রাশিয়া বিশ্ব সমাজের কাছে প্রস্তাব করেছে বিশ্ব তথ্য নিরাপত্তা রীতিনীতি গ্রহণ করার. মস্কো নিজের উদ্যোগ সাইবার এলাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে. এই ধরনের প্রথম আলোচনা সভা হতে চলেছে লন্ডনে. বিশ্বের ৬০টি দেশ থেকে গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানীতে এসেছেন সাতশোরও বেশী প্রতিনিধি.

    এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা গ্রেট ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর. ফরেন অফিসে যে রকম উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আলোচনা সভা সাইবার এলাকার তিন প্রধান ক্রীড়নক – প্রশাসন, ব্যবসা ও নাগরিক সমাজের দৃষ্টিকোণকে এই এলাকার মূল সমস্যা গুলির প্রতি নিকটস্থ করতে সাহায্য করবে. একই সঙ্গে এই সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা কোনও নির্দিষ্ট  দায়িত্ব নিয়ে দলিল গ্রহণের প্রশ্ন নিজেদের সামনে উপস্থাপন করেন নি.

    রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব করছেন রুশ টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ইগর শ্যেগলেভ. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ একাধিকবার বিশ্ব সমাজকে সতর্ক করে দিয়েছেন সাইবার বিপদের সম্মিলিত মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. আর সেপ্টেম্বর মাসে মস্কো একই সঙ্গে সাইবার এলাকায় নীতি নিয়ে দুটি ধারণা জনসমক্ষে এনেছে. প্রথম দলিল আহ্বান করেছে সেই সমস্ত তথ্য সম্প্রচার বন্ধ করার জন্য সংগ্রামের, যা "সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, চরমপন্থা প্রচার করে অথবা অন্য দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে". আর দ্বিতীয় দলিলে ইন্টারনেটে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে সামরিক- রাজনৈতিক, অপরাধ ও সন্ত্রাসের কথা ভেবে নিয়মের কথা লেখা হয়েছে. মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, এই ধরনের নিয়ম নীতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্তরেই নেওয়া দরকার, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ইন্টারনেট – বিশেষজ্ঞা ইকাতেরিনা আকসিওনভা বলেছেন:

    "এই কনভেনশনের আওতায় তথ্য প্রযুক্তি শত্রুতার কাজকর্মে বা আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করা হলে, তাকে বাস্তবে সামরিক কাজকর্ম বলেই মানা হবে. তাতে আহ্বান করা হয়েছে অন্য দেশের সাইবার এলাকায় অনুপ্রবেশ না করার কথা, এক দেশের পক্ষ থেকে অন্য দেশে তার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ব্যবস্থা নষ্ট করার প্রয়াস না করা. আর একই সঙ্গে অন্য দেশের এলাকায় তথ্য নিয়ে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ব্যবহার করা বন্ধ করা".

    সাইবার এলাকা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বিশেষ করেই তীক্ষ্ণ হয়েছে. আরব বসন্তের সময়ে যখন সেই দেশের জঙ্গীরা ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের কাজকর্মের বিষয়ে যোগাযোগ করেছিল, সেই উদাহরণই দেওয়াই এই সম্বন্ধে যথেষ্ট. কিন্তু এখানে রাজনীতির প্রশ্নও আসে ইন্টারনেটের এই ধরনের ব্যবহার এক ধরনের দেশকে উদ্বিগ্ন করেছে আর অন্যদের তাতে কিছুই যায় আসে না. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন বিশেষ করে মনোযোগ দিতে চেয়েছে কপিরাইট বজায় রাখার জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে.

    সব মিলিয়ে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে সাইবার অপরাধের প্রধান উত্স হল চিন ও রাশিয়া. এই ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তর্ক করা যেতেই পারে: বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা থেকেও হ্যাকারদের আক্রমণ চিন – রাশিয়ার সাইবার এলাকার থেকে কিছু কম হয় না. তা স্বত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আর, অবশ্যই, তাদের সঙ্গে জোটা লন্ডন) বিশ্বকে নিজেদের সাইবার আক্রমণ মোকাবিলার ধারণা চাপিয়ে দিতে চাইছে. যার প্রধান মতলব, সাধারণতঃ যা হয়ে থাকে, নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখা. আর কিছু পদ্ধতি, যা পশ্চিমের দৃষ্টিকোণ থেকে আগে মনে করা হতো মেনে নেওয়া যায় না, তা আরও বেশী করে হয়ে উঠছে প্রত্যহের বিষয়, এই কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মাসালোভিচ বলেছেন:

     "সাইবার এলাকায় স্ক্রু টাইট করার জন্য আমেরিকার প্রয়াস রাশিয়া ও চিনকে ছাপিয়ে গিয়েছে. একই সময়ে এই প্রচারের যুদ্ধে ইন্টারনেটে তর্কের উদয় হয়েছে, যা সাধারন নিয়মের ব্যতিক্রম. যেমন, সিরিয়াতে গণ্ডগোল নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে উত্তেজনা তৈরীর জন্য ইন্টারনেটে আমেরিকার লোকেরা বাহরিন দেশের ছবি ঝোলাচ্ছে, বলছে সেটা সিরিয়া থেকে. অর্থাত্ এখানে আইনের দিক থেকে এই ধরনের কাজ কারবারের জন্য নানা ধরনের লোকেদের কাছে অভিযোগ দাখিলের জায়গা রয়েছে. রাশিয়ার ঠিকানায় প্রসঙ্গতঃ এই ধরনের অভিযোগ খুব কমই করা যেতে পারে".

    মস্কোর দৃষ্টিকোণ থেকে লন্ডনের ফোরামের অংশগ্রহণকারীদের যা বলার দরকার, তা রাশিয়ার এই দেশের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো বলেছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হল তথাকথিত শত্রু মনোভাবাপন্ন হয়ে টেলি যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার. তার লক্ষ্য হতে পারে সরকারি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণের, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ও সামাজিক পরিকাঠামো. রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেছেন যে, এখনও আন্তর্জাতিক ভাবে তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না. কিন্তু আশা রয়েছে যে, লন্ডনের সম্মেলন এই ক্ষেত্রে ছোট হলেও সঠিক দিকে একটি পদক্ষেপ হবে.