গ্রীসে পার্লামেন্ট সময়ের আগেই নির্বাচন করা হবে ১৯শে ফেব্রুয়ারী. এই বিষয়ে দেশের নেতৃস্থানীয় দুটি দল – ক্ষমতাসীন মধ্য বাম পন্থী পাসোক ও বিরোধী দক্ষিণ মধ্য পন্থী নতুন গণতন্ত্র সমঝোতায় এসেছে. সেই সময় পর্যন্ত দেশের প্রশাসনে নিযুক্ত হবে এক জোট মন্ত্রীসভা. কিন্তু তাতে নেতৃত্ব দেবেন গিওর্গিওস পাপানদ্রেউ নয়, যাঁর পদত্যাগ দলগুলির মধ্যে সমঝোতার একটি অন্যতম শর্ত ছিল.

প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন – এমন এক পদক্ষেপ, যা বাস্তবে তার প্রয়োজনের থেকেও বেশী করেই প্রতীকী. এটা কিছুটা সামাজিক উত্তেজনার হ্রাস করতে পারে – আর শুধু সেই টুকুই. এর চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল, নতুন প্রশাসন কি অবস্থান নেবে, এই কথা মনে করেছেন ফিন মার্কেট সংস্থার শীর্ষস্থানীয় বিশ্লেষক আন্দ্রেই লুসনিকভ, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

"বর্তমানে পরিস্থিতি খুবই অল্প নির্ভর করছে কে সরকারের প্রধান হবেন তা. আর পাপানদ্রেউ পদত্যাগ করছেন এই খবর, আমার মতে, গ্রীসের ঋণের চারপাশে যা ঘটছে, তাতে খুব কমই প্রভাব বিস্তার করবে. ভাল হয়, যদি নতুন গ্রীক প্রশাসনে এই বিশ্বাস তৈরী হয় যে, আন্তর্জাতিক সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ও একই সময়ে কিছু খরচ কমানো উচিত্ হবে, তার মধ্যে সামাজিক খরচও বটে. এটা ঘটনা ক্রমের একটি পরম্পরা. দ্বিতীয় ঘটনাক্রম – এটা যখন গ্রীস কোন সাহায্যই পাবে না. সে ক্ষেত্রে সঙ্কটের প্রসার হতেই পারে ও তা ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে. এটাই বিনিয়োগকারীরা ভয় পাচ্ছেন ও একই সঙ্গে ইউরোপের নেতৃস্থানীয় দেশের নেতারাও".

নীতিগত ভাবে গ্রীসের বিরোধী পক্ষ জোট মন্ত্রীসভা নিয়ে আলোচনার সময়ে আশ্বাস দিয়েছে গ্রীসকে সঙ্কট থেকে উদ্ধার করার পরিকল্পনাকে সমর্থন করার, যা ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে সহমতে করা হয়েছে. এই অবস্থানকে সমর্থন প্রশাসনকে অবিলম্বে করতেই হবে – দোলায়মান থাকার সময় নেই. কারণ এই দেশের দেউলিয়া হওয়ার উপরে রক্ষা কবচ পরিয়েছে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল. কিন্তু এর পরের অর্থ সাহায্য ততদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, যতদিন না বিনিয়োগকারীরা গ্রীসের কাছ থেকে তাদের পরবর্তী কাজকর্ম নিয়ে স্পষ্ট সঙ্কেত পাচ্ছেন. এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ইউরোপ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ ভ্লাদিস্লাভ বেলভ বলেছেন:

"কোন অন্য পথও নেই. যদি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য এক সার প্রস্তাব পেশ না করা হয়, তবে গ্রীসের অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে. ঋণ শোধ কিছু দিয়েই করা যাবে না. সত্যই দেউলিয়া হবে. এই বিষয়ে কেউই বর্তমানে আগ্রহী নয়. অন্ততঃ পাপানদ্রেউ যে গণ ভোট আহ্বান করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্কের সময়েই দেখা গিয়েছে দেশের রাজনৈতিক শক্তি গুলির যথেষ্ট পরিমানে সাধারন জ্ঞান রয়েছে নিজেদের শক্তিকে একত্র করে দেশকে রাজনৈতিক ভাবে সংশোধন করে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য. এই খবর যত না গ্রীসের জন্য, তার চেয়েও বেশী ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জন্য ইতিবাচক. এখানেই গণ ভোট ঘোষণার পরে পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনার, যা শেষ হতে পারতো নেতিবাচক ফলে ও ইউরোপীয় এলাকা থেকে গ্রীসের বহির্গমনে".

কারোরই সন্দেহ নেই যে, দেশের মানুষের কাছে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর ব্যয় সঙ্কোচ করার প্রচেষ্টা জনপ্রিয় হবে না. সামাজিক প্রতিবাদ ও ধর্মঘট চলবে. বেকারের সংখ্যা বাড়বে. কি করে আসন্ন সংশোধনের প্রতি জনতার নেতিবাচক মনোভাবকে যথাসম্ভব কম করা যায় ও একই সঙ্গে ইউরোপীয় সঙ্ঘকে ব্যবস্থা গুলির যথার্থতা ও যথেষ্ট হওয়া নিয়ে ভরসা দেওয়া যায়, তা নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভাকেই বের করতে হবে. নিজেদের পরিকল্পনা গুলি – যত না অর্থনৈতিক ভাবে, তার চেয়েও বেশী কূটনৈতিক ভাবে – আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁদের বের করে দেখাতে হবে. সোমবারে ব্রাসেলস শহরে গ্রীসের অর্থমন্ত্রী ইভানগেলোস ভেনিজেলোস, যাঁর নাম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকায় রয়েছে, ইউরোপীয় দলের প্রতিনিধিদের কাছে ব্যাখ্যা করবেন, কি করে এথেন্স ব্যয় সঙ্কোচ করার জন্য তৈরী হচ্ছে.