সোমবারে তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মীয় মানুষদের নেতা চতুর্দশ দালাই লামা বিগত কিছু কাল ধরে প্রায়ই তিব্বতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জনসমক্ষে নিজেদের জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে বিরত হওয়ার জন্য আহ্বান করেছেন.

    মনে করিয়ে দিই যে, এই বছরে চিনের সিচুয়ান প্রদেশে কম করে হলেও ১১টি জনসমক্ষে আত্মহনণের ঘটনা ঘটেছে – ৯ বার চেষ্টা করেছেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা, দুই বার – সন্ন্যাসিনীরা. গত বৃহস্পতিবারে শেষ আত্মহনণের প্রচেষ্টা হয়েছে. তিব্বতের নির্বাসিত প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ছয় বার এই নিজের গায়ে আগুণ ধরিয়ে দেওয়া পরিণতি হয়েছে মৃত্যু.

    টোকিও শহরে অবস্থান কালে, দালাই লামা এই সব ঘটনা নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন ও সমস্ত দোষ চিনের প্রশাসনের উপরে আরোপ করেছেন, যারা, তিনি যেমন মন্তব্য করেছেন যে, "সাংস্কৃতিক ভাবে গণহত্যার" রাজনীতি করছে তিব্বতে. এই প্রসঙ্গে বৌদ্ধদের ধর্মীয় নেতা বলেছেন বিগত ১০ – ১৫ বছর ধরে চিন তিব্বতের ক্ষেত্রে তাদের কঠোর মনোভাব বৃদ্ধি করেছে, আর সেই নিরুপায় পরিস্থিতি, যা তিব্বতের জনগন সহ্য করছেন, তা তাদের এই ধরনের আগুণ লাগিয়ে আত্মহনণের মতো ভয়ঙ্কর কাজ করতে বাধ্য করছে.

    নিজেদের পক্ষ থেকে চিনের সরকার দালাই লামাকে ও নির্বাসিত তিব্বতের প্রশাসনকেই দোষী করছে এই বলে যে, তারাই তিব্বতের সমস্যার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এই ধরনের বর্বর পদ্ধতি নেওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে. সর্বশেষ আত্মদহণের ঘটনা নিয়ে চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি হুন লেই ঘোষণা করেছেন যে, "নির্বাসিত প্রশাসন ও দালাই লামা এই আগুণ লাগিয়ে পুড়ে মরার ঘটনা গুলিকে সমালোচনা করছেন না, বরং উল্টো – এই গুলিকে সব রকম ভাবে প্রচার করছেন ও অন্যদের এই ধরনের উদাহরণ অনুসরণ করতে প্ররোচনা দিচ্ছে, যা স্বাভাবিক চিন্তা ও মানবসমাজের ভিত্তিমূলক নীতির প্রতি এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে". এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "এই ধরনের পরিস্থিতিতে মন্তব্য করা খুব সহজ নয় – এই ভাবে পুড়ে মরা ও তিব্বতের সমস্যা দুটোই খুব মর্মান্তিক ব্যাপার. কিন্তু একটা কথা ঠিক এটা এখন ধর্মীয় ক্ষেত্রের চেয়ে অনেক দূরের বিষয় হয়েছে ও তা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়ছে, হয়ে দাঁড়িয়েছে এক রাজনৈতিক বিষয়".

    দালাই লামা বিগত কিছু কাল ধরে তিব্বতের চিন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে আর কথা বলছেন না এটা ঠিকই, কিন্তু তিব্বতের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ থিতু হয়ে যায় নি, ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের সময়ে এই আন্দোলনের কারণে অলিম্পিকের মশাল দৌড়ই ব্যাহত হতে বসেছিল.

    "এই বছরের বসন্ত কালে দালাই লামা ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আর তিব্বতের রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে কথা বলবেন না ও নিজে রাজনৈতিক পদ থেকে পদত্যাগ করছেন, শুধু ধর্মীয় বিষয় সামলাবেন, কিন্তু দেখাই যাচ্ছে যে, তিব্বতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে. আর দালাই লামা আবারও তাঁর কথা বলেছেন, তবে সেটা রাজনৈতিক নেতা হিসাবেই. তাঁর এই গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলার পরিণতি সুদূরপ্রসারী হতে পারে. জানা আছে যে, বিশ্ব সমাজে স্বাধীনতা স্বীকার করার জন্য প্রথমে দেখা হয় যে কোন দেশের সীমান্ত অটুট থাকাকে, একমাত্র মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মতো কোন কাজ হচ্ছে সংখ্যালঘু দমন করে, এই কথা প্রমাণিত হলে তবেই অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে কোন এলাকার স্বাধীনতা স্বীকারের প্রশ্ন আসে".

    প্রায় একই সময়ে দালাই লামার মতো, তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র শ্রীমতী ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড, তিনি চিনের সরকারকে তিব্বতের অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন সমস্ত বিপরীত ফল হতে পারে এমন কাজকর্ম বন্ধ করতে আহ্বান করেছেন. তিনি চিনের উপরে এই বিষয়ে চাপ রেখে যাওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন. দালাই লামার সঙ্গে একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা শুধু এটাই প্রমাণ করে যে, চিনের উপরে কূটনৈতিক চাপ তৈরীর আরও একটি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, এই কথাই মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.