আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন অতিথিদের অপেক্ষায় রয়েছে. বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে সোয়ুজ মহাকাশযানে সপলভাবে যাত্রা করেছে পরবর্তী কর্মীদল. এ দলে রয়েছেন দুজন রাশিয়ার এবং একজন মার্কিনী মহাকাশচারী.

   রাশিয়ার বৈমানিক – কর্নেল আন্তোন শ্কাপলেরোভ এবং লেফটেনেন্ট কর্নেল আনাতোলি ইভানিশিনের জন্য এটি হল প্রথম মহাকাশযাত্রা. এ দুজনকে মহাকাশচারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ২০০১ সালে এবং তাঁরা পুরে শিক্ষার কোর্স শেষ করেছেন. দুবার তাঁরা ডুপ্লিকেট কর্মীদলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন. অবশেষে তাঁরা মহাকাশযাত্রা করছেন. দলের তৃতীয় জন – মার্কিনী মহাকাশচারী ড্যানিয়েল বার্বাঙ্ক ২০০০ সালে এবং ২০০৬ সালে “শাটল” মহাকাশযানে মহাকাশযাত্রা করেছেন.

   স্টেশনে কর্মীদলকে চার মাসের বেশি সময় থাকতে হবে, কারণ এ মহাকাশযাত্রার সময় কমিয়ে দেওয়া “সোয়ুজ তে.এম.এ-২২” মহাকাশযানের রওনা হওয়ার সময় বদলানোর জন্য, কারণ এবছরের আগস্টে মালবাহী “প্রোগ্রেস” মহাকাশযানের দুর্ঘটনা ঘটেছিল. তবে, ঐ দুঃখজনক অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, মহাকাশযাত্রায় প্রাণ হারানোর ঝুঁকিও আছে.

   কক্ষপথে অতিথিদের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করে আছে রাশিয়ার সের্গেই ভোলকোভ এবং জাপানের সাতোসি ফুরুকাওয়া. নতুন দলের কাজের সূচিতে আছে – দুটি মালবাহী “প্রোগ্রেস” মহাকাশযান গ্রহণ করা এবং তার মাল খালাস করা, “চিবিস” মার্কা মাইক্রো-স্পুতনিক ক্ষেপণ করা, যার উদ্দেশ্য হল পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বৈদ্যুতিক চার্জ অধ্যয়ন করা. খোলা মহাকাশে বের হওয়াও পরিকল্পিত আছে, স্টেশনের বাইরের অংশে অতিরিক্ত উল্কাবিরোধী প্যানেল বসানো. এ অভিযানের সময় শুধু রাশিয়ার পক্ষেরই ৩৭টি পরীক্ষা চালানোর কথা.

   নতুন কর্মীদলকে স্টেশনে নিয়ে যাওয়া “সোয়ুজ তে.এম.এ-২২” মার্কা মহাকাশযানটি এ সিরিজের শেষ মহাকাশযান. তাতে এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে নিয়ন্ত্রণের অ্যানালজিক্যাল সিস্টেম. এর স্থান নেবে“সোয়ুজ তে.এম.এ-এম” মার্কা মহাকাশযান, যা ইতিমধ্যে দুবার মহাকাশযাত্রা করেছে.তাতে আছে ডিজিটাল প্রোগ্রাম. বর্তমানে রাশিয়ার বাহকগুলি হল একমাত্র যা মহাকাশচারীদের কক্ষপথে নিয়ে যায়, কারণ মার্কিনী শাটল কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে.এমন পরিস্থিতি থাকবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত, “রেডিও রাশিয়াকে” বলেন “মহাকাশযাত্রার খবর” নামে পত্রিকার সম্পাদক আন্দ্রেই ক্রাসিলনিকোভঃ

   এ সময় পর্যন্ত “নাসা” এবং “রসকসমস” চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মার্কিনী, ইউরোপীয়, জাপানী, কানাডিয়ান মহাকাশচারীদের স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য. “নাসায়” অনুমান করা হচ্ছে যে, ২০১৬ সাল নাগাদ “ড্রাগোন” মার্কা কমার্শিয়াল মানবচালিত মহাকাশযান তৈরি হয়ে যাবে, যা তৈরি করছে মার্কিনী কোম্পানি “স্পেস এক্স”.

   বিশেষজ্ঞের কথায়, নতুন মহাকাশযান তৈরী নিয়ে “বোয়িং” কোম্পানিও কাজ করছে. তবে তা পরিপ্রেক্ষিতের ব্যাপার. আর যদি বিবেচনায় রাখা হয় যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ব্যবহারের মেয়াদ চিরন্তন নয়, যদিও তা ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রলম্বন করা যেতে পারে, তাই বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছেন এর বদলে কি আসবে. আপাতত দুটি প্রধান মহাজাগতিক স্কুল – রুশী ও মার্কিনী – মহাকাশ আত্তীকরণের নিজের নিজের পথ প্রস্তাব করছেন, বলেন আন্দ্রেই ক্রাসিলনিকোভঃ

   যেমন, রাশিয়া উচ্চ অক্ষের কক্ষপথীয় স্টেশন তৈরীর কথা বিবেচনা করছে, যা রাশিয়ার ভূভাগের বেশির ভাগ অংশের উপর দিয়ে উড়বে এবং প্রয়োজন মতো ভূভাগের ছবি তুলবে. এ স্টেশন শুধু মানবচালিত ব্যবস্থাতেই শুধু কাজ করবে না মিশ্রিত ব্যবস্থায় তা কাজ করবে. “রসকসমসের” পরিকল্পনায় সেই সঙ্গে আছে – কক্ষপথীয় মানবচালিত জোড়াই ও ব্যবহারের সমাহার, যাতে থাকবে মহাজাগতিক সরঞ্জাম, যা যাত্রা করবে অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহের দিকে, যেমন চাঁদ, মঙ্গলগ্রহ ইত্যাদি.

   আর মার্কিনীদের সম্বন্ধে বলা যায় যে, তারা চাঁদ এবং মঙ্গলগ্রহের অধ্যয়নে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছে. তবে মানবচালিত মহাকাশযাত্রা হল সুদূর পরিপ্রেক্ষিতের বিষয়. আর সকলেই স্বীকার করে যে, তা পুরণের জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন.

   আপাতত স্টেশন কর্মীদের অপেক্ষায় রয়েছে.আর এ হল আজকের মহাকাশযাত্রাবিদ্যার বাস্তবতা. যোগ করতে চাই যে, মহাকাশচারীরা সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং পরম্পরাকে শ্রদ্ধা করে, যা শুরু করে গেছেন পৃথিবীর প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিন. তাঁরা মহাকাশযাত্রার আগে যে ঘরে রাত কাটিয়েছেন তার দরজায় নিজেদের স্বাক্ষর রেখে গেছেন. আর মহাকাশযাত্রার পরিচলকমন্ডলীর কাছ থেকে মাথায় চাঁটি পেয়েছেন.