ফরাসী সরকারের প্রোটোকল দপ্তরের ভুল কান শহরে অর্থনৈতিক ভাবে বড় কুড়ি দেশের শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে এক আন্তর্জাতিক স্ক্যাণ্ডালের ভূমিকা করেছে. ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের আলোচনা, যা হচ্ছিল রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সময়ে, সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ হয়েছে. যেমন পরে বোঝা গিয়েছে, সারকোজি ও ওবামা, এর মধ্যেই যথেষ্ট পরিমানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নাথানিয়াখুর বিষয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এই ঘটনা নিকট প্রাচ্য নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াতে প্রভাব ফেলতে পারে.

    "আমি নাথানিয়াখুকে আর দুচক্ষে দেখতে পারি না, ও মিথ্যাবাদী!", ঘোষণা করেছেন সারকোজি, নিজের আবেগ সম্বরণ করতে না পেরে. আর এই কথায় ওবামা উত্তর দিয়েছেন: "তুমি ওকে সহ্য করতে পারছ না? আমাকে ওর সঙ্গে প্রতিদিনই কাজ করতে হচ্ছে!" এতটাই অকূটনৈতিক কথাবার্তা দুই সহকর্মীর মধ্যেই থেকে যেতে পারতো, "বড় কুড়ি" শীর্ষ সম্মেলনের নেপথ্যে বন্ধ দরজার ওপারেই, যদি না ফরাসী রাষ্ট্রপতির সহকারীদের অতি "সাধারন বোকা কাজ" না হতো. তারা সাংবাদিকদের কাছে আগে থেকেই এই বৈঠকের পরে পরিকল্পিত সাংবাদিক সম্মেলনের অনুবাদ শোনার জন্য যন্ত্র দিয়ে বলেছিলেন যে, হিয়ারিং এইড পরে দেওয়া হবে, তা না হলে সকলে এখনও না শেষ হওয়া সারকোজি ও ওবামার আলাপ শুনতে পেয়ে যাবেন. স্বাভাবিক ভাবেই সাংবাদিকেরা তত্ক্ষণাত নিজেদের হিয়ারিং এইড লাগিয়ে তিন মিনিট ধরে শুনেছেন খোলাখুলি ফরাসী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির বাক্যালাপ.

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এত খারাপ মন্তব্য বিশ্বের নেতাদের কাছ থেকে হওয়ার কারণ হতে পারে নাথানিয়াখুর তরফ থেকে প্যালেস্টাইন সমস্যা নিয়ে গোঁয়ার্তুমি, এই কথা মনে করে রাজনীতিবিদ বরিস মেঝুয়েভ বলেছেন:

    "নাথানিয়াখু  - এমন লোক নন, যাকে তাঁরা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখতে স্বপ্ন দেখেছিলেন. প্রথম থেকেই এটা বোধগম্য ছিল. ইনি এমনকি আরিয়েল শারোন ও নন, যার সঙ্গে অন্ততঃ কিছুটা বোঝাপড়া করতে পারতেন জর্জ বুশ, কিন্তু ইউরোপীয়দের জন্যও আরিয়েল শারোন ছিলেন একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব. কিন্তু নাথানিয়াখু আরও বেশী করে দক্ষিণ পন্থী, শারোনের চেয়েও. ইউরোপের রাজনীতিবিদেরা বাম বা দক্ষিণ যে রকমই হোন না কেন, সবচেয়ে বেশী করে ইজরায়েলের নেতৃত্বে দেখতে চেয়েছিলেন কোন সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দলের লোককে, যেমন লেবার পার্টি থেকে. তাদের প্রতিনিধিরা কোন রকমের আলোচনায় বসতে রাজী, কোন রকমের সমঝোতা করতেও তৈরী, প্যালেস্টাইনের নিজেদের আইন গত পরিচয় ঘোষণার অধিকার ও এই দিকে কিছু অন্ততঃ পদক্ষেপ নিতে তৈরী. আর নাথানিয়াখু – এমন লোক, যিনি কোন কিছুই করতে তৈরী নন, জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে জোর করে জমি অধিগ্রহণ করে বাস্তু নির্মাণ ছাড়া".

    সম্ভবতঃ এই স্ক্যাণ্ডাল বোধহয় এড়ানো যেতো – পশ্চিমের সাংবাদিকেরা তৈরী ছিলেন "ভুলে যেতে" যা তারা গোপনে শুনে ফেলেছেন. কিন্তু সেখানে ইজরায়েলের সাংবাদিকেরাও যে ছিলেন. তারা চুপ করে থাকতে চান নি, আর সমস্ত রকমের খুঁটিনাটি সমেত ফরাসী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতির কথোপকথন প্রকাশ করে দিয়েছেন.

    ফ্রান্সের পররাষ্ট্র দপ্তর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত উদ্ধৃতি সম্বন্ধে বলেছেন এই গুলি শোনা কথা, কিন্তু আশ্বাস দিয়েছে যে এই ঘটনায় ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নিকট প্রাচ্য সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অবস্থানের কোন পরিবর্তন হবে না. এই পরিস্থিতি অনেকটাই উইকিলিক্স সাইটে প্রকাশিত গোপন তথ্য ফাঁসের মতো, অনেক গোলমাল হল, কিন্তু তা মাত্র কিছু সময়ের জন্য, এই বিষয়ে সহমত হয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ইউরোপ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিস্লাভ বেলভ বলেছেন:

    "এটা বেসরকারি ঘোষণা. তাই আমি মনে করি যে, ইজরায়েলের যথেষ্ট বুদ্ধি আছে যে, তারা এই সংবাদ মাধ্যমে ফাঁপিয়ে তোলা তথ্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না. এটা উইকিলিক্স সাইটের প্রকাশিত খবরের মতোই, কে কোথায় চুপিসাড়ে শুনেছে, কে কার কথার মাঝে শুনতে পেয়েছে, এই রকমের ব্যাপার. উইকিলিক্স সাইটে প্রকাশের পরেও কোন একটি দেশেরও অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয় নি. যদিও সেখানে এর থেকেও অনেক শক্ত ঘোষণার কথা ছিল".

    প্রসঙ্গতঃ, দুই নেতার কথাবার্তাকে একটা সঙ্কেত বলে মনে করা যেতে পারে ইজরায়েলের প্রতি পশ্চিম সহ্য ক্ষমতা হারিয়েছে আর ঠিক করেছে আরও চাপ দেবে প্যালেস্টাইনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য. এই প্রসঙ্গে প্যারিস ও ওয়াশিংটনের রাস্তা আলাদাও হতে পারে. ৩১শে অক্টোবর ইউনেস্কো সংস্থার সাধারন সভায় ফ্রান্স প্যালেস্টাইনের এই সংস্থায় প্রবেশের আবেদন সমর্থন করেছিল. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরুদ্ধে ছিল ও তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসাবে সংস্থার চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে.