ইউরোপ আত্বার দিক দিয়ে সন্তুষ্টি থাকতে পারে।হয়তবা কিছুটা সময়ের জন্য।গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রু শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে টিকে গেলেন।তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপক অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।গ্রীস একই সাথে ঋণ মওকুফ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত গনভোট আয়োজন করার সিদ্ধান্তে রাজি হয় নি।

সত্যিকার অর্থেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রীসের সরকারের অভ্যন্তরে বিভক্তির সূত্রপাত ঘটাল।পার্লামেন্টের অনেক সদস্যই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পাপান্দ্রুর অনেক সমালোচনা করেছেন এবং ইউরো ব্যাবহাকারী দেশ হওয়ায় গনভোট আয়োজনের প্রস্তাব পাঠায়।এদিকে গ্রীসকে ঋণ দিয়ে সাহায্যকারী শীর্ষ দেশ ফ্রান্স ও জার্মানি নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।এই দুটি দেশই গ্রীসের গনভোটের প্রস্তাব জানায়।ফ্রান্সের কানে সদ্য সমাপ্ত হওয়া জি-২০ সম্মেলনে পাপান্দ্রুর সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বলা হয়,গ্রীসে গনভোট অনুষ্ঠিত হবে; নয় নতুন করে ঋণ দেয়া হবে না।এদিকে গনভোট আয়োজনের প্রস্তাবকে বাতিল করা যা অনেকে পূর্বেই ধারনা করতে পেরেছেন।এমনটি বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ভাসেলি কালতাশভ।তিনি বলছেন, ‘এই ঘটনার উন্নয়নের ২টি ভিন্ন ধাপ ছিল।গ্রীসে অকারেই গনভোট অনুষ্ঠানের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল।এছাড়া গ্রীসের সরকার গনভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মূলত দেখতে চেয়েছে যে জনগন কিভাবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়।সত্যিই এই বিষয়টি ছিল অনেক জটিল চিত্রপট।তবে অবশেষে সরকার ওই গনভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।তাছাড়া মন্ত্রীসভায় যারা রয়েছেন তাদের পক্ষে নতুন সমস্যা তৈরি করার কোন অর্থ নেই।গ্রীসের জনগন যখন বিক্ষোভ করেছেন তখনও তারা বলেছেন যে,রাজনীতির প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিবেন’।

আমাদের বিশেষজ্ঞ বলছেন,গ্রীসের অর্ধক ঋণ পরিশোধের বিষয়টি যা দেশের বাংকগুলোকে দেউলিয়া করারই সমতুল্য।তবে,তা শুধুমাত্র হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে।এই প্রশ্ন যা গনভোটের সাথে কোনই যোগসূত্র নেই কিন্তু উত্থাপিত হয়েছে শুধুমাত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর  প্রস্তাবের কারণে।বিশেষকরে জার্মানি ও ফ্রান্সের কারণে।

যদিও দেশটির সংসদে আস্থা ভোটে গনভোট বাতিল করার সুযোগ এলেও বর্তমান সরকারের ভবিষ্যত এখনও অনিশ্চিত।বিরোধীদল পাপান্দ্রুর পদত্যাগ দাবী করছে এবং অতিদ্রুত গনভোট চাচ্ছে।গ্রীস প্রধানমন্ত্রী সংয় নিজেই বলেছেন,নিজের আসন ধরে রাখছেন না।এর অর্থ হচ্ছে,বিরোধীদলের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে সরকার গঠনের ওই ঘোষণাও আপাতত আলোর মুখ দেখছে না।গ্রীসের অর্থনৈতিক সংকট যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য আরও অনেক চমক হয়ত অপেক্ষা করছে।