১৯৪১ সালের ৭ নভেম্বর তত্কালিন হিটলার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে রওনা হওয়ার পূর্বে মস্কোতে সোভিয়েত সেনাদের কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।ওই কুঁচকাওয়াজ যা রাজধানীর বীরশক্তিকে মূলত ফুটিয়ে তুলেছিল।ওই কুঁচকাওয়াজ থেকেই সৈন্যরা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,৭ নভেম্বরই জার্মানির সৈন্যরা মস্কো দখল করার পরিকল্পনা করেছিল।যদিও ১৬ ডিসেম্বর থেকেও লোকেমুখে সংবাদ প্রচার হয় যে,স্টালিন ও তার সহযোগিরা ইতিমধ্যে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।এটি ছিল অবশ্য মিথ্যা তথ্য।

সামরিক কুঁচকাওয়াজ যা আর্মির সৈন্যদের আত্বার কষ্টকে বিজয়ে রুপ দিয়েছে।ওই সময় উচ্চ আর্মির দলপতি রেড স্কায়ারের দর্শক সারি থেকে তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘যে যুদ্ধ আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সেই যুদ্ধ হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য,সেই যুদ্ধ হচ্ছে নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য।এই যুদ্ধ হোক আমাদের বীর যোদ্ধাদের প্রতিক।যেমনঃআলেকসান্দ্রার নেভস্কি,দিমিত্রি দনস্কি,কুজমিন মিনিন,দিমিত্রি পাজারস্কি,আলেকসান্দ্রার সুভারোভ ও মিখাইল কুতোজোভ প্রমুখ।আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে।শত্রুরা ধ্বংস হবে।বিজয় হবে আমাদেরই’।

ওই সময় বিশ্বে মস্কোর কুঁচকাওয়াজ ছাড়া অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছিল না।

এদিকে ঐতিহাসিক ওই কুচঁকাওয়াজের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার সকালে মস্কো সময় ১০টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত রেড স্কায়ারে জাঁকজমক সামরিক কুঁচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।১৯৪১ সালে কুঁচকাওয়াজে সৈন্যরা যে পোশাক পরিধান করেছিল ঠিক ওই পোশাক পড়েই সৈন্যরা কুঁচকাওয়াজে অংশ নিবেন।এছাড়া রেড স্কায়ারে সামরিক সাঁজোয়া যান প্রদর্শিত হবে যা ১৯৪১ সালে যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।এ বিষয় বলছেন সামরিক জাদুঘরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মারিনা ইয়াউরি.তিনি বলছেন, ‘ঐতিহাসিক কুঁচকাওয়াজের পুনরাবৃত্তি করার এই পরিকল্পনা জানুয়ারি মাসে নেয়া হয়।মস্কোকে রক্ষা করার জন্য যে সব সামরিক যান ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলোকে বিগত ১০ মাসে ধরে সংস্কার  করা হয়েছে।কুঁচকায়াজের জন্য আমাদের জাদুঘর হালকা আকারের টাং টি-৬০ ও টি-৩৭ প্রস্তুত করেছে।এই যন্ত্র খুবই হালকা এমনকি উড়ন্ত প্রকৃতির।কার্যকারিতার দিক দিয়ে খুবই বিশেষ বৈশিষ্ট বহন করে।এছাড়া জাদুঘরের পক্ষথেকে এম-৭২ মটরসাইকেল ও গাজ-৬৭ মার্কার মটরগাড়ি প্রদর্শিত হবে।টি-৬০ মার্কার টাং ১৯৪১ সালের পর এই প্রথম আবারও রেড স্কায়ারে চলতে যাচ্ছে।বিশ্বে এ ধরনের টাং রয়েছে মাত্র ৬টি এবং টি-৩৭ টাং এর সংখ্যা আরও কম’।

জাঁকজমক কুঁচকাওয়াজের পর ২য় বিশ্ব যুদ্ধে অংশ নেয়া সামরিক যানবাহনগুলো ভাসিলোবস্কি নামক স্থানে রাখা হবে।যে কেউ ইচ্ছা করলেই ওই সব যানবাহনগুলোর কাছাকাছি দাড়িয়ে দেখতে পারবেন এবং কিছুটা হয়ত অনুধাবনও করতে  পারবেন কেমন ছিল ১৯৪১ সালে মস্কোর ওই সামরিক কুঁজকাওয়াজ।