রাশিয়া ইজরায়েলকে সাবধান করে দিয়েছে যে ইরানের উপরে সামরিক আঘাত হবে খুবই গুরুতর ভুল, যার পরিনাম অকল্পনীয় হতে পারে. এর আগে ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি শিমোন পেরেজ এই প্রথমবার স্বীকার করেছেন যে, ইরানের উপরে প্রতিরোধক আঘাত তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক ভাবে পারমানবিক সমস্যার সমাধানের চেয়ে বেশী করেই সম্ভাব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে.

ইজরায়েল ইরান ফ্রন্ট খুলেছে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে খুঁটিয়ে করা এক রিপোর্ট প্রকাশের প্রাক্কালে. এই রিপোর্টে তেহরানের গোপন সামরিক পারমানবিক পরিকল্পনার প্রতি নির্দেশ থাকতে পারে. অংশতঃ, তাতে নাকি বলা হয়েছে ইরানের পারমানবিক বিশেষজ্ঞদের কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগে পারমানবিক যুদ্ধাস্ত্রের অনুকরণ পরীক্ষার কথা. এর আগে সংস্থার দলিলে সাধারন ভাবে বলা হয়েছিল ইরানে সামরিক ও অসামরিক দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার যোগ্য পদার্থের উত্পাদনের কথা.

এই নতুন ফাটকা বাজী, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার অপ্রকাশিত রিপোর্ট কে ইরানের উপরে চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা মাত্র. রাশিয়ার বিদেশ ও প্রতিরক্ষা রাজনীতি পরিষদের সদস্য ভ্লাদিমির আভেরচেভ এই ভাবেই পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন. যেই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হবে, দেখা যাবে হয়তো চাপ সৃষ্টি করার মতো কারণের সংখ্যা অনেক কম, এই কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

"এখন সবচেয়ে বেশী যা হতে পারে বলে মনে হচ্ছে – ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সাবধানে অভিযোগ করা. এই সমস্যা সমাধানে সব রকমের সামরিক প্রয়োগের কথাই স্বয়ংক্রিয় ভাবে খুবই গুরুতর সঙ্কটের উদয় করাতে পারে. আর আমি মনে করি যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেই ধরনের সঙ্কট তৈরীর জন্য উসকানি দেবে না".

ইজরায়েলে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে এক বিরল ও অনতিপূর্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে. এই দেশের সরকার প্রথমবার তেহরান থেকে তিরিশ কিলোমিটার দূরের সামরিক ঘাঁটি পারচিন এর উপরে প্রতিষেধক আঘাত হানার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে, যেখানে নাকি তৈরী করা হচ্ছে পারমানবিক বোমা. এর আগে এই নিয়ে কথা বলে থাকতেন শুধু বিশেষজ্ঞরাই. ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী, নিজের দিক থেকে পরীক্ষা করে দেখেছে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র. আর তারই সঙ্গে মহড়া দিয়ে নিয়েছে গণহত্যার অস্ত্র সমেত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পরে জনগণে ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজ.

ইরানের সমস্যা নিয়ে ইজরায়েলের সামরিক সমাধানের সময়সীমা সম্বন্ধে কি ধরনের কথা হতে পারে? ইজরায়েল বিশেষজ্ঞা রাজনীতিবিদ জেয়েভা হানিনা এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

"কেউই এই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে পারবে না. যাঁরা আশাবাদী, তাঁরা মনে করেন যে, ইরানের বেশ কয়েক বছর দরকার হবে সম্পূর্ণ ভাবে পারমানবিক অস্ত্র ও তা পরিবহন করে অন্যত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা তৈরী করতে. নৈরাশ্যবাদী লোকেরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এখন কথা হচ্ছে কয়েক মাসের. এর কোন একক উত্তর নেই, কিন্তু অসংখ্য শক্তি রয়েছে, যারা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার উপরে চায় ভারী আঘাত হানতে".

এরই মধ্যে মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দ্রুঝিলভস্কি মনে করেছেন যে, ইজরায়েলের সরকারি ভাবে অবস্থানের উপরে খুবই কড়া চাপ সৃষ্টি করেছে সব মিলিয়ে আঞ্চলিক ভাবে পরিস্থিতি, তিনি বলেছেন:

"ইজরায়েল যে টেনশনে রয়েছে, তা – বোঝাই যাচ্ছে, তাদের পায়ের তলায় এখন জমি জ্বলছে. আর সেটা ইরানের জন্য নয়. টিউনিশিয়ার, ইজিপ্টের পরিস্থিতি দেখে নিকট প্রাচ্যে মনে হয়েছে যে, নিকট প্রাচ্যে আরও বেশী করে শক্তিশালী হয়েছে ঐস্লামিক কারণ. একই সঙ্গে বাড়বে আরবদের ইজরায়েল বিরোধী অবস্থান. তাই ইজরায়েলের এখন দরকার এই সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে কিছু একটা করে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়া, তাই এর জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থাই তাদের জন্য ভাল. যদি ইজরায়েল নিকট প্রাচ্যে তাদের জন্য ভাল দিকে পরিস্থিতি পাল্টে দিতে না পারে, তবে তাদের অবস্থান খুবই জটিল হবে. এটা হতে পারে আরব ব্লক করে আটকে দেওয়া. এর আগে জর্ডন ও ইজিপ্ট ইজরায়েলকে সমর্থন করেছিল. এখন মনে হচ্ছে সেটাও নেই".

প্রসঙ্গতঃ, এমন হতে পারে যে, ইজরায়েলকে নিজেদের স্বার্থের কারণে একাই যুদ্ধ করতে হবে. এর ঠিক আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড সমর্থন করে জানিয়েছেন য়ে, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে কোন রকমের যুদ্ধ বিরোধের দিকে যাচ্ছে না. তার ওপরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থী হতে চাওয়া রিপাব্লিকান দলের রন পল আহ্বান করেছেন তেহরানের সঙ্গে বিরোধের পথ পরিত্যাগ করার. তিনি মনে করেন যে, তাদের পারমানবিক সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে.

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রিপোর্ট প্রকাশের পরে সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের বিরুদ্ধে জারী করা হতে পারে ভেবে তেহরান উত্তরে আজ ঘোষণা করেছে যে, তারা নিজেদের পারমানবিক প্রযুক্তি বিদেশে রপ্তানী করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে. আর এর আগেই রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই সম্ভাবনা বাদ দিতে পারেন নি যে, ইরান থেকে গ্যাসের রপ্তানী বাড়বে, কারণ দেশের জ্বালানীর ভারসাম্য রক্ষায় এখন আর তাদের প্রথম সফল বুশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে উত্পাদিত শক্তির সমান পরিমানের জন্য গ্যাসের প্রয়োজন হচ্ছে না, তাই. এই ঘোষণা করা হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রশাসন প্রধানদের প্রসারিত সভায়, যেখানে এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ গুলির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন ও যাঁদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালেখি. এর মধ্য দিয়েই রাশিয়া আরও একবার তার বিদেশী সহকর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, সকলের স্বার্থের জন্যই তেহরানের আন্তর্জাতিক ভাবে একঘরে করা ঠিক হবে না.