লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক মুয়ম্মর গদ্দাফিকে হত্যার নির্দেশ, তার বন্দী হওয়ার পরে লিবিয়ার বাইরে থেকে এসে থাকতে পারে. এ সম্বন্ধে বলেছেন লিবিয়ার রাজনীতিজ্ঞ মাহমুদ জিব্রিল, যিনি গদ্দাফির মৃত্যুর সময় লিবিয়ার অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন. তাঁর কথায়, তাঁর ইচ্ছে ছিল গদ্দাফিকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়, যাতে গদ্দাফি তার জানা বহু রহস্য উন্মোচন করতে পারে, জিব্রিলের কথা উদ্ধৃত করেছে “মেনা” সংবাদ সংস্থা. জিব্রিল স্বীকার করেন যে, কে গদ্দাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল সে সম্পর্কে তাঁর হাতে কোনো প্রমাণ নেই. সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, লিবিয়ার প্রাক্তন শাসককে বন্দী করা হয় জীবন্ত অবস্থায় এবং কিছু সময় ধরে রাখা হয়, তারপর হঠাত্ তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়. তিনি যোগ করে বলেন, “তা প্রমাণ করে যে, যোদ্ধারা তাকে হত্যার নির্দেশ পেয়েছিল”. জিব্রিল মনে করেন যে, গদ্দাফিকে সরানোর পেছনে থাকতে পারে কোনো অন্য রাষ্ট্র অথবা কোনো নেতা. তিনি যোগ করে বলেন, “যে গদ্দাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল, সে চেয়েছিল গদ্দাফি যেন গ্রেপ্তারের পরে কোনো গোপন তথ্য ফাঁস না করে”. কর্নেল মুয়ম্মর গদ্দাফিকে হত্যা করা হয় ২০শে অক্টোবর লিবিয়ার সির্ত শহরের উপকন্ঠে. অবরুদ্ধ শহর ছেড়ে যেতে চেষ্টা করা মোটরগাড়ির সারির একটি গাড়িতে ছিল গদ্দাফি, এবং তার উপর ন্যাটো জোটের বিমানবাহিনীর অগ্নিবর্ষণ শুরু হয়. আহত গদ্দাফিকে ধরে ফেলে মিসরাত থেকে আসা অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের যোদ্ধারা. তারা তিন ঘন্টা ধরে গদ্দাফিকে যন্ত্রণা দেয় এবং অবমাননা করে, তার পরে তাকে গুলি করে মেরে ফেলে, জানিয়েছে “রিয়া নোভস্তি” সংবাদ সংস্থা. তারপরে মিসরাতে গদ্দাফির শবদেহের অবমাননা করা হয় এবং সকলের দেখার জন্য রেখে দেওয়া হয়. পরে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসকের দেহ সমাধিস্থ করা হয় মরুভূমিতে এক গোপন জায়গায়.