রাশিয়া ও চিন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বেশী করে মজবুত করার পক্ষে, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংযোগে নয়. মস্কো ও বেইজিং চেয়েছে ভারত ও পাকিস্তানকে এই সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য হিসাবে দেখতে, আফগানিস্তানকে – পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে ও তুরস্ককে আলোচনায় সহকর্মী দেশ হিসাবে দেখতে. এই বিষয়ে রাজনৈতিক পরামর্শের পরে ঘোষণা করা হয়েছে. মস্কো শহরে ৭ই নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির নেতৃত্ব পর্যায়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ সম্মেলনের পূর্বে আয়োজিত বৈঠক হয়েছে.

    ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান, খুবই সম্ভবতঃ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার অন্য দুই পর্যবেক্ষক দেশ ইরান ও মঙ্গোলিয়ার আগেই সম্পূর্ণ সদস্য পদ পেতে চলেছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থান, তাজিকিস্থান, কিরগিজিয়া ও উজবেকিস্থান. মস্কো বেইজিং এর সমর্থন পেয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচেষ্টা করছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার স্বীকার ও প্রভাব বৃদ্ধির, এটিকে এই এলাকায় ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের বিপরীত শক্তি হিসাবেই দেখে. এই ভাবেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আস্তানা শহরের ২০০৫ সালের শীর্ষবৈঠকের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে এই এলাকা থেকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি তুলে নিয়ে যাওয়ার সম্বন্ধে নির্দিষ্ট করে শেষ দিন উল্লেখ করতে আহ্বান জানিয়েছিল. যাতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রভাব সেই সমস্ত জোটের প্রভাবের সমান হতে পারে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধান বক্তব্যের সুর দিয়ে থাকে, প্রাথমিক ভাবে ন্যাটো জোটের ক্ষেত্রে, রাশিয়া ও চিন বহুবার উদ্যোগ নিয়েছে এই এলাকায় বড় মাপের সামরিক মহড়া করার. প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা একটি সামরিক সংস্থা নয়, আর এই সমস্ত মহড়াতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংগ্রামের মহড়াই করা হয়েছে.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পক্ষ থেকে বহু দিন ধরেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ঢুকতে চেয়েছে. ২০০২ সালেই তা করা হয়েছিল, কিন্তু বুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এই প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়েছিল. আমেরিকার কূটনীতি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য পদের জন্য দুটি প্রারম্ভিক নিয়মই মেনে নিতে তৈরী আছে, তা যেমন পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে, তেমনই আলোচনার সহকর্মী দেশ হিসাবেও, যেমন, শ্রীলঙ্কা ও বেলোরাশিয়া. এরই মধ্যে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগেই আলোচনার সহকর্মী দেশ হতে পারবে. এই বিষয়ে রাশিয়া ও চিন গতকালের পরামর্শের পরেই ঘোষণা করেছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কিছুই বলে নি. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা সিনিতসিনা তাঁর পূর্বাভাস নিয়ে খুবই সাবধান হয়ে কথা বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সর্বত্রই নিজেদের স্বার্থের এলাকা তৈরী করতে চাইছে. তাই খুবই স্বাভাবিক যে, তারা যে কোন ভাবেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় ঢুকে পড়তে চাইছে. যদি তারা একবার এর মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে, তবে তা হলে একটি ধ্বংসাত্মক মৌল. তারা এলাকার পরিস্থিতিতে এই সংস্থার মধ্য দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, এমনকি সারা বিশ্বেও. কারণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশীর প্রতিনিধিত্ব করছে, যদি সমস্ত আলোচনার সহকর্মী দেশ ও পর্যবেক্ষক দেশ গুলিকে যোগ করা হয়. এটা খুবই বড় সংস্থা, যারা দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে. তারা প্রস্তাব করেছে সম্মান জনক ভাবে সমানাধিকারের মাধ্যমে সহযোগিতার, একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে চলার. আর কবেই বা আমেরিকার লোকেরা এই নীতি নিয়ে কাজ করেছে? তাদের জন্য এই ধরনের কাঠামো অচল. তারা শ্রদ্ধা করে একমাত্র কাঠামো – নিজেদের প্রাধান্য".

    বিশেষজ্ঞরা বাদ দেন নি যে, কোন একটা অধ্যায়ে হয়তো রাশিয়া ও চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে তৈরী হবে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যেই. বিশেষ কোন গোপন খবর আমেরিকার লোকেরা তাতে জেনে যাবে না, কিন্তু তারা এই সংস্থার সম্মান বাড়াতেই পারে. কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ উল্লেখ করে আমেরিকার লোকেরা প্রস্তাব করেছে যে, প্রাথমিক ভাবে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে. আর মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির জন্য ওয়াশিংটন এই বিষয়ে সবচেয়ে ভাল আলোচনার সহকর্মী নয়.

    এরই মধ্যে, ফলপ্রসূ রাজনীতি তহবিলের জেনেরাল ডিরেক্টর কিরিল তানায়েভের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় সম্পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবে প্রবেশ করার ফল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগ দেওয়ার চেয়েও অনেক বেশী হতে পারে, তিনি বলেছেন:

    "সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা খুবই বেশী রকমের সম্ভাবনা রেখেছে এই দশকে ইউরো এশিয়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক কাঠামোতে পরিনত হওয়ার ও এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ গুলির স্বার্থ নিয়ে সহমতে পৌঁছনোর. অবশ্যই আমেরিকার লোকেদের এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভাবেই স্পষ্ট ও সব মিলিয়ে বোধগম্য স্বার্থ রয়েছে. অন্য দিক থেকে, রাশিয়ার ও চিনের ইচ্ছায় সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রসারিত করা, প্রাথমিক ভাবে ভারতবর্ষ ও পাকিস্তানের সংযোজনের মাধ্যমে, অবশ্যই মুহূর্ত কালের মধ্যে এই সংস্থাকে একটি অন্য গুণে উন্নত করতে পারবে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় এই সমস্ত দেশের আগমনে তা বিশ্বের প্রভাব শালী সংস্থায় পরিনত হবে, যাদের মতামতের সঙ্গে না মানিয়ে চলা আর চলবে না".

    এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, ৭ই নভেম্বরেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে এই ছয় দেশের সংস্থাকে আট দেশের সংস্থা হিসাবে ঘোষণা করা হতে পারে. আর তারই সঙ্গে আফগানিস্তানের পর্যবেক্ষক ও তুরস্কের আলোচনার সহকর্মী দেশ বলেও ঘোষণা হতে পারে.