মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক নীতি প্রণয়ন করেছে, যা “শীতল যুদ্ধের” সময়ের ধরণে তৈরী, জানিয়েছে “ওয়াশিংটন টাইমস” পত্রিকা. এ নীতিতে মার্কিনী বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং নৌসেনাদের প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চীনের প্রতিরক্ষা শক্তিকে দমন করা যায়. এতে ব্যবহৃত হবে স্পুতনিকবিরোধী অস্ত্র, সাইবার অস্ত্র, সাবমেরিন, স্টেলস বিমান এবং দূরপাল্লার রকেট. পত্রিকাটি মার্কিনী সামরিক আমলাদের উদ্ধৃত করেছে, যারা বলছে যে নতুন নীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়. সেই সঙ্গে তাঁরা এ প্রশ্নের উত্তর দেন নি, চীন ছাড়া আর কোন রাষ্ট্রের এমন পর্যায়ের প্রতিপক্ষের আধুনিক অস্ত্রসজ্জা অবরোধ ও প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে. মার্কিনী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ উত্স এ মত পোষণ করেন যে, নতুন নীতি – বিশেষ ঘটনা, যা চীন সম্পর্কে মার্কিনীদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গীর প্রমাণ দেয়, “শীতল যুদ্ধের” সময়ের মনোভাবে. কয়েক দশক আগে মার্কিনী বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর এ ধরণের স্ট্র্যাটেজি কার্যকরী ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে. “শীতল যুদ্ধের” সময় মার্কিনী নৌবাহিনী পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় উপস্থিত থাকার স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করেছিল, যাতে সেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাধান্য না থাকে. এখন মার্কিনীরা উদ্বিগ্ন যে চীনের নতুন অস্ত্রসজ্জার বিকাশ এ অঞ্চলে সমুদ্রযাত্রার স্বাধীনতা বিপন্ন করতে পারে. এ নীতিতে অতি দূরপাল্লার বোমারু বিমান তৈরী, সাবমেরিন ও স্টেলস বিমানের মিলিত অভিযানও অনুমিত. পরিকল্পনায় আছে চীনের আভ্যন্তরীন ভাগে নৌবাহিনী, স্থলবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সম্মিলিত আঘাত হানা, চীনের ভূভাগে স্পুতনিকবিরোধী রকেট ইন্টারসেপ্ট করা, নিজস্ব স্পুতনিকগুলির মোবিলিটি বাড়ানো, যাতে চীনা রকেট তার উপর আঘাত হানতে না পারে, চীনের প্রতিরোধ শক্তির বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ চালানো. অক্টোবরে মার্কিনী প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেওন পানেট্টা বলেন যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিনী বাহিনীর অপসারণ এবং ইরাকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে, ওয়াশিংটন এশিয়ার দিকে নজর দেবে. তাঁর কথায়, পেন্টাগনের নতুন পরিকল্পনা এ অঞ্চলে মার্কিনী সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নির্দেশিত হবে.