ওয়াশিংটন থেকে আফগানিস্তান নিয়ে নতুন স্ট্র্যাটেজির কথা ঘোষণা ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্কের "ত্রিপাক্ষিক" শীর্ষ বৈঠকের ঠিক আগেই করা হল. এখন থেকে আমেরিকার লোকেরা সরাসরি তালিবদের সঙ্গে আলোচনা করবে, খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট সংবাদপত্র, উত্স হিসাবে উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার প্রশাসনের সরকারি মুখপাত্রের. পাকিস্তান, তুরস্ক ও আফগানিস্তানের প্রধান তিন জনের ইস্তাম্বুলে সাক্ষাত্কার যদিও প্রমাণ করেছে যে, ইসলামাবাদ ও কাবুল আমেরিকার লোকেদের মতো এই রকমের আশাবাদে মোটেও বিশ্বাসী নয়. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    আসিফ আলি জারদারী ও হামিদ কারজাই আফগানিস্তানে নতুন আমেরিকার স্ট্র্যাটেজির খুবই কড়া সমালোচনা করেছেন. প্রথমতঃ, সেই কারণে যে, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই বহু দিন ধরে চেষ্টা করছে তালিবদের সাথে আলোচনা করার, তার মধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্কের লোকেরাও রয়েছে. আর দ্বিতীয়তঃ, কারজাইয়ের এই ক্ষেত্রে নিজেরই খুব দুঃখের অভিজ্ঞতা রয়েছে. কাবুলের তরফ থেকে মধ্য পন্থী তালিবদের সাথে আলোচনার সমস্ত প্রচেষ্টা এর আগে শেষ হয়েছে শান্তি আলোচনা সভার উচ্চতম কক্ষের প্রধান ও দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বুরখানুদ্দিন রব্বানীর হত্যা দিয়ে. "আমরা তালিবদের সঙ্গে কথাবার্তা শুধু তার পরেই শুরু করতে পারি, যখন তাদের ঠিকানা খুঁজে পাবো", – ঘোষণা করেছেন কারজাই ইস্তাম্বুলের সাংবাদিক সম্মেলনে. অর্থাত্, তখন সঠিক করে জানতে পারবো, কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে.

    ওয়াশিংটনের সরকারি ভাবে বলা আশাবাদে আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির ভেটেরান ও প্রাক্তন রাষ্ট্র সচিব হেনরি কিসিঞ্জার নিজেকে মানাতে পারছেন না. উড্রো উইলসন সেন্টারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান নিয়ে নতুন স্ট্র্যাটেজি কে বলেছেন ভুল. তাঁর কথামতো, তালিবদের সঙ্গে যে কোন ধরনের যোগাযোগ "হওয়া উচিত্ বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক আলোচনার মধ্যেই". এই প্রসঙ্গে আমেরিকার কূটনীতি জগতের ধর্ম গুরু স্বীকার করেছেন যে, "এই ধরনের যুদ্ধের মতো যুদ্ধ থেকে, বেরোতে পারা, খুবই জটিল".

    ওয়াশিংটন তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে ও আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করতে চেয়ে বুঝতে পরেছে যে, তালিবদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে যে কোন ভাবেই, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "আমেরিকার লোকেরা তালিবদের সঙ্গে এই দেশ থেকে সক্রিয় ভাবে সৈন্য প্রত্যাহারের আগে সমঝোতায় আসার প্রয়াসে কিছুই বাকী রাখছে না. এর জন্য ওয়াশিংটনের প্রয়োজন অন্ততঃ কিছু তথাকথিত মধ্য পন্থী তালিবদের সঙ্গে আলোচনা করার, কিন্তু এদের আফগানিস্তানে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর. যদিও আলাদা করে কিছু চরমপন্থী দলের লোক কারজাই সরকারের সঙ্গে, আমেরিকার লোকেদের সঙ্গে ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে আগে দেখাও করেছিল, তাও এই ধরনের যোগাযোগ আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে কোন বদলই করতে পারে নি. সশস্ত্র যুদ্ধ ও বিরোধ চলছেই".

    ইস্তাম্বুলের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ইতিবাচক ফল হয়েছে যে, রব্বানীর হত্যা নিয়ে সম্মিলিত ভাবে অনুসন্ধান করা হবে ঠিক হয়েছে ও বেশ কিছু সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে অংশতঃ রয়েছে সম্মিলিত ভাবে সামরিক মহড়া. কিন্তু ইস্তাম্বুলের বৈঠকের প্রধান কাজ ছিল – আফগানিস্তানে শান্তিপূর্ণ ভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রয়াস – তার কোনও সমাধান হয় নি. এবারে এই নিয়ে আফগানিস্তান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পরিষদের অংশগ্রহণকারীরা কাজ করবে, যা আজ থেকে ইস্তাম্বুলে শুরু হয়েছে, কিন্তু তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন যোগ দেন নি.