‘জটিল সব কাজের সমাধানের জন্য শুরুতে বিশ্বাষ থাকতে হয়।কিছুটা হয়ত আমরা করতে পেরেছি কিন্তু বেশীরভাগ কাজ এখনও সামনে’।আর এভাবেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিগত বছরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে তার কাজের সামগ্রিক খন্ডচিত্র তুলে ধরেন।উভয় নেতাই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী হনলুলুতে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনে দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে মিলিত হন।

রাশিয়া ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই সাক্ষাতে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাবলীতে আলোকপাত করা হয়।তবে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় আন্তর্জাতিক প্রশ্নকে।যার মধ্যে রয়েছে-মধ্যপ্রাচ্য,আফগানিস্তান,সিরিয়া ও ইরানের পারমানবিক প্রকল্প।এসব বিষয়ের কয়েকটিতেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম।তবে,অবশ্যই এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে যার সমাধান অনেক দূরে।এর প্রথমেই রয়েছে ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।যদিও এই প্রেক্ষিতে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন,রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহনযোগ্যতার জন্য উভয় দেশের সুযোগ রয়েছে।মেদভেদেভ বলছেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা বেশ কিছু প্রশ্নের সমাধান করতে পেরেছি যা পূর্বে ১০ বছরেও কেউ তাতে গুরুত্ব দেয় নি।এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে পারমানবিক অস্ত্র হ্রাস করার চুক্তিটি।আমরা যদি ইউরোপে রকটেবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থার মত সমস্যার সমাধানের জন্য চেষ্টা করি তাহলে আমি নিশ্চিত,আমারা চুড়ান্ত ফলাফলে পৌঁছাতে পারব’।

রুশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে এবং তা হচ্ছে বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার সদস্য হওয়ার বিষয়টি।এই প্রসঙ্গকে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায়(ডব্লিউটিও) রুশ ফেডারেশনের যোগদানের জন্য সহযোগিতা করায় শুরুতেই আমি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার মন্ত্রীপরিষদকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পূর্বের কোন মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা কখনই এই ধরনের সহযোগিতা পাই নি’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজের দেয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে,বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার অংশগ্রহন যা বিশ্বে বানিজ্য সম্প্রসারন প্রসারের ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।এছাড়া ডব্লিউটিও’তে রাশিয়ার চুড়ান্ত যোগদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করারও আশ্বাষ দেন  ওবামা।

এদিকে হনলুলুতে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনের অর্ধেক সময়ই সংস্থাটির সদস্যভূক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।অষ্ট্রেলিয় প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের সাথে যৌথ আলোচনা পর্বে রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা বিষয় বক্তব্য দেন।তাছাড়া পেরুর প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হিউমালায়ের সাথে আলোচনায় মেদভেদেভ বানিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে জোর দেন।শুধুমাত্র চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমান ৭০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজীব তুন রাজাকের সাথেও অনুষ্ঠিত বৈঠকে মেদভেদেভ দুটি দেশেরদ্বিপাক্ষিক বানিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট  ত্রুঙ্গ তান সাঙ্গের সাথে আলোচনায় মেদভেদেভ তেল-জ্বালালী ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্দোগে কাজ করার আহবান জানান।

সেই সাথে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদার সাথে মেদভেদেভের অনুষ্ঠিত বৈঠক যা দুইটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক  বিশেষকরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে।