আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সভাপতিত্বে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রশাসন প্রধানদের শীর্ষবৈঠক শুরু হতে চলেছে. এই আলোচনা কার্যকরী ভাবে ও কোন রকমের চাঞ্চল্যকর বা চমক সৃষ্টি না করেই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে. রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রকমেরই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে. এই বৈঠকে সেই সমস্ত ঐতিহ্য অনুযায়ী আলোচ্য বিষয়, যেমন আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অপরাধ মোকাবিলার ব্যবস্থা ছাড়াও সমস্ত প্রশ্ন নিয়েই আলোচনা করা হবে, যা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও মজবুত করতে পারে.

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বিগত দশ বছরের মধ্যে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্তানের এক বেসরকারি জোট থেকে বেড়ে এক সংস্থায় পরিনত হয়েছে, যা এর সদস্য দেশ গুলির জাতীয় রাজনীতির মধ্যে যোগাযোগ রেখে কাজ করায় সাহায্য করেছে. এখানে যৌথ ভাবে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থার কাঠামো তৈরী করা সম্ভব হয়েছে, খুবই দ্রুত চলেছে সমাকলনের প্রক্রিয়া, নিয়মিত ভাবে চলছে সম্মিলিত সামরিক মহড়া এবং বিভিন্ন কাঠামোর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা. আর যা এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা হল, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতি বর্তমানে আগ্রহের বেশী প্রকাশ করেছে অন্যান্য দেশও, তার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশ গুলিও. বিশেষ করে এখন, যখন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রভাবের আবর্তে পড়তে পারে আফগানিস্তান, আর তার সঙ্গে তুরস্কও, যারা সম্ভবতঃ, বর্তমানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাজে পর্যবেক্ষক হয়ে কাজের অনুমতি পেতেই পারে.

    তাই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে যে কোনও বৈঠকই সব সময়েই থাকছে মনোযোগের কেন্দ্রে, এই কথা উল্লেখ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার যুব সভার প্রথম সভাপতি দেনিস ক্রাভচেঙ্কো বলেছেন:

    "আমরা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আশা করছি. প্রাথমিক ভাবে তা হওয়া উচিত্ বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে. কিন্তু প্রচলিত বিষয় গুলি, যা এখানে অবশ্যই আলোচিত হতে চলেছে (আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান মোকাবিলা), সেই গুলি  ছাড়া এখানে মুখ্য বিষয় হতে পারে আন্তর্জাতিক সঙ্কটের আসন্ন ঢেউয়ের মোকাবিলা. তাছাড়া এবারে সময় হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির প্রশ্ন নিয়েও আলোচনার. এই প্রশ্ন আস্তানায় দেশ গুলির প্রধানদের বৈঠকের সময়ে তোলা হয়েছিল. সুতরাং, এই প্রশ্ন সদস্য দেশগুলির প্রশাসনের প্রধানেরাও সেন্ট পিটার্সবার্গে সম্ভবতঃ আলোচনা করবেন, তাছাড়া সম্ভবতঃ কথা হতে পারে এই সংস্থায় ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সদস্য হওয়ার কথাও হতে পারে, আরও হতে পারে তুরস্কের আলোচনায় সহকর্মী পদ প্রস্তাব নিয়ে".

    তাও এই শীর্ষ বৈঠকের প্রধান বিষয় হবে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে মতামত বিনিময়. ভুলে গেলে চলবে না যে, সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে শুধু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির প্রধানেরাই বৈঠক করবেন না. তাদের মধ্যে তিনটি দেশ – এঁরা ব্রিস সংস্থার প্রধান অংশীদার, আর রাশিয়া ও চিন আবার অর্থনৈতিক ভাবে বড় কুড়ি দেশের জোটের অংশীদারও বটে, এই প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদ আলেক্সেই ভ্লাসভ বলেছেন:

    "চিনের ভূমিকা বর্তমানের বিশ্ব অর্থনীতিতে খুবই বড়. অনেকেই আশা ও আশঙ্কা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন, কি ভাবে চিনের অর্থনীতি সেই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া করে, যা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হয়ে চলেছে".

    এই সভার বৈঠকের মধ্যেই সেন্ট পিটার্সবার্গে পরিকল্পনা রয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বেশ কিছু বিদেশী প্রতিনিধি দলের প্রধানদের সঙ্গে. অংশতঃ চিন প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সভার প্রধানমন্ত্রী ভেন জিয়াবাও ও ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানির সঙ্গে.

    এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, উত্তরের রাজধানীতে বর্তমানের সাক্ষাত্কারে বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর হবে. অংশতঃ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যদের আন্তর্ব্যাঙ্ক জোটের আগামী সময়ের উন্নতি নিয়ে পরিকল্পনার চুক্তি ও সাংহাই সহযোগিতার মধ্যে প্রকল্প গুলির ভবিষ্যত উন্নতির জন্য কাজের তালিকা.