১৯৯৫ সালের পর থেকে, যখন থেকে ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে, তারপরে এই প্রথম দুই পক্ষই খোলাখুলি ভাবে সামরিক ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রসার নিয়ে ঘোষণা করেছে. ভিয়েতনাম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চিকিত্সা ও ওষুধের বিষয়ে এক সহযোগিতার চুক্তি করেছে. এটা দুটি পরম প্রতিপক্ষের সক্রিয় নৈকট্যের প্রমাণ.

    জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধ জাহাজের দল দুই স্কোয়াড্রন মাইন বাহক ও ত্রাণ কারী গাধা বোট সমেত ভিয়েতনামে গিয়েছিল মৈত্রী সফরে. দুই দেশের যুদ্ধ জাহাজ গুলিই একত্রে মহড়া করেছে. কিন্তু তাদের চুক্তিই প্রথম দলিল হয়েছে, যা দুই দেশের সামরিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত.

    আগ্রহের বিষয় হল যে, এই ব্যাপারে ভিয়েতনামের মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত চর্চা, যা আগেও একাধিকবার হোয়াইট হাউসের ঘোষণার কারণ হয়েছে, তা বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি. পুরনো রাগই শুধু ভুলে যাওয়া হয় নি. দুই পক্ষেরই সম্ভব হয়েছে অনুভূতি প্রবণ মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলি থেকে এই ক্ষেত্রে চোখ সরিয়ে নেওয়ারও. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, হ্যানয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগী করে তোলার বিষয় হয়েছে চিনের সঙ্গে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের দ্বীপের দখল নিয়ে বিতর্ক, যেখানে বড় পরিমানে খনিজ তেল ও অন্যান্য ধাতু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে. প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার জাহাজ চলাচলের স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়েও বিতর্কের তীক্ষ্ণতার ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়.

    এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থানকে শক্ত করার জন্য ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষা বজায় রাখার জন্য ভিয়েতনামের নেতৃত্ব খুবই সক্রিয় ভাবে নতুন জোট খুঁজছে. ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে. হ্যানয় ভারতের রকেট বাহী জাহাজ গুলিকে তাদের বন্দর নহতরঙ্গ ও হালং এ ঢুকতে দিয়েছে. উত্তর হিসাবে ভারত ভিয়েতনামকে তাদের নৌবাহিনীর জন্য জাহাজ তৈরী করে দেওয়ার বিষয়ে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে ও নৌবাহিনীর সেনা প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করেছে. ভারত মনে করেছে যে, এই অঞ্চলে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে, যেখানে চিনও চাইছে প্রভাব বিস্তার করতে, তারা নিজেদের অবস্থানের ঘোষণা করবে.

    চিনকে বেঁধে রাখার ইচ্ছা রয়েছে ওয়াশিংটনেরও, এই কথা মনে করে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ, রুশ স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের প্রধান রুসলান পুখভ বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময়ে নিজেরাই টের পেয়েছে, ভিয়েতনামের সামরিক বাহিনী ও তাদের যুদ্ধের মনোভাব কি ধরনের. তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে খুবই আগ্রহের হয়েছিল, ঠাণ্ডা যুদ্ধের যুগ শেষ হওয়ার পরে ভিয়েতনামকে নিজেদের সহযোগী হিসাবে পাওয়ার. ভিয়েতনামের লোকেরা সাবধান ভাবে এই ধরনের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল. কিন্তু চিনের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা যেমন অর্থনৈতিক, তেমনই সামরিক ক্ষেত্রে, তাদের বিমান বাহী জাহাজ নির্মাণের জন্য উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, ভিয়েতনামের লোকেদের আরও বেশী করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে".

    বিশেষজ্ঞদের মতে নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন প্রাথমিক কাজের তালিকা কিন্তু রুশী ভিয়েতনাম সম্পর্ককে নষ্ট করে নি, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের জায়গা ভিয়েতনামের লোকেদের হৃদয়ে অন্ততঃ আগামী ১৫ – ২০ বছর ধরে রয়ে যাবে, তা কেউ নিতে পারবে না. তার প্রমাণ হল, বিগত দুই আড়াই বছর ধরে অস্ত্র সরবরাহের জন্য চুক্তি গুলি, যা ভিয়েতনাম আমাদের সঙ্গে করেছে".

    ২০১৪ সালেই ভিয়েতনামে রুশ কিলো শ্রেণীর ডুবোজাহাজ পাঠানো শুরু হবে. আগামী বছর গুলিতে রাশিয়া একই সঙ্গে ভিয়েতনামকে এক সার যুদ্ধ বিমান পাঠাবে.

    সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফুঙ কুয়াঙ থানের কথা মতো, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ভিয়েতনাম কিনছে একমাত্র নিজেদের নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্য নিয়েই. আমরা কাউকে ভয় দেখাতে চাই না, কোন রকমের অন্যের জমিতে অনুপ্রবেশ বা দখলের ইচ্ছা আমাদের নেই – মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন. প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে এলাকা নিয়ে বিতর্ক ঘিরে তাঁর বক্তব্য হস, এই সবই হ্যানয় চায় একেবারেই শান্তিপূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা. এটা সত্য যে, ভিয়েতনামের নেতৃত্ব যে ডুবোজাহাজ বা নৌবাহিনীর যুদ্ধ বিমান যোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের সামরিক বাহিনীতে, সেই পরিকল্পনাতে এই শান্তির পথে আলোচনার ইচ্ছা কিন্তু কোন প্রভাব ফেলে নি. রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য সামরিক যুক্তিটি আগের মতই যে বিশাল প্রভাবশালী, তা হ্যানয়ে স্বীকার করা হয়েছে.