এথেন্সের অর্থনৈতিক সমস্যা এবারে রাজনৈতিক সমস্যায় পরিনত হয়েছে. গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এক গণ ভোটে প্রশ্ন রাখতে চাইছেন: দেশের ঋণের সমস্যার সমাধানে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পরিকল্পনা গ্রহণ করা ঠিক হবে কি না. দেশের মন্ত্রীসভা গিওর্গিওস পাপানদ্রেউর অবস্থান সমর্থন করেছে. বিরোধী পক্ষ দাবী করেছে তাঁর অব্যবহিত পদত্যাগের. ইউরোপের রাজধানী গুলিতে এই খবর চমকে দিয়েছে.

এথেন্সকে রক্ষা করার ব্রাসেলসের পরিকল্পনা যন্ত্রণার মধ্যেই জন্ম নিয়েছে – গত সপ্তাহে ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির নেতাদের গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা করতে হয়েছে, যাতে একটা সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয়. ফলে স্থির হয়েছে গ্রীসের জাতীয় ঋণের অর্ধেক মাপ করে দেওয়া হবে. এটা ১০ হাজার কোটি ইউরো. তার প্রত্যুত্তরে শর্ত – এই দেশের পক্ষ থেকে কঠোর ভাবে ব্যয় সঙ্কোচের ব্যবস্থা. আর এই বারে, ইউরোপীয় অঞ্চলের সমস্ত প্রতিবেশীকে যন্ত্রণা দেওয়া পরে, পাপানদ্রেউ স্থির করেছেন এই প্রস্তাব সন্দেহ করার – এই ধরনের "উপহার" নেওয়া ঠিক হবে কি না. অর্থাত্ চিরন্তন ভাবে ধর্মঘটে ব্যস্ত গ্রীক দের প্রস্তাব করেছেন এই খুবই দুর্ভর ও জনতার অপ্রিয় প্রস্তাবকে সমর্থন করার. সাধারন জনতা অপেক্ষায় রয়েছেন মাইনে ও পেনশনের টাকা নগদে পেতে, কাজের জায়গা তৈরীর. এরই মধ্যে নিজেদের ভোট দিয়ে তাঁরা সারা ইউরোপীয় এলাকার ভাগ্যও নির্ধারণ করতে পারেন. যদি গণ ভোটে এথেন্সকে দেওয়া সাহায্যের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে দেশ অবশ্যম্ভাবী ভাবে দেউলিয়া হতে চলেছে.

গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী এই গণ ভোট সম্বন্ধে নিকোল্যা সারকোজি বা অ্যাঞ্জেলা মেরকেল কে আগে থেকে কিছুই বলেন নি, এমনকি নিজের দেশের অর্থ মন্ত্রীকেও নয়. ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এই আচমকা ঘোষণায় নিজের বিস্ময় গোপন না করেই ঘোষণা করেছেন যে, গ্রীসকে সাহায্য করার কোনও বিকল্প নেই, তিনি বলেছেন:

"ফ্রান্স মনে করিয়ে দিচ্ছে যে পরিকল্পনা, যা ১৭টি ইউরোপীয় অঞ্চলের সদস্য দেশের সম্মতি ক্রমে হয়েছে, তা গ্রীসের ঋণ সমস্যা সমাধানের একমাত্র সম্ভাব্য পথ. জনগণকে বলতে দেওয়া – সব সময়েই আইন সঙ্গত সিদ্ধান্ত. কিন্তু ইউরো অঞ্চলের সমস্ত দেশের সহমত পাওয়া প্রতিটি সদস্যের নিজস্ব শক্তি প্রয়োগ ব্যতীত সম্ভব নয়".

আজ গ্রীসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জার্মানী ও ফ্রান্সের নেতৃত্ব, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধানেরা এক জরুরী আলোচনা করবেন. তাঁরা ওনার কাছ থেকে দাবী করবেন – প্রাথমিক ভাবে  - ব্যাখ্যার. এই সাক্ষাত্কারের আয়োজন করা হয়েছে আরও এই কারণে যাতে বিশ্বের শেয়ার বাজার গুলি খানিকটা শান্ত হতে পারে. এই গুলিতে মঙ্গলবারে ধ্বস নেমেছে সম্ভাব্য গণ ভোটের খবরে. এই ঝটকা আরও গভীর হয়েছে খনিজ তেলের দাম ও সোনার দামও কমে যাওয়ায়. তারই মধ্যে এই দুটি দ্রব্য শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা না থাকার সময়েও খালি দামে বাড়ছিল. প্রথমে স্থির করা হয়েছিল যে, জনতার অভিমত জানা হবে জানুয়ারি মাসে. কিন্তু বিশ্বের স্টক মার্কেটে নতুন ঝড়ের আশঙ্কায় এথেন্স থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই গণ ভোট যত দ্রুত সম্ভব করা হবে.

পাপানদ্রেউর প্রস্তাব গ্রীসের বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল পাসোকে বিভাজন ঘটিয়েছে. এই দলের ছয় জন প্রভাবশালী সদস্য তাঁদের প্রধানমন্ত্রীকেই আহ্বান করেছেন পদত্যাগ করতে. আরও একজন দল ত্যাগ কেই বেরিয়ে গিয়েছেন – তার ফলে দেশের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটের আগে পাসোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোট কম পড়তে চলেছে. যদিও পাপানদ্রেউর দলের দেশের পার্লামেন্টে এখনও অধিকাংশ সদস্য, তবুও পরিস্থিতি যথেষ্ট টলমল করছে – ১৫২ জন সরকার পক্ষের ভোট দেওয়ার মতো, যেখানে বিরোধী পক্ষে ভোট দিতে তৈরী ১৪৮ জন. পার্লামেন্টের বহু সদস্যই – তার মধ্যে শুধু বিরোধী পক্ষের লোকেরাই নন – মনে করেন যে, ব্রাসেলসের প্রস্তাবকে গণ ভোটের বিষয় করা হলে দেশের ইউরোপীয় সঙ্ঘের সদস্য থাকার জন্যই তা বিপজ্জনক হতে পারে. আর তারাই আহ্বান করেছেন দেশে সময়ের আগেই পার্লামেন্ট নির্বাচনের.