রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বলেছেন,বর্তমান রাশিয়ার রাজনৈতিক ধারা স্বংয় রাষ্ট্রকে অবসন্ন করে তুলছে না বরং বিবর্তনের পথধারার মধ্যদিয়ে এর পরিবর্তন হওয়া উচিত।শুক্রবার বিকেলে মস্কোতে আন্তর্জাতিক মতামত প্রদানকারী ক্লাব ‘ভালদাই’ এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ভালদাই ক্লাব ইতিমধ্যে ৮ বছরে পা দিয়েছে।এই ক্লাবের সদস্যভুক্ত রাশিয়ার ও বহির্বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা যারা দেশের অভ্যন্তরীণ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে স্বাধীন মতামত প্রদান করে থাকেন।দীর্ঘ এই সময় ক্লাবের উদ্দোগে আয়োজিত সংলাপে বিশ্বের ৩৫টি দেশের ৪০০ এরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেয়।এবার বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছেন।এদিকে ক্লাবের বিশেষজ্ঞ হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টিমোটি কোলটন মনে করছেন,বর্তমান রাশিয়ার রাজনৈতিক ধারা স্বংয় রাষ্ট্রকে অবসন্ন করছে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব অপেক্ষা করছে।তবে পুতিন এ বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেন নি।তিনি বলেছেন, ‘১৯৯০ সালের শুরুর দিকে আমাদের দেশে(ককেশাস অঞ্চলে) গৃহযুদ্ধ চলছিল।তখন অর্থনৈতিক ও সামজিক অবস্থা পুরোটাই ভেঙ্গে পড়ে।হ্যাঁ,তখনই দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য মূল ভিত্তি গড়ে তোলা হয়; কিন্তু তখন দেশ অনেক জটিল সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিল।যে রাজনৈতিক মডেল তৈরী করে হয়েছে তার জন্যই গৃহযুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি এবং সংবিধানকে পুনঃস্থাপন করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে - জনগনের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।তাছাড়া গত ১০ বছরে জনগনের আয় ২.৪ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে’।

এছাড়া রুশ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন,সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাত্রা ২ গুন বৃদ্ধি করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছিল তা পূরন করতে পেরেছে।দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভ্লাদিমীর পুতিন বলেন,রাশিয়ায় আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত সামাজিক,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উন্নয়নের জন্য কৌশলগত প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।রাশিয়া,বেলারুশ ও কাজাকিস্তানকে নিয়ে যে সুল্ক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে তা অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি জানান।

আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে পুরোনো পুতিন থেকে কি নতুন পুতিনের আবির্ভাব হবে?।এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, ‘মূল বিষয়বলীর কোন পরিবর্তন সেক্ষেত্রে হবে না।কিছু সাধারণ বিষয় থাকে যার কখনও পরিবর্তন হয় না।যেহেতু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে কথা হচ্ছে সেক্ষেত্রে আমি বলতে পারি যে নিজের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। এটি হচ্ছে,নিজের মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা এবং সেই সাথে নাগরিকদের কাছে সর্বোচ্চ সুফল পৌঁছে দেয়া।অর্থনৈতিক উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে নিরাপত্তা বজায় রাখা'।

নিজের দেয়া বক্তব্যে পুতিন আরও বলেন,অবশ্যই বিশ্বে পরিবর্তন এসেছে।আমাদের উচিত হবে ওই পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে ভবিষ্যত দিনের কথা চিন্তা করা।এই প্রক্রিয়া যা সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন উপায় খুঁজতে বাধ্য করে।মোট কথা হচ্ছে,বিবর্তনের মধ্যদিয়ে যেন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে।