ইয়ারোস্লাভল শহরে ইয়াক – ৪২ বিমান ভেঙে পড়ার তদন্তে প্রকাশ করা হয়েছে যে, মানুষই এই দূর্ঘটনার মূল কারণ, যন্ত্র নয়. ইয়ারোস্লাভল শহরের হকি দল লোকোমোটিভ শুদ্ধু ইয়াক – ৪২ বিমান ওড়ার পরেই ভেঙে পড়া নিয়ে অনুসন্ধান কাজে রত পরিষদ তাদের তদন্তে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কারণ হিসাবে আন্তর্প্রশাসনিক বিমান পরিবহন পরিষদের সিদ্ধান্ত গুলি লক্ষ্য করবে, কিন্তু কারও দোষ বলে অভিযোগ তোলার আগে তদন্তের সমস্ত বিষয়গুলিকেও খেয়াল করে তবেই কোন শেষ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে. এই বিষয়ে ইতার- তাস সংস্থাকে আজ রাশিয়ার তদন্ত পরিষদের সরকারি মুখপাত্র ভ্লাদিমির মার্কিন জানিয়েছেন. বেঁচে গিয়েছেন শুধু বোর্ড ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার সিজভ.

    আন্তর্প্রশাসনিক বিমান পরিবহন পরিষদের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, উড়ানের সময়ে ভুল করে ব্রেক প্যাডেলে চাপ দেওয়াতে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে. বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত করেছেন যে, বিমানটি উড়ানের সময়ে ছিল যান্ত্রিক ত্রুটি বিহীণ, উড়ানের সময় আকাশ ছিল মেঘমুক্ত ও হাওয়া অনুকূল. কিছু সংবাদ মাধ্যমে লেখা হয়েছিল যে, পাইলটদের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাদের জোর করে ওঠা নামার জন্য রানওয়ে থেকে তাড়ানো হয়েছিল, কারণ তখন নাকি অপেক্ষা করা হচ্ছিল সেই সময়ে ইয়ারোস্লাভলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ফোরামের উচ্চ স্তরের অতিথিদের জন্য. পরিষদ পাইলটদের উপরে চাপের কোন প্রমাণ পায় নি.এই সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ভাবে পাইলটদের মধ্যে ও উড়ান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মধ্যে সমস্ত কথাবার্তার টেপ শুনে ও সার্বিক ভাবে তদন্তের মাধ্যমে উড়ানের প্রতিটি মুহূর্ত আবার করে তৈরী করে দেখে সিদ্ধান্তে আসতে পারা গিয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্প্রশাসনিক প্রযুক্তি পরিষদের প্রধান আলেক্সেই মরোজভ বলেছেন:

    "আমরা বিশেষ করে দেখিয়েছি এই উড়ানের পুনর্নির্মিত রূপ, একেবারে উড়ানের পূর্ব মুহূর্তে পাইলটদের নির্দেশ দেওয়ার সময় থেকে. কোনও রকমের তাড়াহুড়ো, কোন রকমের চাপ, তার মধ্যে উড়ান নিয়ন্ত্রণ দলের পক্ষ থেকেও কোন নির্দেশ পাইলটদের আলাদা করে দেওয়া হয় নি. চালকেরা বিমানের এঞ্জিন গরম করেছেন ৬ মিনিট ধরে, নিয়মানুযায়ী তাই করার কথা. আবারও বিশেষ করে উল্লেখ করবো যে, উড়ান হয়েছিল রুটিন মাফিক, এই সময়ে অন্য কোনও বিমানের ওঠা বা নামার কথা ছিল না".

    মরোজভের কথামতো, চালকেরা এই দূর্ঘটনা এড়াতে পারতেন, যদি সময় মতো না ওড়ার সিদ্ধান্ত নিতেন. এটা পরীক্ষা করা দেখা গিয়েছে. পরীক্ষা করতে গিয়ে পাইলটেরা দেখেছেন যে, এই বিপর্যয় গ্রস্ত উড়ান ব্রেক প্যাডেলে চাপ না দিলে ঠিকই হতো. একই সঙ্গে পরীক্ষার সময়ে বিমানের ওড়ার সময়ে ছয়বার আলাদা করে ওড়া ও থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে রানওয়ে দিয়ে দৌড়নোর সময়েই. এই কথা উল্লেখ করে ফার্স্ট ক্লাস পাইলট পরীক্ষা কর্মী ভাসিলি সেভাস্তিয়ানভ বলেছেন:

    "যদি অভিশপ্ত বিমানের পাইলটেরা থামানোর চেষ্টা না করতেন, তবে বিমান সহজেই উড়তে পারতো. দূর্ঘটনা গ্রস্ত বিমানটিতে ওড়ার পূর্ব মুহূর্তে সব সময়েই বিমানের কম্যাণ্ডার ও দ্বিতীয় পাইলটের পা ছিল ব্রেক প্যাডেলের জায়গাতেই. এটা ইয়াক – ৪০ বিমানে ওড়ার বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফল, যে অভিজ্ঞতা ছিল নিহত দুই পাইলটের বেশী, ইয়াক – ৪২ বিমানের চেয়ে".

    পরীক্ষা মূলক উড়ানের পরীক্ষা প্রমাণ করে দিয়েছে গণিতের সাহায্য নিয়ে মডেল করার ফল. বিদেশের বিশেষজ্ঞরাও এই পরীক্ষার ও তদন্তের কাজ খেয়ালে রেখেছেন ও এই পরিষদের রিপোর্টকেই সমর্থন করেছেন. এখন এই ফল দেওয়া আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে, যেখানে এই সম্বন্ধে খুঁটিয়ে আলোচনা করা হবে.

    আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রযুক্তি গত তদন্ত পরিষদ শুধু দূর্ঘটনার কারণ নিরুপণ করে. তদন্ত পরিষদ স্থির করবে কে বা কারা কতটা দোষী.

"ইয়ারোস্লাভল শহরের উপকণ্ঠে ভেঙে পড়া ইয়াক – ৪২ বিমান নিয়ে তদন্ত চালু রয়েছে. ফৌজদারী অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই অনেক কাজ করা সম্ভব হয়েছে. নির্দেশ দিয়ে শেষ করা হয়েছে প্রায় ৫০ রকমের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা, বিভিন্ন স্তরের ২০০ জনেরও বেশী দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মী ও সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, ৪৫ জনকে এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বলে স্বীকার করা হয়েছে" – জানিয়েছেন ভ্লাদিমির মার্কিন.

    এরই মধ্যে, তাঁর কথামতো, "এখনও সমস্ত রকমের তদন্তের পরীক্ষা শেষ হয় নি ও বেশ কিছু প্রযুক্তিগত ও আদালতের নির্দেশ মতো পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় নি. এখানে খুঁটিয়ে দেখা বাকী রয়েছে এই বিমান পরিবহন কোম্পানীর কাজকর্ম, যাদের সম্পত্তি ছিল এই বিমান, আর সমস্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য সংস্থার কাজও".

    তদন্ত পরিষদ একই সঙ্গে অপেক্ষা করছে আন্তর্প্রশাসনিক বিমান পরিবহন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে পাঠানো রিপোর্টের, যা এই মামলার বিষয় বস্তুর সঙ্গে জোড়া হবে ও মনোযোগ দিয়ে দেখা হবে.

    "আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের রিপোর্ট ফৌজদারী মামলার তদন্তে লক্ষ্য করা হবে, অন্য সমস্ত দলিল ও জিনিসের সঙ্গেই, যা এই মামলার নিষ্পত্তির কাজে লাগতে পারে. সমস্ত কারণ ও পরিস্থিতির বিচার করে, কেন এই বিমান দূর্ঘটনা ঘটেছে ও তা কাদের জন্য হয়েছে ও কারা এর জন্য সম্যক্ শাস্তি পাবে, তাও সঠিক ভাবে স্থির করা হবে".