দক্ষিণ-এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার(সার্ক) পুণর্জন্মের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে. আজ মালদ্বীপের আড্ডু নামক স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রে সার্কের ১৭তম শীর্ষবৈঠক শুরু হয়েছে.

   দক্ষিণ-এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তার কর্মকান্ডের ফলপ্রসূতার দিক থেকে আসিয়ান বা ইউরোপীয় সংঘের মতো আঞ্চলিক সংস্থার থেকে অনেক পেছিয়ে আছে. সদ্য শুরু হওয়া শীর্ষবৈঠকে অনেকেই আশা করছে, যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে.

    আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার নেতাদের সাক্ষাত্কার চলছে সেতুবন্ধন নামক স্লোগানে. সার্কের সদস্য দেশগুলি বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির প্রতি. দীর্ঘসময় ধরে সংস্থার সবচেয়ে বড় দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা সার্কের ফলপ্রসূ কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করছিল, গৃহীত সিদ্ধান্তবলীর বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছিল.

     শীর্ষবৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে পাকিস্তান একসারি শুভেচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছেঃ ভারতকে সবচেয়ে অনুকুল বাণিজ্যশরিকের মর্যাদা দিয়েছে, ভুলবশতঃ আকাশসীমা লঙ্ঘন করা ভারতীয় পাইলটদের কারামুক্তি দিয়েছে. উভয়পক্ষ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যোগোযোগ সম্প্রসারন করার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছেছে. আড্ডুতে শীর্ষবৈঠকের মঞ্চে ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠিত হয়েছে. এরকম উচ্চপর্যায়ে এটা ছিল গত ১৭ বছরের মধ্যে তৃতীয় সাক্ষাত্কার মাত্র.ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদ্বয় দু-দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় উন্মোচণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. তবে উপোরক্ত সব সদর্থক সংকেত থাকা সত্বেও রুশী বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স য়ুরলভের মতে দু-দেশের সম্পর্কের দ্রুত উন্নতির প্রত্যাশা করা অদূরদর্শীতা.

      তবে তা সত্বেও দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ পুর্ণস্থাপিত হয়েছে, কূটনীতিজ্ঞদের বৈঠক নিয়মে পর্যবসিত হয়েছে. আর বাস্তব এশিয়ার দেশগুলিকে দীর্ঘকালীন সমস্যাগুলির সমাধান করার পথ খুঁজতে বাধ্য করছে. বিশ্বে আর্থিক সংকট পাশ্চাত্যের দেশগুলির অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে, ইউরো অঞ্চলের আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে. এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা বলতে বাধ্য করছে, যে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল ক্রমশঃ এশিয়ার দিকে বাঁক নিচ্ছে.

 সার্কের কর্মকান্ডের ব্যাপারে চীন অত্যন্ত মনোযোগী. উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদল এই শীর্ষবৈঠকে সর্বদা উপস্থিত থাকে. বেইজিং ও নয়াদিল্লী চীন-ভারতের সম্পর্কের উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়. গত কয়েক বছরে ভারত ও চীনের মধ্যে পণ্য আবর্তন রেকর্ড মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে – ৬ হাজার কোটি ডলার. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি হতে থাকলেও, দীর্ঘকাল ধরে জমা হওয়া রাজনৈতিক সমস্যাবলীর নিষ্পত্তি হচ্ছে না. এর মধ্যে প্রধান হল পারমানবিক শক্তি ও সামরিক ক্ষেত্রে চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা. বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কে ভারত অভ্যস্ত হয়ে গেলেও, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে. প্রথমতঃ মিয়ানমা, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশে বড় বড় বিনিয়োগ প্রকল্প. কারন ভারত বরাবরই সার্ক অঞ্চলকে তার জীবনের পক্ষে অপরিহার্য বলে বিবেচনা করে. কিন্তু ঐ এলাকার অন্যান্য দেশেরও নিজস্ব স্বার্থরক্ষার অভিলাষ. সার্কের শীর্ষবৈঠক  - আলোচনা করা ও আপোষ খোঁজার জন্য ভালো মঞ্চ, যা এই সংস্থাকে পুণর্জীবন দিতে পারে.