মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্কের জন কেনেডি বিমানবন্দরে ভারতের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালামকে খানাতল্লাসী করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে. ভারত প্রতিবাদ জানানোর পরে নয়াদিল্লীতে মার্কিনী দূতাবাস ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে অসুবিধা সৃস্টি করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে. আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ এই প্রসঙ্গে লিখছেনঃ

      

    অসুবিধার সৃস্টি করা খুব মৃদুস্বরে বলা হয়েছে. আব্দুল কালামকে সারা বিশ্ব জানে ও শ্রদ্ধা করে. তিনি শুধুমাত্র ভারতবর্ষের ভূতপূর্ব রাষ্ট্রপতি ও প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ নয়, আব্দুল কালাম বিশ্বের পরিসরে খ্যাতনামা বিজ্ঞানী. নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে তাকে নিয়ণ্ত্রণ ব্যবস্থা অতিক্রম করতে হয়, যদিও ভি.আই.পি. হিসাবে তাঁর তা অগ্রাহ্য করার অধিকার ছিল. কিন্তু যখন তিনি বিমানে চড়েছেন, তখন ৮০ বছর বয়সী বিজ্ঞানীকে জুতো ও কোট খুলতে বাধ্য করা হয়, এবং পরীক্ষা করার জন্য সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়, যদিও ভারতীয় বিমান কোম্পানির প্রতিনিধিরা দৃঢ়স্বরে প্রতিবাদ জানিয়েছিল. ভারতবাসী এই ঘটনায় অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ.  

      ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এই ব্যাপারে মনোযোগ আকর্ষণ করাচ্ছে, যে ঘটনাটি ঘটেছিল ২৯শে সেপ্টেম্বর. কিন্তু সরকারিভাবে মা৪কিনী দূতাবাস শুধু এখন ক্ষমা চেয়েছে, যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক তীব্র প্রতিবাদ করেছে. হয়তো বা প্রতিবাদ করা না হলে মার্কিনী দূতাবাস দুঃখপ্রকাশও করতো না. এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির নাগরিকদের সাথে মার্কিনীদের অনুরূপ আচরণ নিয়মে পর্যবসিত হয়েছে. শুধুমাত্র গত বছরের ঘটনার কথাই স্মরণ করুন, যখন আমেরিকার জ্যাকসন শহরে আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মীরা শঙ্করকে বিমানবন্দরে খানাতল্লাসী করা হয়, এই অজুহাতে, যে স্ক্যানার নাকি অচল ছিল. তাকে খানাতল্লাসী করার আসল কারন ছিল তার পোষাক. তিনি প্রথাগত ভারতীয় পোষাকে ছিলেন. আমেরিকায় বিমানবন্দরে ভারতের অসামরিক বিমানমণ্ত্রী প্রফুল্ল প্যাটেলকেও হেনস্থা করা হয়েছিল. পরে ব্যাখ্যা করা হয়, যে তাকে ঐ একই নামের কালো তালিকাভুক্ত এক মার্কিনী নাগরিকের সাথে তারা গুলিয়ে ফেলেছিল. এবং ঘটনার উদাহরণ কম নেই.