বাণিজ্যকে আরও অবাধ করা হলে, সেটা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যে মঙ্গলজনক হবে. হনলুলুতে ১৯ তম অধিবেশনের শেষে নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন. ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যে এই অধিবেশন বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হল. কিন্তু একমাত্র এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, যারা পৃথিবীর ৬০ শতাংশ পণ্য উত্পাদন করে, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকে পুণরুদ্ধার করতে পারে.

      সামনের বছরে, যখন পরবর্তী অধিবেশন হবে রাশিয়ায়, তখনো এই অভিমুখে কাজ চলবে, বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ সমাপ্তিমুলক সাংবাদিক সম্মেলনে.

      আমরা পরিকাঠামোর  নতুন নতুন প্রকল্প, খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানীর নিরাপত্তা সুরক্ষিত করার জন্য একসাথে কাজ করবো. রাশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় সব কিছু করবো. সামনের বছরে সেটাই হবে আমাদের মুখ্য কাজ.

      হনলুলুতে আরো একটা আলোচ্য বিষয় ছিল – রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম. এখানে উল্লেখ করা দরকার, যে বহু দেশই এই প্রসঙ্গে কথা বলে, কিন্তু গঠণমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করতে অনেকেই তৈরি নয়. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার সামনে সারা বিশ্বকে উদাহরণ দেখানোর অভূতপূর্ব সুযোগ এসেছে – ২০১৫ সাল পর্যন্ত অবাধ বাণিজ্যের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে. বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি এই অঞ্চলের দেশগুলিকে অর্থনীতির ফলপ্রসূ পরিচালনা পদ্ধতি নির্ণয় করতে সাহায্য করবে.

   রাশিয়া ও আমেরিকার রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে সর্বশেষ আলাপ-আলোচনা ছিল ৩ বছরের সম্মিলিত কার্যকরী সহযোগিতার ইতিরূপ. 

      আমাদের এমন সাফল্য আছে, যা প্রকাশ করতে লজ্জা করে না. যেমন আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রের সংখ্যার সীমাবদ্ধকরন, বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আমাদের সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত. রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল. দুর্ভাগ্যবশতঃ রাশিয়া এই মুহুর্তে বুঝতে পারছে না, যে আমাদের শরিকরা ঠিক কি চায়. আমার মনে হয়, যে অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া এই প্রশ্নে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে.

      খুব শীঘ্রই এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সংস্থার ছত্রছায়ায় অভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনীতির পত্তন করা হবে, যা বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও বাজারকে আরো ঘণিষ্ঠ করবে. শীর্ষবৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যে সংস্থার সদস্য দেশগুলির মুখ্য কর্তব্য হবে পারস্পারিক ঐকান্তিকরন ও বানিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ. যাতে তা বাস্তবায়িত হতে পারে, সেজন্য ফলপ্রসূ বাজারী অর্থনীতিকে মদত দেওয়ার দরকার, যার মূল উদ্দেশ্য হবে –এই অঞ্চলে উদ্ভাবনী শিল্পের উন্নয়ন, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধি করা সম্ভবপর হবে. এই অভিমুখে অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নাগরিকদের গতিবিধির উপর সীমাবদ্ধতা কমানো.

       সহযোগিতার আরো একটা ক্ষেত্র হল – বিশ্বের পরিসরে লো-কার্বন অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরাণ্বিত করা, যা নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃস্টি করতে সাহায্য করবে. উন্নয়নের হার বৃদ্ধি করার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে ২০৩৫ সালের মধ্যে স্বল্প শক্তির শিল্পের বিকাশ.