ব্রিক্স গ্রুপের দেশগুলি ইউরো-অঞ্চলকে বাঁচাতে কি প্রস্তুত? বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেনঃ কয়েক বছর আগেও পৃথিবীতে ব্রেজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের দ্বারা নতুন বিন্যাসের গঠনের প্রতি অতি সন্দেহজনক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছিল.  এ বছরে এ বিন্যাসে যোগ দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা. আজ এ দেশগুলির কাছ থেকে সাহায্যের অপেক্ষা করছে ইউরোপ. মস্কোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে “ব্রিক্স দেশগুলি – আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যবস্থায় নতুন ভূমিকা” নামে বৈজ্ঞানিক সম্মেলন.

   ফ্রান্সের ক্যান শহরে “জি-২০” শীর্ষ সাক্ষাত্ শেষ হওয়ার পরে প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে – ব্রিক্স দেশগুলি এই প্রথম ইউরোপকে ঋণ দিতে পারে. প্রসঙ্গত, এ সম্বন্ধে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভও বলেছেন “জি-২০” শীর্ষ সাক্ষাতে. 

   এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ব্রিক্স দেশগুলি পালন করতে প্রস্তুত শুধু ইউরো মুদ্রাকে বাঁচানোর জন্যই নয়, যাতে তারা আগ্রহী, আরও এজন্য, যাতে তারা নিজেদের সামর্থ্য ও প্রভাব প্রমাণ করতে পারে. ব্রিক্স দেশগুলির অভিপ্রায় খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষাপূর্ণ – আর্থিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার.

   ২০০১ সালে ব্রিক দেখা দিয়েছিল বহুমাত্রায় উন্নয়নশীল দেশগুলির দিকে বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনর্গঠিত করার ধারণার ভিত্তিতে. সংস্থার অন্যান্য সদস্যের মতো রাশিয়াও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে অন্তর্বর্তী অর্থনীতি সম্বলিত রাষ্ট্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশ বৃদ্ধির পক্ষে মত প্রকাশ করছে. তহবিলের সংস্কার শেষ হওয়া উচিত ২০১৪ সালে. ব্রিক্স গ্রুপের হাতে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সুষ্ঠুকরণের, ব্যাঙ্কগুলির বেশি স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা. তবে একই সঙ্গে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের “জি-২০” ও “ব্রিক্স” সংক্রান্ত সমন্বয়সাধক ভাদিম লুকোভের মতে, ব্রিক্স গ্রুপের দেশগুলির আর্থিক ফাটকাবাজির জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত নয়, যার ফলেই দেখা দিয়েছে এই ব্যাঙ্ক ব্যবস্থার সঙ্কট.

   ব্রিক্স শুধু অর্থনৈতিকই নয় রাজনৈতিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছে. এ বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিক্স গ্রুপের সমস্ত দেশই প্রতিনিধিত্ব করছে. রাশিয়া ও চীন – স্থায়ী সদস্য হিসেবে, এবং ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রেজিল অস্থায়ী সদস্য হিসেবে. ব্রিক্সের দেশগুলি লিবিয়ায় উড়ানহীন এলাকা প্রবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একবাক্যে মত প্রকাশ করেছিল. একমাস আগে রাশিয়া ও চীন সিরিয়ার বিরুদ্ধে অনুরূপ সিদ্ধান্তের গ্রহণ অবরোধ করেছে. অর্থনৈতিক সমস্যাবলির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক আস্থা পরীক্ষিত হচ্ছে, বলেন রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেক্সান্দর দীনকিন বলেনঃ

   ব্রিক্স গ্রুপে আস্থার মানের ক্রমাগত বৃদ্ধি হচ্ছে, ইউরোপে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তার তুলনায়. ইউরোপে আমরা দেখতে পাচ্ছি – বিভিন্ন সরকারের মাঝে, সরকার ও জনসাধারণের মাঝে, বিনিয়োগকারী ও ঋণ গ্রহণকারীদের মাঝে, পরিভোগী ও উত্পাদকদের মাঝে আস্থার সঙ্কট. বিবেচনায় রাখা উচিত যে, ঝোড়ো অর্থনৈতিক আবহাওয়ার অপেক্ষা করছে সারা পৃথিবী. ইউরো-অঞ্চলের সঙ্কট, অথবা মুখ্য রিজার্ভ মুদ্রা – ডলারের সঙ্কট, যদি তা দেখা দেয়, আমাদের দেশগুলির অর্থনীতির জন্য চাহিদা কঠোরভাবে সীমিত করবে, ঋণ গ্রহণে চাপ পড়বে. আধুনিক সঙ্কটবিরোধী নীতির ব্যবস্থাপত্র আজ ভিন্ন ভিন্ন রকমের. কারুর জন্য – সর্বপ্রথমে চীন ও ভারতের জন্য – এ হল আভ্যন্তরীন চাহিদা যথাসম্ভব বাড়ানো, অন্যদের জন্য এ হল কোমরবন্ধনী আরও কষে বাঁধার সময়, কঠোর ব্যয়সঙ্কোচের সময়, যা ইউরোপে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভীষণ বেকারীর পরিবেশে বাস্তবায়িত করা সহজ নয়.

   বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন – এ কথা স্বীকার না করে পারা যায় না যে, গড়ে উঠছে বিশ্বের নতুন বহু সংস্কৃতির মডেল. আর সেইজন্যই, পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের সাথে জড়িত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাথে সঙ্গতি রাখা ব্রিক্সের ভূমিকার বিশেষত্ব রয়েছে, বলেন ল্যাটিন আমেরিকা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দাভিদোভঃ

   পৃথিবীর বর্তমান মানচিত্রের দিকে যদি তাকানো হয় – বিশেষ করে তার দক্ষিম এবং পুবের দিকে, তাহলে দেখতে পাওয়া যাবে যে, কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মনোবল ছাড়া, পৃথিবীর এ অংশ নতুন নতুন সংস্থায় ভরে উঠছে. বিশ্বের বিন্যাস অন্যরকম. ব্রিক্স – ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সহমত দেখা দেওয়া ও তা খুঁজে বার করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তস্বরূপ. ব্রিক্সের ভিতরেও জটিলতা আছে. তবে ব্রিক্স বিশ্বের রূপান্তর এবং নিজের রূপান্তরের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলছে.

   ব্রিক্সের সদস্যদের স্থিরবিশ্বাস – এ বিন্যাসের অভ্যুদয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে. ব্রিক্স ঠিক সেইরকমই প্রভাব বিশ্ব সম্পর্কে বিস্তারের আশা করছে.