পাকিস্তান স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো "হাত্ফ- ৭ বাবুর" নামের ডানাওয়ালা রকেটের সফল পরীক্ষা করেছে. এই বিষয়ে সংবাদ দিয়েছে দেশের সরকারি উত্স উল্লেখ করে পাকিস্তানের দুন- নিউজ টেলিভিশন চ্যানেল. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ডানাওয়ালা রকেট এটি এক বিশেষ শ্রেনীর রকেট. "হাত্ফ – ৭" রাডারের জন্য কমই লক্ষ্য উপযুক্ত, খুবই নীচু দিয়ে উড়ে যেতে পারে ও জায়গার উঁচু নীচু অংশের অনুকরণে ওড়ার পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম আর খুবই নিখুঁত ভাবে ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে. রকেট বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসের বোমা বয়ে নিয়ে যেতে পারে, তার মধ্যে পারমানবিক অস্ত্রও থাকতে পারে. রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো মনে করেন যে, পাকিস্তানের পক্ষে এই ধরনের ডানাওয়ালা রকেট তৈরী করা এক দক্ষিণ এশিয়ার দেশের পক্ষে উল্লেখ যোগ্য সাফল্য. তিনি বলেছেন:

    "কোন সন্দেহ নেই যে, ডানাওয়ালা রকেট তৈরী করা – পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ. শুধু বর্তমানের খুবই কম রাষ্ট্র এই ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবায়িত করতে পারে. পাকিস্তান প্রকল্প করে তৈরী করেছে পারমানবিক অস্ত্র. আজ সেই দেশ সম্পূর্ণ মূল্যের পারমানবিক ত্রি মুখী অস্ত্র তৈরীর সামনে দাঁড়িয়ে, যার মধ্যে থাকতে পারে রকেট বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর অংশ".

    পাকিস্তান নিজেদের ডানাওয়ালা রকেট পরীক্ষা করেছে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতবর্ষের তিনটি ব্যালিস্টিক রকেটের পরীক্ষা সফল হওয়ার পরে. সেই সব গুলিই পারমানবিক বোমা বহব করে নিয়ে যেতে পারে. ৩০শে সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা বাহিনী পরীক্ষা করেছে ব্যালিস্টিক রকেট "অগ্নি – ২". ২৬শে সেপ্টেম্বর পরীক্ষা হয়েছে "পৃত্থী- ২" ব্যালিস্টিক রকেট আর তার দুই দিন আগে পরীক্ষা সফল করা হয়েছে ব্যালিস্টিক রকেট "শৌর্যের".

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান আলেক্সেই আরবাতভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, এই দুই দক্ষিণ এশিয়ার দেশের মধ্যে রকেট ও পারমানবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা খালি বেড়েই চলেছে. তিনি বলেছেন:

    "যদি ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের সূচকে ভাবা হয়, তবে বিশ্বের একমাত্র এই অঞ্চলেই চলছে সত্যিকারের পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা. এটা দক্ষিণ এশিয়া আর সেখানে ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান. যদি এদের একটি দেশও কিছু একটা পরীক্ষা করে, তখনই অন্যটিও সেই ধরনের পরীক্ষা করে থাকে. ফলে দুই দেশই নিজেদের পারমানবিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে. ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে যখন দুই দেশই এক সারি পারমানবিক পরীক্ষা করেছিল, তখন থেকে আজ অবধি তারা যথেষ্ট পরিমানে পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার তৈরী করেছে. বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী, দুই দেশেরই সংগ্রহে রয়েছে ১০০ থেকে ১২০টি পারমানবিক বোমা, বিভিন্ন দূরত্বে উড়ে যেতে পারে এমন ব্যালিস্টিক ও ডানাওয়ালা রকেট.

    পাকিস্তান নিজেদের ডানাওয়ালা রকেট তৈরী করছে কারণ, তারা এই কারণে উদ্বিগ্ন যে, ভারত নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করছে ও এই বিষয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করছে. খুবই সম্ভব যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও কোন না কোন ভাবে ভারতকে সাহায্য করতে পারে".

    এই দেশ গুলির জন্য রকেট পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে প্রতিযোগিতা খুবই ভয়ঙ্কর হতে পারে. ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে তিনবার যুদ্ধ করেছে. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রয়েছে সমাধান না হওয়া এলাকা নিয়ে সমস্যা. কাশ্মীর প্রসঙ্গে আজ পঞ্চাশ বছরের ও বেশী সময়ে ধরে হরকত হয়ে রয়েছে. এই দুই দেশের সীমানা অঞ্চলে রয়েছে উত্তেজনা জমা হয়ে, মাঝে মাঝেই উদ্ভব হয়েছে সশস্ত্র সংঘর্ষ. সাবধান করে দেওয়ার জন্য পারমানবিক আঘাত হানার জন্য দুই দেশের মধ্যেই উসকানি দেওয়ার লোক অনেক. সুতরাং বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে রকেট – পারমানবিক বিরোধ শুরু হওয়ার জন্য.