য করেছেন. এর আগে সামরিক স্ট্র্যাটেজির লক্ষ্য ছিল রাশিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো অপারেশনের পরিকল্পনা, কিন্তু আঞ্চলিক যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি সেখানে ছিল না. পেন্টাগনের বিশেষ দপ্তরের চিনকে বেঁধে রাখার ধারণা বলে যে, বর্তমানে চিনকেই এই অঞ্চলের প্রধান প্রতিযোগী বলে মনে করা হয়েছে, উল্লেখ করে আলেক্সেই আরবাতভ বলেছেন:

"সামরিক স্ট্র্যাটেজি সবসময়েই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি চিন্তা করে করা হয়ে থাকে. এর মানে এই নয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে. তারা এখন ভবিষ্যতে চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্তরে সমান হয়ে যেতে পারে বলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে আক্রমণ প্রতিহত করছে. আমেরিকার পরিকল্পনার রূপকারেরা এরই সঙ্গে সামরিক রাজনীতিকেও টেনে নিচ্ছেন, যা চিনকে বেঁধে রাখার জন্য দরকার, যাতে সামরিক বিরোধ শুরু না হয়ে যায়. তবুও যদি এই ধরনের বিরোধ উপস্থিত হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই তৈরী থাকতে চায় চিনকে দ্রুত পরাস্ত করার জন্য".

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক ভাবে তাইওয়ানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত, যাদের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ, মনে করেছেন আলেক্সেই আরবাতভ. চিন এই সমস্যার সামরিক সমাধানকেও বাদ দিচ্ছে না, যদিও উপসাগরের উভয় পক্ষই এটা চায় না. এই প্রসঙ্গে পেন্টাগনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল দেখানো যে, তারা আঞ্চলিক ভাবে এখানকার জোটের দেশ গুলিকে বিপদের সময়ে রেখে চলে যাবে না. প্রথমতঃ, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে. আলেক্সেই আরবাতভ মনে করেন যে, ওয়াশিংটন তাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, সামরিক ভাবে চিনকে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্য. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে যে, একমাত্র এই ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হলেই, চিন নিজেদের এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক ভাবে ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্খার বিষয়ে শক্তি প্রয়োগের সাহস করবে না.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়েভ নিজের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন নিজেদের দিক থেকে সারিক শক্তিকে সেই সমস্ত এলাকাতেই পাঠিয়ে দিতে চাইছে, যেখান থেকে তৈরী হচ্ছে নতুন শক্তির কেন্দ্র, তিনি বলেছেন:

"ব্রিকস দেশ গুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শক্তির কেন্দ্র বলে মনে করা হয়েছে, আর তাদের মধ্যে প্রথম হল চিন. এই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি উঠতি রাষ্ট্র রয়েছে – ভারত. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতকে দেখতে চাওয়া হয়েছে সম্ভাব্য সহকর্মী দেশ হিসাবে. যদিও, হতে পারে যে, তারা ভারতকে জোটের মধ্যেও দেখতে চায়. তারা এমনকি রাশিয়াকেও সহকর্মী দেশ বলে মনে করে দেখছে, যাদের ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যদি চিন নিজেকে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ হিসাবে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়া থেকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে চায়".

যাই হোক না কেন, পাভেল জোলোতারিয়েভ উল্লেখ করেছেন যে, পেন্টাগনে চিনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উপরেও খেয়াল করা হয়েছে. তাদের বিশেষ করে উদ্বিগ্ন করেছে চিনের উপগ্রহ বিরোধী ব্যবস্থা, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণের প্রকল্প, বিমান বিরোধী ব্যালিস্টিক মিসাইল বসানো. ওয়াশিংটনে খুবই উদ্বেগের সঙ্গে দেখা হয়েছে যে, বেইজিং জাপানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট বিরোধী আঞ্চলিক ব্যবস্থার উন্নতির বিরুদ্ধে নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক শক্তিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় স্ট্র্যাটেজিতে দেখা হয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তর্কাতীত প্রবেশাধিকার. বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, চিন এই ক্ষেত্রে খুবই গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে.