মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ইরানের বিরুদ্ধে বাধানিষেধ সংক্রান্ত দলিলের মেয়াদ বাড়িয়েছেন, যা প্রবর্তিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালে, যখন এ দেশে ইস্লামিক বিপ্লব জয়লাভ করেছিল. ২০১১ সালের ১৪ই নভেম্বরের পরে আরও এক বছর বাধানিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে ওবামা বলেন যে, ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে নি. ওবামার সিদ্ধান্ত বলা যায় পরম্পরাগত, প্রতি বছর মার্কিন রাষ্ট্রপতি এ দলিলের মেয়াদ এক বছর করে বাড়ান, যা আমেরিকা প্রবর্তন করেছিল ১৯৭৯ সালের ১৪ই নভেম্বর. বাধানিষেধ প্রবর্তন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করার বাস্তবিকপক্ষে অজুহাত ছিল ইস্লামিক বিপ্লবের জয় এবং তেহেরানে মার্কিনী দূতাবাসের কর্মীদের আটক করা. ১৯৮১ সালের ১৯শে জানুয়ারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে আলজিরিয়া সরকারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল তথাকথিত আলজিরিয়া চুক্তি. তার উদ্দেশ্য ছিল মার্কিনী হস্টেজ সংক্রান্ত সঙ্কট মীমাংসা করা. এ চুক্তিতে তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সম্পর্ক গড়ে তোলার কয়েকটি বুনিয়াদী মূলনীতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল. বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরানের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার, বাণিজ্যিক বাধানিষেধ বাতিল করার, অচলাবস্থায় রাখা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালু করা. ইরান নিজের তরফ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজের বৈদেসিক ঋণ শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল. ওয়াশিংটন মনে করে যে, তেহেরান এ চুক্তি পালন করে নি, এবং তাছাড়া নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বারা পৃথিবীকে বিপন্ন করছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাধানিষেধ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে বলবত রয়েছে আন্তর্জাতিক বাধানিষেধ.