প্যালেস্টাইন ইউনেস্কো সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য পদ পেয়েছে. এই প্রস্তাবের সমর্থনে সংস্থার প্যারিস শহরের সাধারন সভায় বেশীর ভাগ সদস্যই সমর্থন করেছেন. বিপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন ১৪টি দেশ, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল.

সোমবার যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে বলা যেতে পারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় যদি আলোচনার বিষয় হিসাবে প্যালেস্টাইনের সম্পূর্ণ সদস্য হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, তবে যা ঘটতে চলেছে, তার এক মহড়া.

ইউনেস্কো সংস্থার সাধারন সভায় রাশিয়ার প্রতিনিধি বিদেশ দপ্তরের উপ মন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ যেমন ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার জন্য প্যালেস্টাইনকে দেশ হিসাবে মেনে নেওয়ার কোন অসুবিধা নেই. আর ইউনেস্কো সংস্থায় প্যালেস্টাইনের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে দেখা উচিত্ কোন রকমের রাজনীতি বা উত্তেজনা ছড়ানোর প্রচেষ্টা না করেই.

ইউনেস্কো সংস্থার সভায় প্যালেস্টাইনের আবেদনের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল চেষ্টা করেছিল বাকি সদস্যদের ভয় দেখাতে. ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে যে, তারা ইউনেস্কোর জন্য অর্থ দেওয়া বন্ধ করবে. আর এটা সংস্থার বাজেটের শতকরা ২২ শতাংশ. কিন্তু এটাও ১০৭টি দেশের অবস্থানের কোন পরিবর্তন করতে সক্ষম হয় নি, যারা প্যালেস্টাইনের সদস্য পদ পাওয়ার সমর্থনে ভোট দিয়েছেন. ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তর ইউনেস্কো সংস্থাকে অর্থ সহায়তা দান বন্ধ করছে বলে ঘোষণা করেছে. ইজরায়েল আরও দূরে যেতে তৈরী. স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম যেমন জানিয়েছে যে, ইজরায়েলের মন্ত্রী সভা প্যালেস্টাইনের নেতৃত্বের সদস্যদের ভি আই পি তালিকা থেকে বাদ দেবে বলে স্থির করেছে, যা থাকার কারণে তাঁরা ইজরায়েলের সীমানা চৌকি পেরিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারতেন. তাছাড়া, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে – এই স্বয়ং শাসিত অঞ্চলে কর ও শুল্ক, যা ইজরায়েল এতদিন প্যালেস্টাইনের জন্য আদায় করেছে, তা দিয়ে দেওয়া বন্ধ করবে, আর তারই সঙ্গে প্যালেস্টাইনের জমিতে আরও বেশী করে ইহুদী বসতি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল শক্ত ভাবেই তাদের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মতে প্যালেস্টাইনের জন্য যে কোন ধরনের জন পরিচিতি স্বীকার আলোচনার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে. কিন্তু এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ, আলোচনা প্রক্রিয়ার বিষয়ে বেশী জোর দিয়ে, কেন জানি না উল্লেখ করতে ভুলে যাচ্ছে যে, তা আজ এক বছরেরও বেশী সময় ধরে থেমে রয়েছে. আর এটা এই কারণেই হয়েছে যে, ইজরায়েল প্যালেস্টাইনের অধিকৃত এলাকায় বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে রাজী হচ্ছে না ও ১৯৬৭ সালের স্বীকৃত সীমানায় ফিরে যেতে অস্বীকার করছে. এই কারণেই প্যালেস্তিনীয়রা রাষ্ট্রসঙ্ঘে তাদের সদস্য হিসাবে গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে দাবী জানিয়েছে.

অবশ্যই প্যালেস্তিনীয়দের আন্তর্জাতিক সংস্থায় সদস্য হওয়ার লক্ষ্য আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে পাশাপাশি চলা উচিত্. আর তার জন্য সমস্ত কিছুই করা দরকার যাতে এই প্রক্রিয়া আবার করে চালু হয়, আর ভয় বা হুমকি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থার উপরে প্রভাব খাটানো যায় না, যা পুরনো অভ্যাসে ওয়াশিংটন চালিয়ে যাচ্ছে.