রাশিয়াকে বিদেশে দেওয়া ঘুষের ব্যাপারে তালিকার সর্ব্বোচ্চ স্থানে বসানো হয়েছে. আবারও একটি দুর্নীতির তালিকা তৈরী করেছে আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা সংস্থা (ট্রানস্পারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল). এই গবেষণার আয়োজকেরা বিশ্বের তিরিশটি দেশের ৩০০০ ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করে দেখেছেন. তাঁদের প্রস্তাব করা হয়েছিল নিজেদের বিদেশী সহকর্মীদের এক তালিকা তৈরী করে দেওয়ার জন্য ০ – তাদের জন্য যারা সবসময়েই ঘুষ দিয়ে থাকে, আর ১০ – তাদের যারা কখনোই ঘুষ দেয় না.

    সবচেয়ে বেশী নম্বর কোন দেশই পায় নি. প্রথম স্থান ভাগ করে নিয়েছে নেদারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা ৮, ৮ পয়েন্ট পেয়ে. তারপরে রয়েছে বেলজিয়াম, জার্মানী ও জাপান. এই তালিকার সর্ব শেষে রয়েছে রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা ৬, ১ পয়েন্ট পেয়ে. তাদের থেকে সামান্য কম ঘুষ দিতে চায় চিন ও মেক্সিকোর ব্যবসায়ীরা.

    কিন্তু এই সূচক গুলি কি ততটাই নিরপেক্ষ? রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন: সমস্যা সত্যি রয়েছে. কিন্তু ট্রানস্পারেন্সী সংস্থার এই কাজের পদ্ধতি ও আগে থেকে ধরে নেওয়া ধারণা সম্বন্ধে তাঁদের সন্দেহ জাগায়. এই কথা সত্য যে, রাশিয়াতে দেশের "ভেতরের" দুর্নীতির সমস্যা খুবই তীক্ষ্ণ – আর তাই মোকাবিলার কাজ স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের হাতে রেখেছেন. কিন্তু ট্রানস্পারেন্সী সংস্থার রিপোর্টে দেশের ভেতরের দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে না, আর দুর্নীতি যা "রপ্তানী" করা হচ্ছে. যদিও তার লেখকেরাই বলে যাচ্ছেন যে, এটা একটা পরস্পরের সঙ্গে পরিপূরক বিষয়, বাস্তবে এটা মোটেও সব সময়েই তা নয়, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ব্যাখ্যা করেছেন "স্ট্র্যাটেজি – ২০২০" তহবিলের প্রধান মিখাইল রেমিজোভ, তিনি বলেছেন:

    "এই রেটিংয়ে রাশিয়া চিনের সঙ্গে শেষ অবস্থানে রয়েছে. কিন্তু চিন খুবই বুদ্ধি করে হিসাব কষে প্রসার করছে. আর দুর্নীতি বাইরের দেশে করা এই ক্ষেত্রে তাদের জন্যে একটা পদ্ধতি হয়েছে মাত্র, তাই আমি এটাকে দেশের ভেতরের চেয়ে আলাদা করেই দেখতে চাই, যা দেশের ভেতরে হচ্ছে তার সঙ্গে. যদি পশ্চিমের দেশ গুলির অভিজ্ঞতা দেখা হয়, তবে বিভিন্ন সময়ে তারা নানা রকম ভাবে এই পদ্ধতির ব্যবহারকে দেখেছে, যাতে করে নিজেদের মূলধনের প্রসার দেশের বাইরেও করা যায়. অনেক দিন ধরেই সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে দেখেছে তৃতীয় দেশে দুর্নীতির ক্রিয়াকলাপ. তার ওপরে, আগে তাদের দেশেই দুর্নীতি করে পাওয়া চুক্তির উপরে কর বসানো হতো".

    পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে খুবই জোর করে রাশিয়ার উপরে দুর্নীতির রপ্তানি করার অভিযোগ চাপানো হচ্ছে. শুধু এই সমস্ত দেশের রাজধানী গুলি থেকে যে সমস্ত পরামর্শ ও অভিযোগ করা হচ্ছে, তা প্রায়ই সেই সব দেশের প্রশাসনের কাজকর্মের সঙ্গে মিলছে না. এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় দুর্নীতি বিরোধ পরিষদের প্রধান কিরিল কাবানভ বলেছেন:

    "যদি আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীরা বলেন যে, তারা দুর্নীতির সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, তবে শুরু করা উচিত্ হবে নিজেদের দেশে নোংরা তহবিল থাকতে না দিয়ে – যেমন, পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের অর্থ, যারা রাশিয়াতে নানা রকমের দুর্নীতির চক্র তৈরী করেছে, তারপরে পশ্চিমে পালিয়ে গিয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, যখন অর্থনীতিতে বহু সহস্র কোটি ঢালা হয়েছে, - তখন এটা ভালই হয়েছে. কিন্তু আসুন আমরা না ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি যে এই অর্থ – দুর্নীতি থেকে আসা. এই প্রসঙ্গে গ্রেট ব্রিটেন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতে এমনকি আইন সঙ্গত ব্যবস্থাও রয়েছে সেই সমস্ত কোম্পানীদের জন্য, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত."

    এখানে একটা সত্য বিষয় মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে: আইনের ব্যবস্থায় শাস্তি হয়ে থাকে তাদেরই, যারা ঘুষ দিতে চেয়েছে, কিন্তু যারা ঘুষ নিয়েছে তাদেরও সমান শাস্তি পেতে হয়. যদি ৩০০০ ব্যবসায়ী বলে থাকেন যে, তাদের (আর একবার শুধু নয়!) ঘুষ দিতে চাওয়া হয়েছিল, তবে কত বেশী সম্ভাবনা রয়েছে, যে তাদের মধ্যে কেউ ঘুষ নিয়েও থাকবেন? বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় না যে, এই তিন হাজার ব্যবসাদার সবাই ধোওয়া তুলসী পাতা. এই প্রশ্ন সেই সব দেশের আইন সংরক্ষণ দপ্তর গুলিকেও করা যেতে পারে, আর তার সঙ্গে ট্রানস্পারেন্সী ইন্টারন্যাশনালকেও, যারা কিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে.

    প্রসঙ্গতঃ, রাশিয়াতে নিজেদের ব্যবসা কাঠামোর বাইরের দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধেও লড়াই করা হচ্ছে. এই বছরের বসন্তে যে আইন গৃহীত হয়েছে, রাশিয়ার ফৌজদারী আইনের আওতায়, তাতে বিদেশী দায়িত্বশীল কর্মচারীকে ঘুষ দেওয়ার শাস্তিও নির্ধারিত হয়েছে. দোষীকে খুবই গুরুতর শাস্তি দেওয়া হবে ১২ বছর পর্যন্ত হাজত বাস ও ঘুষের ১০ থেকে ৭০ গুণ পর্যন্ত ফাইন দিতে হতে পারে.