ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার অংশগ্রহণে নির্মিত কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র এ বছরের শেষদিকে চালু করার কথা চিল, কিন্তু তা আবার স্থগিত রাখা হচ্ছে.এ সম্বন্ধে বৃহস্পতিবার বলেছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী ভি. নারায়নস্বামী. তাঁর কথায়, এ স্থগিত রাখার কারণ – স্থানীয় লোকেদের প্রতিবাদ আন্দোলন, যারা নিরাপত্তার কারণে এ প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার দাবি করছে. এ কেন্দ্রের প্রথম ব্লক চালু করার জন্য প্রকৃতপক্ষে তৈরী, এবং এখন তা আগামী বছরের মার্চ মাসে চালু করার পরিকল্পনা আছে.দ্বিতীয় ব্লক ২০১২ সালের ডিসেম্বরে চালু করার কথা. এ প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ লিখছেনঃ

   ভারতের মন্ত্রী শ্রী নারায়নস্বামী বলেছেন যে, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নির্মাণ থামানো হয়েছে, তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী জয়ললিতাকে বলা হয়েছে যে, প্রকল্পের টেকনিক্যাল সমর্থন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এবং তিনি তাতে রাজি হয়েছেন. জাপানের ফুকুসিমা-১ কেন্দ্রে দুর্ঘটনার উদ্ধৃতি এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়. জাপানের এ কেন্দ্র – বহুদিন হল সেকেলে হয়ে গেছে, কারণ তা ছিল প্রথম প্রজন্মের কেন্দ্র. নিরাপত্তার দিক থেকে তাকে রাশিয়ার অগ্রণী পারমাণবিক প্রকৌশলের সাথে তুলনাও করা যায় না. কুদানকুলাম কেন্দ্র পৃথিবীর প্রথম কেন্দ্র, যা ফুকুসিমা পরবর্তী নিরাপত্তার দাবির ভিত্তিতে নির্মিত. রাশিয়ার রসআতোমের প্রধান সের্গেই কিরিয়েনকো বলেন যে, আতোমস্ত্রোইএক্সপোর্ত কর্পোরেশনের দ্বারা নির্মিত এ কেন্দ্র এবং এখন এ কর্পোরেশনের হাতে ২১টি ব্লক নির্মাণের ফরমাশ রয়েছে, অথচ গত বছরের শেষ দিকে তার হাতে শুধু ১২ ব্লক তৈরীর চুক্তি ছিল.অবশ্যই, পারমাণবিক বিদ্যুতশক্তি সম্পর্কিত বিপদ রয়েছে. তবে, আধুনিক প্রকৌশলের সুযোগ সম্ভাবনা তা দূর করে.

   তাহলে কুদানকুলাম কেন্দ্র চালু করায় দেরির অর্থ কি? তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন মস্কোয় বিদ্যুত্শক্তি ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তোন খ্লপকোভঃ

   ভারতের অর্থনীতি এখন ব্যাপক পরিসরে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য. এ ব্যাপারে ভারতের হাতে বিকল্প নেই. আমার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই কেন্দ্র চালু করা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং পারমাণবিক শক্তি কমিশন সামাজিক সংস্থাগুলির সাথে আরও বিশদে পরামর্শ করতে পারে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে. অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আরও বালভাবে প্রস্তুত হতে পারবে এ কেন্দ্র চালু করার জন্য. এ অতিরিক্ত সময় কেন্দ্র চালু করার আগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভালভাবে প্রস্তুত করার, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা চালানোর সুযোগ দেবে.আমার মতে, দীর্ঘকালীন পরিপ্রেক্ষিতে জনতার এ প্রতিবাদ ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রভাবিত করতে পারবে না. ভারতের মতো বিশাল দেশের জন্য সৌরশক্তি, বাত্যাশক্তি, বিভিন্ন ধরণের বায়োমাসের ভিত্তিতে বিকল্প শক্তির উত্স বিকাশের সম্ভাবনা সীমিত.

   তবে, ভারতের এমন সিদ্ধান্তের জন্য কি মূল্য দিতে হবে? কারং কুদানকুলাম কেন্দ্র চালু করা স্থগিত রাখার সাথে ভারতের ভারতের এ শিল্পোন্নত এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ স্থগিত থাকছে. শিল্প বিকাশের দিক থেকে তামিলনাডু প্রদেশ ভারতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে.তবে এ প্রদেশের জন্য এবং গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জন্য বিদ্যুত্শক্তির যথেষ্ট অভাব আছে. সবচেয়ে বেশি চাপের সময় এ অভাব ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত. কুদানকুলাম বিদ্যুত্ কেন্দ্র চালু হলে এ সমস্যা মীমাংসিত হবে. আর আপাতত, বিদ্যুত্শক্তির অভাব অন্ততপক্ষে আগামী বছরের শেষ অবধি অনুভব করতে হবে.